সরকার নিজেদের সুবিধামতো মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস তৈরি করছে বলে মন্তব্য করেছেন করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন। শুক্রবার বিকেলে মুক্তিযুদ্ধের সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন কমিটির সভায় তিনি এ অভিযোগ করেন।

গুলশানে চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপনে জাতীয় কমিটি বিভিন্ন সমন্বয়ন কমিটিকে নিয়ে এই যৌথ বৈঠক করে। বৈঠকে খন্দকার মোশাররফ বলেন, ‘যারা ক্ষমতায় আছে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস তারা তাদের ইচ্ছামতো লেখার চেষ্টা করছে, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে তারা নিজেদের ‍সুবিধামতো তৈরি করার চেষ্টা করছে। আজকে বিশেষ করে নতুন প্রজন্মকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করা হচ্ছে এবং মুক্তিযুদ্ধের যে মূল ইতিহাস তা বিকৃত করার চেষ্টা করা হচ্ছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘বাংলাদেশে এই পঞ্চাশ বছরে মুক্তিযুদ্ধের আকাঙ্ক্ষা ও স্বাধীনতায় আমাদের যে প্রত্যাশা কী ছিল এবং সেই ক্ষেত্রগুলোতে কারা কী অবদান রেখেছে, কারা কী ক্ষতি করেছে সেটা সম্পর্কেও বর্তমান প্রজন্মকে ভুল তথ্য দেওয়া হচ্ছে।’

খন্দকার মোশাররফ বলেন, ‘উদাহরণ হিসেবে বলতে চাই যে, মুক্তিযুদ্ধে মূল আকাঙ্ক্ষা ছিল একটি গণতান্ত্রিক সরকার, গণতান্ত্রিক পরিবেশ। আজকে দেশে গণতন্ত্র নেই। এখন শুধু নয়, স্বাধীনতার পরে ৭৫ সালে এদেশে গণতন্ত্রকে হত্যা করে একদলীয় শাসন ব্যবস্থা কায়েম করা হয়েছিল। এটা কখনোই আমাদের মুক্তিযোদ্ধাদের আকাঙ্ক্ষা ছিল না।’

নতুন প্রজন্মের কাছে এসব বিষয় তুলে ধরার আহবান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘বিএনপি সত্যিকার অর্থে রণাঙ্গনের মুক্তিযোদ্ধাদের দল। সেজন্য আমরা স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী সারা বছর জুড়ে করতে একটি ক্যালেন্ডার তৈরি করব। এর খসড়া আমরা করেছি। বিএনপি স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে পালনে সব উদ্যোগ নিচ্ছে।’

বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন জাতীয় কমিটির আহবায়ক খন্দকার মোশাররফ হোসেন। সঞ্চালনা করেন সদস্য সচিব আবদুস সালাম। বৈঠকে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, সেলিমা রহমান, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, ভাইস-চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমান, ব্যারিস্টার শাহজাহান ওমর, আবদুল আউয়াল মিন্টু, এজেডএম জাহিদ হোসেন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।