বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের কাছ থেকে কোনো সহযোগিতা পাননি বলে মন্তব্য করেছেন তার ছোট ভাই ও বসুরহাট পৌরসভার মেয়র আবদুল কাদের মির্জা। তিনি বলেছেন, ‘আমার বড় ভাই মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের আমাকে কোনো সহযোগিতা করেননি।’

আবদুল কাদের মির্জা বলেন, ‘তার স্ত্রী আমাকে ও আমার পরিবারের সদস্যদের মন্ত্রীর বাস ভবনের দোতালা থেকে বের করে দিয়েছিলেন। এ লজ্জা রাখব কোথায়, কাকে বলব। আমার ঈর্ষণীয় জনপ্রিয়তা দেখে মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের তা পছন্দ করছে না। ’

বুধবার দুপুরে নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার বসুরহাট পৌরসভায় মেয়র কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে আবদুল কাদের মির্জা এসব কথা বলেন। এ সময় তিনি বলেন, ‘ তিনি (ওবায়দুল কাদের) বার বার মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিয়ে আমার মুখ বন্ধ করার চেষ্টা করেছেন। বিগত ৩৫-৪০ বছরে রাজনৈতিক জীবনে আমি আবদুল কাদের মির্জা ওবায়দুল কাদেরের রাজনীতিই প্রতিষ্ঠিত করে রেখেছি। ৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে নিশ্চিত মৃত্যুর হাত থেকে আমি ওবায়দুল কাদেরকে বাঁচিয়েছিলাম। সেদিন আমি না থাকলে আমার জেঠা রাজাকার এরফান মিয়া ওবায়দুল কাদের এবং তার সাথে থাকা মুক্তিযোদ্ধা আবুল খায়েরকে হত্যা করা হতো। যিনি এখনও জীবন্ত সাক্ষী হিসেবে রয়েছেন।’

বসুরহাট পৌরসভায় মেয়র বলেন, ‘মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের উপজেলা চেয়ারম্যান মোহাম্মদ শাহাব উদ্দিনের ওপর ভর করে তার নির্দেশে এখন উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি খিজির হায়াত ও সাধারণ সম্পাদক নুরনবী চৌধুরীকেও আমার কাছ থেকে সরিয়ে নিয়েছেন। উপজেলা চেয়ারম্যান শাহাব উদ্দিন এখন আমার বিরুদ্ধে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেন। ফেনীর দণ্ডপ্রাপ্ত নিজাম হাজারী এমপি আসামি হয়ে রাস্তায় প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে। সে গ্রেপ্তার হয় না। দেশে কি আইনের শাসন আছে?’

‘অপরাজনীতি, অন্যায়, অসত্য, হত্যা, দুর্নীতি, টেন্ডারবাজি, নিয়োগবাণিজ্যের বিরুদ্ধে আমি বলেছি, বলেই যাব। যতক্ষণ না এসবের মিমাংসা না হয়। দলের বিপক্ষে আমি কিছু বললে যদি মিথ্যা বলে থাকি দল আমার বিরুদ্ধে সিদ্ধান্ত নিক। আমার কোনো আপত্তি নেই। দল থেকে বহিষ্কার করলেও আমার কোনো অভিযোগ-অনুযোগ থাকবে না। তবে সাহস করে সত্য কথাগুলো আমি বলেই যাব। দুঃখের সাথে বলতে হয়, আমার দলের নেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও আমাকে বলেন, আমি নাকি নিজকে প্রকাশিত করার জন্য এসব করছি। আমি দলের কেন্দ্রীয় কোনো পদ-পদবি, এমপি-মন্ত্রীত্ব চাই না। আমাকে জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি পদ দিতে চেয়েছিল, ঘৃণা ভরে প্রত্যাখ্যান করেছি’, যোগ করেন তিনি।

আবদুল কাদের মির্জা এসময় সংবাদ সম্মেলনে তার পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করেন। কর্মসূচিতে রয়েছে-বুধবার বিকেলে বিক্ষোভ সমাবেশ, বৃহস্পতিবার ভোর ৬টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায় অর্ধদিবস হরতাল, শুক্রবার ভোর থেকে দুপুর ১২ পর্যন্ত কোম্পানীগঞ্জ থানার মূল ফটকে অবস্থান ধর্মঘটের ঘোষণা দেন। এরপর দাবিসমূহ না মানা হলে, পরবর্তীতে লাগাতার সকাল-সন্ধ্যা হরতালের কর্মসূচিরও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

আবদুল কাদের মির্জার দাবিগুলো হলো

নোয়াখালীর ডিসি মো. খোরশেদ আলম, এসপি মো. আলমগীর, কোম্পানীগঞ্জ থানার ওসি মীর জাহেদুল হক রনি ও ওসি (তদন্ত) মো. রবিউল হককে প্রত্যাহার করতে হবে। এছাড়া কোম্পানীগঞ্জ চরকাঁকড়া ইউনিয়নের সন্ত্রাসী ফখরুল ইসলাম সবুজ, কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান বাদল, ফখরুল ইসলাম রাহাত, নুরুল করিম জুয়েল, ইস্কান্দার মির্জা শামীমকে গ্রেপ্তার।

নোয়াখালী ও ফেনীর অপরাজনীতির হোতা সংসদ সদস্য (এমপি) একরাম চৌধুরী, এমপি নিজাম হাজারী, নোয়াখালী সদর উপজেলা চেয়ারম্যান সামছুদ্দিন জেহান, নোয়াখালী পৌরসভার মেয়র শহীদুল্লাহ খান সোহেল, ফেনীর মেয়র স্বপন মিয়াজী, দাগনভুঞা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান দিদারুল কবির রতন, সোনাগাজী উপজেলা চেয়ারম্যান জহির উদ্দিন মাহমুদ লিপটনের বিরুদ্ধে আবদুল কাদের মির্জা এবং তার পরিবারকে হত্যার ষড়যন্ত্রের অভিযোগে দলীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।