করোনার কারণে বিশ্বের ৮০ ভাগ দেশে ভ্রমণ না করার পরামর্শ দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দফতর। গণমাধ্যমে পাঠানো নতুন ভ্রমণ নির্দেশিকায় পররাষ্ট্রদপ্তর বলেছে, এই মহামারী ভ্রমণকারীদের জন্য নজিরবিহীন ঝুঁকি সৃষ্টি করেছে। এ ঝুঁকির কথা মাথায় রেখেই মার্কিন নাগরিকদের বিদেশে ভ্রমণের বিষয়টি ভেবে দেখার পরামর্শ দেয়া হচ্ছে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের খবরে বলা হয়, বিশ্বের প্রায় ২০০টি দেশের মধ্যে মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আগেই ৩৪টি দেশকে ‘লেভেল-৪: ডো নট ট্রাভেল’–এর তালিকাভুক্ত করেছে। এর মধ্যে চাদ, কসোভো, কেনিয়া, ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা, হাইতি, মোজাম্বিক, রাশিয়া ও তানজানিয়া রয়েছে। নতুন পরামর্শের ফলে এ তালিকায় আরো ১৩০টি দেশ অন্তর্ভুক্ত হতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, কিছু কিছু দেশের ক্ষেত্রে বর্তমান স্বাস্থ্য পরিস্থিতির কথা নতুনভাবে বিবেচনায় না নিয়ে বরং বিদ্যমান মহামারি নিয়ে সেন্টারস ফর ডিজিজ কন্ট্রোল (সিডিসি) অ্যান্ড প্রিভেনশনস–এর মূল্যায়নের ওপর ভিত্তি করে এটি করা হয়েছে।

কোভিড-১৯ নিষেধাজ্ঞার কারণে এখন বেশির ভাগ আমেরিকান ইউরোপে খুব বেশি ভ্রমণ করতে পারেন না। ইউরোপের বেশির ভাগ দেশ এবং চীন, ব্রাজিল, ইরান ও দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে নিজ দেশের নাগরিক ছাড়া কাউকে আসতে দিচ্ছে না ওয়াশিংটন। কবে নাগাদ এ নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা হবে, সে বিষয়ে হোয়াইট হাউস কিছু বলেনি।

সিডিসি এই মাসের শুরুর দিকে বলেছিল, যারা ইতিমধ্যে টিকার দুটি ডোজই নিয়েছেন, তারা যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরে নিরাপদে ভ্রমণ করতে পারেন। তাদের ঝুঁকি কম। কিন্তু সিডিসির পরিচালক রোচলে ওয়ালেনস্কি দেশটির নাগরিকদের এটা করতে নিরুৎসাহিত করেছেন। কেননা, পুরো দেশে এখন সংক্রমণ দ্রুতগতিতে ছড়াচ্ছে।

ওয়ালেনস্কি ২ এপ্রিল বলেছিলেন, ‘আমরা জানি ঠিক এখন করোনার সংক্রমণের ঢেউ চলছে। আমি এই পরিস্থিতিতে ভ্রমণ না করার পক্ষে।’

করোনাভাইরাসের সংক্রমণে ইতিমধ্যে বিশ্বে ৩০ লাখের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে সর্বোচ্চ ৫ লাখ ৮১ হাজার মানুষ মারা গেছেন। দ্বিতীয় স্থানে থাকা ব্রাজিলে মৃতের সংখ্যা ৩ লাখ ৭৫ হাজার। বিশ্বজুড়ে করোনার টিকা কর্মসূচি চলমান অবস্থায় এখন ‘সর্বোচ্চ সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ছে’ বলে সতর্ক করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।