নিউ ইয়র্কের মুক্তধারা ফাউন্ডেশনের আয়োজনে ‘মুখের ভাষা কি সাহিত্য ভাষা’ শিরোনামে রবি-সন্ধ্যার দ্বিতীয় অনুষ্ঠান শেষ হয়েছে। প্রতি মাসের শেষ রবিবার এই অনুষ্ঠানটি ভার্চুয়েলি জুমের মাধ্যমে অনুষ্ঠিত হয়।

বাংলাদেশ,কানাডা, অস্ট্রেলিয়া এবং আমেরিকায় বসবাসরত একঝাঁক কবি, সাহিত্যিক, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব এবং বিশিষ্টজনদের নিয়ে এ অনুষ্ঠান হয়। এবারের অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন- নাট্যব্যক্তিত্ব সৈয়দ হাসান ইমাম, নৃত্যশিল্পী ও অভিনেত্রী লায়লা হাসান, কথাসাহিত্যিক আনিসুল হক, নাট্যজন জামালউদ্দিন হোসেন, অধ্যাপক জিয়া উদ্দিন আহমেদ, লেখক অধ্যাপক হায়দার আলী খান, ড. নুরুন নবী, বিজ্ঞানী ও পরিবেশবিদ সুফিয়ান খন্দকার, কবি ইকবাল হাসান, কবি বিমল গুহ, আবৃত্তিকার ভাস্বর বন্দ্যোপাধ্যায়, লেখক হাসান ফেরদৌস, কথাসাহিত্যিক ফেরদৌস সাজেদিন, ভয়েস আমেরিকার সাংবাদিক ও কবি আনিস আহমেদ, কথাসাহিত্যিক সালমা বানী, লেখক মনিজা রহমান, লেখক ও জলধি প্রকাশক নাহিদা আশরাফী, লেখক খায়রুল আনাম, শিক্ষাবিদ সতী মজুমদার, ডা. ফাতেমা আহমেদ, সাংবাদিক সাখাওয়াৎ সেলিম, লেখক মনিজা রহমান, সংগঠক রানু ফেরদৌস, সংগঠক শুভ রায় এবং নিউ ইয়র্ক বাংলা বইমেলার প্রতিষ্ঠাতা ও লেখক বিশ্বজিত সাহা প্রমুখ।

এ মাসের রবি-সন্ধ্যায় ‘মুখের ভাষা সাহিত্য ভাষা’ প্রসঙ্গ নিয়ে হাসান ইমাম বলেন, ‘মুখের ভাষা লেখার ভাষা হতে পারে। তবে সেই আঞ্চলিক ভাষাটির যথাযথ প্রয়োগ জরুরি।’

লায়লা হাসান বলেন, ‘ভাষার জগাখিচুড়ি যাতে না হয় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। বিশেষ করে বাংলা এবং ইংরেজি ভাষার দুটোকেই আলাদা করে ব্যাবহার করতে হবে। বাংলা ইংরেজি মিশ্রণে ভাষার সৌন্দর্য ব্যাহত হয়।’

মুখের ভাষায় সাহিত্যের ভাষা হতে কোনো বাধা নেই বলে মন্তব্য করেন কথাসাহিত্যিক আনিসুল হক। পাশাপাশি তিনি মনে করেন, নতুন প্রজন্মকে ভাষা জোর করে চাপিয়ে দেওয়ার কোনো মানে নেই। একই কথা বলেন কথাসাহিত্যিক সালমা বাণী।

বাংলা ভাষা এখন সংকটের মুখে মন্তব্য করে কবি ইকবাল হাসান বলেন, ‘আমাদের পরবর্তী প্রজন্ম বাংলা ভুলে যাবে।’ লেখক ও সংগঠক রানু ফেরদৌস মনে করেন, নতুন প্রজন্মদের বাংলা শেখাতে হলে তা নিজ ঘর থেকেই শুরু করতে হবে। বর্তমান সময়ে বাংলা ভাষার নানা রকম গতিপ্রকৃতি নিয়ে কথা বলেন লেখক ও প্রকাশক নাহিদা আশরাফী।

ড. নুরুন নবী বলেন, ‘বাংলা ভাষায় যেসব ইংরেজি শব্দ প্রচলিত আছে সেসব শব্দ বাংলায় অনুবাদ করার দরকার নেই। তাতে করে ভাষা আরও দুর্বোধ্য হয়ে উঠবে।’

কবি ও ভয়েস আমেরিকার সাংবাদিক আনিস আহমেদ বলেন, ‘ভাষার সঠিক ব্যবহার খুব জরুরি, সঠিকভাবে বাংলা ভাষার পরিচর্যা করা উচিত।’

অধ্যাপক হায়দার আলী খান বাংলা ভাষার শুদ্ধতা রক্ষার পাশাপাশি ইংরেজি ভাষায়ও সমানভাবে এগিয়ে যাওয়ার পক্ষপাতি। নাট্যজন জামালউদ্দিন হোসেনও মনে করেন, মুখের ভাষায় সাহিত্য রচনা করা সম্ভব, তবে সেখানে শিল্প থাকতে হবে।

আলোচনায় আরও অংশ নেন- বিশ্বজিত সাহা, সউদ চৌধুরী প্রমুখ। পর্বটি সঞ্চালন করেন লেখক-প্রাবন্ধিক আদনান সৈয়দ।

অনুষ্ঠান শেষে ছিল আড্ডাপর্ব। পর্বটি পরিচালনা করেন লেখক হাসান ফেরদৌস। এই পর্বে কথাসাহিত্যিক আনিসুল হক, কবি ইকবাল হাসান, কবি বিমল গুহ এবং সংগঠক ও অধ্যাপক জিয়া উদ্দিন আহমেদ স্বরচিত কবিতা পাঠ করেন। অধ্যাপক হায়দার আলী খান ও সাহানা বেগমের গানের মধ্যদিয়ে অনুষ্ঠনাটি শেষ হয়। অনুষ্ঠানের কারিগরি দায়িত্বে ছিলেন মুরাদ আকাশ।

পরবর্তী রবি-সন্ধ্যায় যারা অংশ গ্রহণ করতে চান তাঁদের mfusa2020@gmail.com ইমেইলে যোগাযোগ করার অনুরোধ জানানো হয়েছে। আগ্রহীরা নিউ ইয়র্ক বইমেলার https://www.facebook.com/newyorkboimela পেইজে গিয়ে এবং ফাউন্ডেশনের ইউটিউব চ্যানেল https://www.youtube.com/c/NewYorkBanglaBoimela থেকে অনুষ্ঠানটি দেখতে পারেন।