নিউইয়র্কস্থ বাংলাদেশ ও ভারতের কনস্যুলেট জেনারেল এর যৌথ অংশগ্রহণে ১৭ মার্চ বুধবার নিউজার্সির আনন্দ মন্দির প্রাঙ্গনে ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু” স্লোগানে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ১০১তম জন্মদিন এবং ‘মুজিববর্ষ’ উদযাপিত হয়।

অনুষ্ঠানের শুরুতে কনসাল জেনারেল সাদিয়া ফয়জুননেসা এবং ভারতের কনসাল জেনারেল রনধীর জশওয়াল যৌথভাবে জাতির পিতার প্রতিকৃতিতে পুস্পস্তবক অর্পণ করেন। এরপর বাংলাদেশ, ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় সংগীত পরিবেশন করা হয়। অনুষ্ঠানে জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষ্যে তাঁর স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বাংলাদেশ ও ভারতের কনসাল জেনারেল আনন্দ মন্দির প্রাঙ্গনে যৌথভাবে একটি চেরী ফুলের গাছ রোপন করেন।

১৭ মার্চ-কে একটি ঐতিহাসিক দিন হিসেবে অভিহিত করে কনসাল জেনারেল সাদিয়া ফয়জুননেসা তার বক্তব্যে বলেন, ১৯২০ সালের এই দিনে টুঙ্গীপাড়ায় সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্ম হয়েছিল বলেই আজ আমরা স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে এখানে উপস্থিত হতে পেরেছি। “বঙ্গবন্ধু” ও ”বাংলাদেশ” আজ সমার্থক এবং একে অপরের পরিপূরক উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিশ্বের নিপীড়িত ও নির্যাতিত মানুষের অধিকার আদায়ে বঙ্গবন্ধুর অবিচল সংগ্রাম ও মানবদরদী নেতৃত্ব তাঁকে “বিশ্ববন্ধু”-তে পরিণত করেছে।
কনসাল জেনারেল বলেন, ২০২১ সালে জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকী এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর এই আনন্দঘন মুহূর্তে জাতিসংঘ বাংলাদেশকে স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণের চূড়ান্ত সুপারিশ করেছে যা আমাদের সকলের জন্য অত্যন্ত গৌরবের বিষয়। নিউইয়র্ক টাইমস-এ সম্প্রতি প্রকাশিত প্রতিবেদনে যুক্তরাষ্ট্রের দারিদ্র দূরীকরণে বাংলাদেশকে অনুসরণ করার পরামর্শ অথবা ওয়ালস্ট্রিট জার্নালে বাংলাদেশকে দক্ষিণ এশিয়ার “ইকোনোমিক বুল” হিসেবে অভিহিত করার বিষয় সমূহ বঙ্গবন্ধুর এই শুভ জন্মদিনে বাংলাদেশের আনন্দের মাত্রাকে অনেকগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে বলে কনসাল জেনারেল মন্তব্য করেন।

ভারতের কনসাল জেনারেল রনধীর জশওয়াল জাতির জনকের ১০১তম জন্ম দিবস এবং ‘মুজিববর্ষ’ উপলক্ষ্যে জাতির পিতার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। তিনি বাংলাদেশের সাম্প্রতিক আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের ভূয়সী প্রশংসা করেন।
বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত আত্মজীবনী, কারগারের রোজনামচা এবং Secret Documents of Intelligence Branch on Father of the Nation Bangabandhu Sheikh Mujibur Rahman ভলিউম ১, ২, ৩ বইসমূহ আনন্দ মন্দির কর্তৃপক্ষের নিকট হস্তান্তর করেন কনসাল জেনারেল সাদিয়া ফয়জুননেসা।

মুজিববর্ষে জাতির পিতার ১০১তম জন্মদিনের এই তাৎপর্যপূর্ণ অনুষ্ঠানটিতে করোনাজনিত স্বাস্থ্যবিধি মেনে সীমিত সংখ্যায় বাংলাদেশ ও ভারতের বিভিন্ন ব্যক্তিবর্গ, বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব উপস্থিত ছিলেন। নিউজার্সিতে বসবাসরত বাংলাদেশ এবং ভারতের শিল্পীগণ বঙ্গবন্ধু ও বাংলাদেশকে উপজীব্য করে দেশাত্ববোধক গান পরিবেশন করেন। অত্যন্ত হ্নদয়গ্রাহী ও উষ্ণ আন্তরিকতায় পরিপূর্ণ এই অনুষ্ঠানটিতে বঙ্গবন্ধুর স্মৃতি চারণকালে বাংলাদেশ ও ভারতের অতিথিবৃন্দ আবেগে আপ্লুত হয়ে পড়েন। অনুষ্ঠানে ভারত-বাংলাদেশের শীর্ষস্থানীয় কূটনীতিকরা ছাড়াও বিশিষ্টজনদের মধ্যে ছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা রাশেদ আহমেদ, বীর মুক্তিযোদ্ধা লাবলু আনসার, বিজ্ঞানী ড. সুবর্ণা খান, সমাজসংগঠক ও বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ফারুক ভূইয়া, ডা. ফারুক আজম, বিশ্ববাংলা টোয়েন্টিফোর টিভির চেয়ারম্যান আলিম খান আকাশ প্রকাশ।