সামরিক শাসনের প্রতিবাদে মিয়ানমারের বিভিন্ন শহরে গণতন্ত্রপন্থী বিক্ষোভকারীদের ওপর বুধবার আবার গুলি চালিয়ে কমপক্ষে ৩৮ জনকে হত্যা করেছে নিরাপত্তা বাহিনী। এ দিনটিকে রক্তক্ষয়ী দিন হিসেবে অ্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে। আটক করা হয়েছে তিন শতাধিক মানুষকে। এক মাসের চলমান বিক্ষোভে এক দিনে নিহতের সংখ্যা এটাই সর্বোচ্চ। এ তথ্য জানায় বিবিসি।

মিয়ানমারে জাতিসংঘের রাষ্ট্রদূত ক্রিস্টিন শরণার বার্জারার বলেছেন, মিয়ানমারে একটি মর্মান্তিক ফুটেজ পাওয়া গেছে। এখন পর্যন্ত ৫০ জন বিক্ষোভকারী মারা গেছেন এবং আহত হয়েছেন বহু মানুষ। মেডিকেল কর্মীদের মারধর করা হচ্ছে। ফুটেজে দেখা গেছে রাস্তায় দাঁড় করিয়ে আন্দোলনকারীকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, নিরাপত্তা বাহিনী বিক্ষোভকারীদের ওপর রাবার ও লাইভ বুলেট দিয়ে গুলি চালায়।

গত এক মাসের বিক্ষোভে ৫০ জনের বেশি মানুষকে হত্যা ও দেড় সহস্রাধিক মানুষকে আটক করেছে সেনা-পুলিশ। এদিকে বিক্ষোভরত মানুষের বিরুদ্ধে হত্যা-নিপীড়ন বন্ধে সেনা সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন ক্যাথলিক খ্রিষ্টানদের প্রধান ধর্মগুরু পোপ ফ্রান্সিস। এছাড়া বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এই দমন পীড়নের নিন্দা জানিয়ে আসছে। তবে মিয়ানমার সেনাবাহিনী এসব উপেক্ষা করে তাদের হত্যাযজ্ঞ চালিয়ে যাচ্ছে।

১ ফেব্রুয়ারি সেনাবাহিনী গণতান্ত্রিক সরকারকে হটিয়ে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা দখল করার পর প্রথমেই বিক্ষোভে ফুঁসে উঠেছিল মিয়ানমারের বৃহত্তম শহর ইয়াঙ্গুন। সেখানেই সবচেয়ে বড় বিক্ষোভ হচ্ছে। গতকাল শহরের রাস্তায় হাজারো বিক্ষোভকারী নেমে এলে তাদের ওপর গুলি চালায় সেনা-পুলিশ।

গতকাল নিরাপত্তা বাহিনী নির্বিচারে শক্তি প্রয়োগ করায় রক্তে রঞ্জিত হয়েছে সাগাইং অঞ্চলের মনিওয়া শহর। সেখানে সেনাবিরোধী বিক্ষোভে গুলি চালিয়ে কমপক্ষে সাতজনকে হত্যা করেছে পুলিশ। শহরের উত্তরাঞ্চলে সন্ধ্যার দিকে স্বয়ংক্রিয় অস্ত্র দিয়ে তাদের ওপর গুলি চালানো হয়।

একজন চিকিৎসক এএফপি নিউজ এজেন্সিকে বলেছেন, একজন বিক্ষোভকারীকে সরাসরি বুকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে এবং অপর একজন ১৯ বছর বয়সী তরুণী মাথায় গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা গেছেন।

১ ফেব্রুয়ারির সামরিক অভ্যুত্থানের পর থেকেই মিয়ানমারজুড়ে অস্থিরতা বিরাজ করছে। এতে ৫০ বছরেরও বেশি সময় ধরে সামরিক শাসনের অধীনে থাকা দেশটির গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা রুদ্ধ হয়ে গেছে।