নভেল করোনাভাইরাস বাতাসে ছড়াতে পারে বলে মেডিকেল জার্নাল ল্যানসেটের একটি পর্যালোচনায় জানানো হয়েছে। অন্যদিকে কভিড-১৯ আসলেই বায়ুবাহিত রোগ কি না, তা এখনো নিশ্চিত হতে পারেনি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।

ডব্লিউএইচওর ওয়েবসাইটে লেখা আছে, এ বিষয়ে নিশ্চিত হতে বিজ্ঞানীরা সক্রিয়ভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।

যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার ছয় বিশেষজ্ঞ তাদের পর্যালোচনায় জানিয়েছেন, জনস্বাস্থ্য সংস্থাগুলো যদি বায়ুবাহিত ভাইরাস হিসেবে এটিকে চিহ্নিত করে ব্যবস্থা না নেয়, তবে মানুষকে সুরক্ষিত রাখা সম্ভব না। ভাইরাসটি আরও ছড়িয়ে পড়বে।

ওই ছয় বিশেষজ্ঞের একজন কোঅপারেটিভ ইনস্টিটিউশন ফর রিসার্চের রসায়নবিদ ও কোলোরাডো বোল্ডার বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক জোস-লুইস জিমনেজ বলেন, ‘এটি যে বায়ুবাহিত রোগ তার পক্ষে দৃঢ় প্রমাণ পাওয়া গেছে। সে তুলনায় বড় আকারের ড্রপলেটের মাধ্যমে সংক্রমণের প্রমাণ অনেক কম।’

করোনা যে বায়ুবাহিত রোগ হতে পারে সে বিষয়ে ২০২০ সালের জুলাই থেকে আলোচনা শুরু হয়। ওই সময় ২৩৯ জন বিজ্ঞানী বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাকে চিঠি লিখে জানান, নতুন রোগটিকে বায়ুবাহিত ঘোষণা দিয়ে গাইডলাইন তৈরি করা দরকার।

‘এ বিষয়ে আমরা ১০০ শতাংশ নিশ্চিত,’ মন্তব্য করে অস্ট্রেলিয়ার কুইন্সল্যান্ড ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজির গবেষক লিডিয়া মোরাওস্কা গার্ডিয়ানকে তখন বলেন, ‘আমরা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাকে সতর্ক করতে খোলা চিঠি লিখছি। ৩২ দেশের ২৩৯ জন গবেষক চিঠিতে স্বাক্ষর করেছেন। ’

মহামারীর ক্ষেত্রে এই এয়ারবর্ন ট্রান্সমিশন বা বায়ুবাহিত ব্যাপারটি খুব গুরুত্বপূর্ণ। জনাকীর্ণ পরিবেশের বায়ুচলাচল ব্যবস্থা খারাপ হলে দ্রুততম সময়ে অনেক মানুষ সংক্রমিত হতে পারেন। তাই সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখলেও ঘরের ভেতরে মাস্ক প্রয়োজন হতে পারে। তখন স্কুল, নার্সিং হোম, বাসাবাড়ি এবং ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে বাতাস চলাচলের নতুন শক্তিশালী ফিল্টারের প্রয়োজন পড়তে পারে।

অতিক্ষুদ্র জলকণা যখন সুস্থ মানুষের নিশ্বাসের সঙ্গে শরীরে প্রবেশ করে, তখন তাতে ভাইরাস থাকলে ওই ব্যক্তি আক্রান্ত হতে পারেন।