এ সময় মির্জা ফখরুল আরও বলেন, ‘আজকের পত্রিকা খুললে দেখবেন যে, কার্টুনিস্ট কিশোর জেল থেকে বেরিয়ে যে বিবৃতি দিয়েছেন, সেই বিবৃতিতে বোঝা যায় যে, ভয়ংকর একটি শক্তি পেছনে থেকে, এই সরকারের আড়ালে থেকে সরকার স্ক্রিন তৈরি করেছে। সেই স্ক্রিনে থেকে যারাই এই সরকারের বিরোধিতা করছে, যারাই রাষ্ট্র প্রধানের বিরোধিতা করছে, যারাই সরকারপ্রধানের বিরোধিতা করছে, তাদের নিশ্চিহ্ন করে দেওয়ার জন্য অমানবিক নির্যাতন করছে।’

বিএনপির মহাসচিব বলেন, ‘আপনারা দেখেছেন যে, মুশতাক আহমেদকে শুধু লেখার অপরাধে আর কিশোরকে কার্টুন আঁকার অপরাধে নির্মম অত্যাচার করে ছয় মাস আটকে রাখা হয়েছে। আজ পত্রিকাতে আছে যে, কত মানুষকে, শিশুকে, কত বয়োজ্যেষ্ঠদের তুলে নিয়ে গেছে, জেলে নিয়ে গেছে শুধু সরকারের সমালোচনা করার অপরাধে।’

ফখরুল বলেন, ‘আজ স্বাধীনতার চেতনা সম্পূর্ণ ভূলুণ্ঠিত, গণতন্ত্রকে ধ্বংস করে দিয়েছে। রাষ্ট্রকে পুরোপুরিভাবে দলীয়করণ করেছে। এই রাষ্ট্রকে একটা দলীয়করণের রাষ্ট্র, একটা অকার্যকর রাষ্ট্র, একটা ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত করেছে। বাংলাদেশের আত্মাকে ধ্বংস করে দিয়েছে। গণতন্ত্র, যেটা আমাদের আত্মা, সেই আত্মাকে ধ্বংস করে দিয়েছে। এরা শুধু নিজেদের ক্ষমতা, দাম্ভিকতা আর দুর্নীতির বৃত্ত তৈরি করার জন্য গোটা জাতিকে ধ্বংস করে দিচ্ছে।

মির্জা ফখরুল আরও বলেন, ‘আমরা যারা একাত্তর সালে যুদ্ধ করেছিলাম, আমাদের এখন প্রতিনিয়ত রক্তক্ষরণ হয়। এ জন্য কি আমরা দেশটাকে স্বাধীন করেছিলাম, যেন আমার সন্তান একটা সুস্থ পরিবেশে মানুষ হতে পারবে না, আমার ভাই একটা সত্য কথা উচ্চারণ করতে পারবে না, আমার বোন নিরাপদে রাস্তায় চলাচল করতে পারবে না, আমার মা তাঁর সন্তানকে একটু ভালোভাবে দেখতে পর্যন্ত পারবেন না। আমাদের যে নতুন শিশু আসছে, সেই শিশু কোন জগতে বাস করবে, কোন জনপদে বাস করবে, যেখানে শুধু হত্যা-হিংসা-ভয়াবহতা।

বিএনপির মহাসচিব বলেন, ‘এই দেশে বারবার এ ধরনের স্বৈরাচার এসেছে। এই দেশে বার বার যেমন মগ-দস্যুরা, বর্গীরা এসেছে, পশ্চিম থেকে বৃটিশরা এসেছে, দখল করে নিয়েছে। তেমনি এ দেশেরই তরুণ দামালেরা, যুবকেরা তাদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়ে প্রয়োজনে অস্ত্র নিয়ে তাদের সরিয়ে দিয়েছে। ১৯৭১ সালে সেই অস্ত্র হাতে নিয়ে আমাদের তরুণেরা, দামাল ছেলেরা পাকিস্তান সেনাবাহিনীকে বিতাড়িত করেছে। সেই কথা মনে করে আমাদের উঠে দাঁড়াতে হবে।’

বিএনপির এই শীর্ষ নেতা বলেন, ‘আজ যদি আমাদের স্বাধীনতাকে রক্ষা করতে চাই, আমরা যদি দেশনেত্রী খালেদা জিয়া, যিনি শুধুমাত্র গণতন্ত্রের জন্য কারাবন্দি হয়ে আছেন, তাঁকে বের করে আনতে চাই, আমাদের নেতা তারেক রহমান, যাঁকে সামনে রেখে আমরা পথ এগোতে চাচ্ছি, তাঁকে যদি দেশে ফিরিয়ে আনতে চাই, আমাদের ৩৫ লাখ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা প্রত্যাহার করাতে চাই, প্রতিদিন আমাদের নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তার করছে, তাঁদের যদি জেল থেকে মুক্ত করতে চাই, তাহলে অবশ্যই আমাদের তরুণদের, যুবকদের সামনে আসতে হবে। সবসময় তরুণেরা সবকিছু পাল্টিয়ে দিয়েছে, পরিবর্তন এনেছে।’

ফখরুল বলেন, ‘আমাদের দিকে সবাই তাকিয়ে আছে। আসুন, আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধ হয়ে এই ভয়াবহ ফ্যাসিস্ট দানবকে পরাজিত করি। আমাদের বাংলাদেশকে তারা লুটে নিয়ে যাচ্ছে। হাজার হাজার কোটি টাকা লুট করে নিয়ে যাচ্ছে। এই অবস্থা থেকে রক্ষা পেতে হলে আমরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে লড়াই করে দেশের গণতন্ত্র ও স্বাধীনতা ফিরিয়ে আনি।’

বাংলাদেশ ছাত্র ফোরামের প্রধান উপদেষ্টা ব্যারিস্টার মীর হেলালের সভাপতিত্বে ও বিএনপির সহ-প্রচার সম্পাদক আমিরুল ইসলাম খান আলিমের পরিচালনায় আলোচনা সভায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, চেয়ারপারসনের বিশেষ সহকারী শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওবায়েদ, আইনবিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার কায়সার কামাল, ছাত্রদলের সভাপতি ফজলুর রহমান খোকন প্রমুখ বক্তব্য দেন।