ভাঙচুরের মামলায় গ্রেপ্তার হেফাজতে ইসলামের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা মামুনুল হকের ৭ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।

সোমবার (১৯ এপিল) দুপুরে ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট দেবদাস চন্দ্র অধিকারীর আদালত এ আদেশ দেন। এর আগে বেলা ১১টা ৯ মিনিটে মামুনুল হককে আদালতে হাজির করে মোহাম্মদপুর থানা পুলিশ।

মোহাম্মদপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সাজেদুল হক আদালতে মামুনুল হকের ৭ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন।

আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে ঢাকা মহানগর পাবলিক প্রসিকিউটর আব্দুল্লাহ আবু, সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর আজাদ রহমান, হেমায়েত উদ্দিন খানসহ কয়েকজন ৭ দিনেরই রিমান্ড মঞ্জুরের প্রার্থনা করেন। আসামির পক্ষে সৈয়দ জয়নুল আবেদীন মেজবাসহ কয়েকজন আইনজীবী রিমান্ড বাতিল চেয়ে জামিন আবেদন করেন।

উভয়পক্ষের শুনানি শেষে আদালত জামিন নামঞ্জুর করে রিমান্ডের আদেশ দেন। এরপর বেলা ১১টা ৪২ মিনিটের দিকে মামুনুল হককে আদালত থেকে নিয়ে যাওয়া হয়।

এর আগে রোববার (১৮ এপ্রিল) দুপুরে মোহাম্মদপুরের জামিয়া রাহমানিয়া আরাবিয়া মাদ্রাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এরপর তাকে নেওয়া হয় শ্যামলীতে পুলিশের তেজগাঁও বিভাগের উপকমিশনারের কার্যালয়ে। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সেখান থেকে নেওয়া হয় তেজগাঁও থানায়। সেখানে কয়েক ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদের পর রাতে মামুনুল হককে গোয়েন্দা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

পুলিশ জানিয়েছে, ২০১৩ সালের ৫ মে মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের তাণ্ডবের ঘটনাসহ মামুনুল হকের বিরুদ্ধে ১৭টি মামলা রয়েছে। এসব মামলায় তিনি এজাহারনামীয় আসামি। সম্প্রতি স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ঢাকা আসেন। তার এই সফরের বিরোধিতা করে আন্দোলনে নামে এই সংগঠন। তারা জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমসহ রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, নারায়ণগঞ্জসহ আরও বেশ কিছু এলাকায় অগ্নিসংযোগ, ভাঙচুর, লুটপাট ও নাশকতা করে। এরপর এ ঘটনার তদন্তে পাওয়া যায় মামুনুল হকের নাম।

গত ৩ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ে একটি রিসোর্টে এক নারীসহ ঘেরাও করা হয় মামুনুল হককে। একপর্যায়ে রিসোর্টে হামলা চালিয়ে তাকে ছাড়িয়ে নেন হেফাজতের কর্মীরা। সেখানে ভাঙচুর ও পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় সোনারগাঁ থানায় তিনটি মামলা হয়। একটি মামলায় আসামি করা হয় মামুনুল হককে।