স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণের যোগ্যতা অর্জন করায় বাংলাদেশকে অভিনন্দন জানিয়েছেন জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস। সম্প্রতি এক ভিডিও বার্তা বাংলাদেশকে এই অভিনন্দন জানান তিনি।

জাতিসংঘের মহাসচিব বলেন, ‘বাংলাদেশ পৃথিবীর স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণের যোগ্যতা অর্জন করায় আমি খুবই আনন্দিত। এই উত্তরণ স্পষ্টভাবে ইঙ্গিত দেয়, দেশটি লক্ষ-কোটি মানুষের দারিদ্র্য ও ক্ষুধামুক্তির অঙ্গীকারসহ অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং ক্রমবর্ধনশীল অর্থনীতি প্রতিষ্ঠায় কাজ করছে।’

অ্যান্তোনিও গুতেরেস আরও বলেন, ‘নারীর ক্ষমতায়ন ও শিক্ষার সুযোগ প্রসারের ক্ষেত্রে সাফল্যের জন্যেও আমি বাংলাদেশকে সাধুবাদ জানাই। উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে উত্তরণ বাংলাদেশের জন্য একটি মাইলফলক। বাংলাদেশকে মধ্যম আয়ের দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠা ও টেকসই উন্নয়ন এজেন্ডা ২০৩০ বাস্তবায়নের জন্য দূরদর্শিতা, দৃঢ় জাতীয় নেতৃত্ব ও বিচক্ষণ নীতি ও কার্যক্রম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশের উত্তোরণের এই জায়গায় জাতিসংঘের সহায়তা বজায় থাকবে।’

এর আগে গত শনিবার আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণ অবশ্যই আমাদের জন্য গর্বের ও এক ঐতিহাসিক ঘটনা। এটি এমন এক সময়ে হয়েছে যখন আমরা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী পালন করছি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, এ কৃতিত্ব সম্পূর্ণই দেশের নাগরিকদের।

প্রধানমন্ত্রী দেশে ও দেশের বাইরে অবস্থানরত সর্বস্তরের নাগরিকদের ধন্যবাদ জানান। নিজেকে দেশের একজন সেবক হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমি দেশের একজন নগণ্য সেবকমাত্র। সব কৃতিত্ব দেশের মানুষের।’

স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে বের হয়ে যাওয়ার সুপারিশ পেয়েছে বাংলাদেশ। জাতিসংঘের কমিটি ফর ডেভেলপমেন্ট পলিসি (সিডিপি) গত শুক্রবার রাতে পাঁচ দিনের বৈঠক শেষে এ সুপারিশ করেছে। সিডিপির এলডিসি–সংক্রান্ত উপ–গ্রুপের প্রধান টেফেরি টেসফাসো গত রাতে এক অনলাইন ব্রিফিংয়ে এ কথা জানিয়েছেন। তবে বাংলাদেশকে এলডিসি থেকে বের হতে ২০২৬ সাল পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।

স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীতেই স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণের চূড়ান্ত সুপারিশ পেল বাংলাদেশ। আর এই সুখবর দিতে সংবাদ সম্মেলন করছেন সরকারপ্রধান। স্বল্পোন্নত দেশের কাতারে থাকা বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণে সিডিপির সব শর্ত পূরণ করে ২০১৮ সালে। এগুলোর মধ্যে রয়েছে- মাথাপিছু আয় যেখানে হতে হয় কমপক্ষে এক হাজার ২৩০ মার্কিন ডলার—সেখানে ২০২০ সালে বাংলাদেশের মাথাপিছু আয় ছিল এক হাজার ৮২৭ ডলার। মানবসম্পদ সূচকে উন্নয়নশীল দেশ হতে ৬৬ পয়েন্টের প্রয়োজন আর বাংলাদেশের পয়েন্ট এখন ৭৫ দশমিক ৩। জাতিসংঘের আইন অনুযায়ী, কোনো দেশ পরপর দুটি ত্রিবার্ষিক পর্যালোচনায় উত্তরণের মানদণ্ড পূরণে সক্ষম হলে স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উত্তরণের চূড়ান্ত সুপারিশ পায়। নিউইয়র্কে জাতিসংঘের কমিটি ফর ডেভেলপমেন্ট পলিসি বা ইউএন-সিডিপির সভা থেকে তা ঘোষণা করা হয়। উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণের চূড়ান্ত সুপারিশ পাওয়ায় পাঁচ বছরের প্রস্তুতিকাল শেষে ২০২৬ সালে বাংলাদেশের উন্নয়নশীল দেশে আনুষ্ঠানিক উত্তরণ ঘটবে। উন্নয়নশীল দেশের কাতারে উঠলে সস্তা ঋণ পাওয়া এবং বিভিন্ন রপ্তানি সুবিধা হারাবে বাংলাদেশ। ফলে সেই সুবিধাগুলো উত্তরণের প্রস্তুতি-পর্ব চেয়েছে বাংলাদেশ।