লাল-সবুজের পতাকার নীচে দাঁড়িয়ে বাংলাদেশের জাতীয় সঙ্গীতে অংশ নিলেন নিউইয়র্ক সিটি মেয়র নির্বাচনে সবচেয়ে শক্তিশালী ও জনপ্রিয় প্রার্থী স্কট স্ট্রিঙ্গার। উৎফুল্ল প্রবাসীদের সাথে কণ্ঠ মিলিয়ে উচ্চারণ করলেন বহুজাতিক নিউইয়র্ক সিটিতে ক্রমান্বয়ে বাঙালিরা বিশেষ এক আসনে অধিষ্ঠিত হচ্ছেন নিজ নিজ মেধা আর নিষ্ঠার কারণে। দেড় শতাধিক ভাষাভাষীর এই সিটিতে সংখ্যাগতভাবে ষষ্ঠ বৃহত্তম জনগোষ্ঠির পর্যায়ে বাঙালিরা অবস্থান করলেও সামাজিক শান্তি আর সম্প্রীতির বন্ধনকে সুসংহত করার ক্ষেত্রে শীর্ষে উঠেছে বলেও মন্তব্য করলেন নিউইয়র্ক সিটির তৃতীয় শীর্ষ পদে থেকে মেয়র নির্বাচনে অবতীর্ণ হওয়া সিটি কম্পট্রোলার স্কট স্ট্রিঙ্গার।

রবিবার দুপুরে ডাইভার্সিটি প্লাজায় ডেমক্র্যাটিক পার্টি থেকে মেয়র পদে মনোনয়নের দৌড়ে অবতীর্ণ স্কট স্ট্রিঙ্গারকে দ্ব্যর্থহীন সমর্থন জানাতে ‘বাংলাদেশীজ ফর স্ট্রিঙ্গার’ ব্যানারে অনুষ্ঠিত ‘প্রেস ব্রিফিং’র ব্যতিক্রমধর্মী এ আয়োজনের হোস্ট ছিলেন ডেমক্র্যাট ফাহাদ সোলায়মান। গণমাধ্যম কর্মী ছাড়াও ছিলেন বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধিত্বকারি নেতৃবৃন্দ। সকলেই নিজ নিজ অবস্থান থেকে স্ট্রিঙ্গারের বিজয়ে কাজের সংকল্প ব্যক্ত করেন।

১২ প্রার্থীর মধ্যে কেন স্ট্রিঙ্গারকে প্রবাসীরা অকুণ্ঠ সমর্থন দিচ্ছে সে প্রসঙ্গে আলোকপাতকালে ফাহাদ সোলায়মান বলেন, পাবলিক স্কুলে হালাল ফুড সরবরাহের আইন তৈরী এবং অভিবাসন ইস্যুতে সবসময় সোচ্চার থাকার পাশাপাশি চলতি পথে পুলিশের অযথা হয়রানি বন্ধে বলিষ্ঠ ভূমিকা পালন করায় বিশ্বের রাজধানী খ্যাত এই সিটির মেয়র হিসেবে স্কটই আমাদের প্রথম পছন্দ। এছাড়া, পবিত্র রমজানে ইফতার মাহফিল ছাড়াও স্বাধীনতা দিবসে অনুষ্ঠানের আয়োজন করছেন প্রায় প্রতি বছরই। তার ওপর ভরসা রাখা যায় দ্বিধাহীন চিত্তে। এ সময় সকলে স্লোগান ধরেন স্কটের বিজয়ে।
রিপাবলিকান গিয়াস আহমেদও স্কট স্ট্রিঙ্গারকে মুসলমানদের বিশ্বস্ত বন্ধু হিসেবে অভিহিত করে বলেন, ‘ব্ল্যাক লাইভস ম্যাটার’র মত ‘মুসলিম লাইভসও ম্যাটার’। বর্তমান এশিয়ান বিরোধী যে আক্রমণ চলছে, তা প্রতিরোধে স্কটের মত মেয়রের বিকল্প নেই।’

স্কটকে বিজয়ী করার আহবানে আরো বক্তব্য দেন বাংলাদেশ সোসাইটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রহিম হাওলাদার। তিনি বলেন, স্কটের বিজয়ে ঘরে ঘরে যাবো ভোট প্রার্থনায়।

বাংলাদেশীদের বাণিজ্যিক রাজধানী হিসেবে পরিচিত জ্যাকসন হাইটসে পার্কিং সমস্যার সমাধানসহ পথচারিদের নিরাপত্তা এবং ধর্মীয় অনুষ্ঠানাদি নির্বিঘ্নে পালনের জন্যে বিশেষ ব্যবস্থা অবলম্বনের অঙ্গিকার করেন স্কট স্ট্রিঙ্গার। বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী উপলক্ষে প্রবাসীদের অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, বাঙালি সংস্কৃতি হচ্ছে সভ্য সমাজে অন্যতম একটি জনপ্রিয় বিষয়। নিউইয়র্ক সিটির জনজীবনকে বৈচিত্রমন্ডিত করতে বাংলাদেশীরা যে ভূমিকা রাখছেন তা ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।