ঢাকায় এক রোমহর্ষক ঘটনা ঘটেছে। স্বামী বয়স্ক, তাই স্ত্রী জুটিয়ে নেন যুবক বয়সী এক প্রেমিককে। দীর্ঘদিন যাবত ওই প্রেমিকের সঙ্গেই ভালোভাবেই অবৈধ সম্পর্ক চালিয়ে আসছিলেন সেই প্রেমিকা। হঠাৎ কোন একটি বিষয় নিয়ে তাদের মধ্যে তর্কবিতর্ক হয়। অবশেষে প্রেমিকের বাসায় গিয়ে অবৈধ সম্পর্ক শেষে বুকে ছুরি চালিয়ে হত্যা করে সেই প্রেমিকা। এতেও তিনি ক্ষ্যান্ত হননি, হত্যার পর প্রেমিকের হাত পা কেটে পুরো লাশটি ৫ টুকরো করে বাসায় ফেলে রাখেন।

ঘটনাটি ঘটেছে রাজধানীর ওয়ারী থানা এলাকায়। বৃহস্পতিবার (১১ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১০ টা থেকে ১১ টার মধ্যে এই ঘটনা ঘটে বলে জানা গেছে।

এ বিষয়ে ওয়ারী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মাহবুব আলম বলেন, আমরা ঘটনাটি তদন্ত করে দেখছি। এই ঘটনা ওই প্রেমিকাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। যাকে হত্যা করা হয়েছে তার নাম সজিব হাসান, তিনি শ্যামলী পরিবহন কাউন্টারের স্টাফ। সম্প্রতি তাদের অবৈধ সম্পর্কে ভাটা পড়ায় এই ঘটনা ঘটেছে বলে দাবি করছেন গ্রেপ্তারকৃত প্রেমিকা শাহনাজ পারভীন। এই নারী বিবাহিতা।

তাকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে পুলিশ জানতে পেরেছে, সুযোগ পেলেই তারা বিভিন্ন স্থানে অবৈধ সম্পর্কে জড়িয়ে পড়তেন। বৃহস্পতিবার সকালেও এই নারী তার প্রেমিকের বাসায় যায়। ওই বাসাটি ১ রুমের। যাওয়ার পর তাদের মধ্যে কোন একটি বিষয় নিয়ে তর্কবিতর্ক হয়। এক পর্যায়ে ওই প্রেমিকা তার প্রেমিকের বুকে ছুরি ঢুকিয়ে দেয়। যার ফলে প্রেমিক রক্তক্ষরণ হয়ে মারা যায়। এর পরেই তার হাত পা আলাদা করে পুরো শরীর ৫ টুকরা করে বাসার মধ্যেই ছড়িয়ে রাখে সে। এক পর্যায়ে তথ্য পেয়ে পুলিশ ওই প্রেমিকাকে গ্রেপ্তার করে থানায় নিয়ে আসে। এই ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটি ঘটেছে ওয়ারী থানাধীন স্বামীবাগ রেল গেটের পাশে পানির পাম্পের কাছেই। ওই প্রেমিকার স্বামী বয়স্ক হওয়ায় সজিবের সঙ্গে তিনি অবৈধ সম্পর্কে জড়িয়েছেন বলে দাবি করছেন। ওই প্রেমিকার বয়স আনুমানিক বয়স আনুমানিক ৫০ বছর এর মধ্যে।

যে কারণে প্রেমিককে ৫ টুকরো করেন এই নারী :
১৮ বছরের ছোট প্রেমিকের সঙ্গে দীর্ঘদিন যাবত অবৈধ সম্পর্ক চালিয়ে আসছিলেন এই নারী। একইসঙ্গে তাদের মধ্যে অর্থ লেনদেনের ঘটনা ছিলো। স্বামী বৃদ্ধ হওয়ায়, ৩২ বছর বয়সী প্রেমিক সজিব হাসানকে জুটিয়ে নেন ৫০ বছর বয়সী এই নারী। পুলিশ ধারণা করছে, অর্থ লেনদেন নিয়ে তর্কবিতর্ক হওয়ায় যুবক বয়সী প্রেমিকের বুকে ছুরি ঢুকিয়ে হত্যা করেন এই দুর্ধর্ষ নারী। পরে প্রেমিকের হাত পা কেটে ৫ টুকরো করেন তিনি। দুই হাতের অংশ এবং দুই পায়ের অংশ বাথরুমে ঢুকিয়ে রাখেন এবং মাথাসহ শরীরের বাকি অংশ রুমের মধ্যেই মেঝেতে উপুড় করে ফেলে রাখেন। যা পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাবাদে তিনিই স্বীকার করেছেন। ওই বাসায় গিয়ে একই অবস্থায় লাশটি উদ্ধার করে পুলিশ।

ডিএমপি’র ওয়ারী বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) শাহ ইফতেখার আহমেদ জানান, বাসার বাথরুম থেকে প্রেমিকের খণ্ড-বিখণ্ড হাত, পা উদ্ধার করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, প্রেমের সম্পর্কের জেরে এই ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনায় এক নারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। উদ্ধার করা হয়েছে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ছুরি।

ওয়ারী বিভাগের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (এডিসি) মোঃ কামরুল ইসলাম জানান, ওয়ারী থানাধীন ১৭/১ কে এম দাস লেন হোল্ডিংয়ের ৪র্থ তলায় ঘটনায় নিহত সজিব হাসানকে (৩২) আজ সকাল অনুমানিক ৮ টা থেকে সকাল ১০ টার মধ্যে হত্যা করা হয়। প্রেমিকা শাহানাজ পারভিন (৫০) সজিবের ছুরি দিয়ে বুকের নিচে পাড় দেয়। পরবর্তীতে তাহার দু’হাত এবং দু’পা কেটে বিচ্ছিন্ন করে তাহাকে নির্মমভাবে হত্যা করে।

প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা গেছে, প্রায় ৪ বছর আগে থেকে সজিব হাসানের সাথে হত্যাকারী শাহানাজ পারভিনের অবৈধ সম্পর্ক চলে আসছিলো। গত ২ দিন আগে হত্যাকারী শাহানাজ পারভিন তার প্রকৃত স্বামীর ঘর সংসার ছেলে মেয়ে রেখে স্বর্ণাংলকার কাপড় চোপড় ও টাকা পয়সা এবং লাগেজ নিয়ে বাড়ী হতে বের হয়ে সজিব হাসানের সঙ্গে দেখা করে এবং তার স্ত্রী পরিচয় দিয়ে সজিবের বাসায় অবস্থান করা শুরু করে।

ওই নারী পুলিশের কাছে বলছেন, এমন পরিস্থিতিতে সজিব হাসান তার টাকা পয়সা ও স্বর্ণাংলকার নিয়ে বিক্রি করতে চাইলে কথা কাটাকাটি হয়। এরই জের ধরেই সজিব হাসান তাকে ছুরি দিয়ে হত্যা করতে চাইলে ছুরি কেড়ে নিয়ে উল্টো সজিব হাসানের বুকের নিচে পেটের উপরি ভাগে পাড় দেয়। হত্যাকারী শাহানাজ পারভিন প্রেমিক সজিবের তুলনায় শারীরিক গঠনে খুবই ভালো। হত্যা শেষে ছুরি দিয়ে সজিবের দু’হাত, দু’পা বিছিন্ন করে হত্যা করা হয়। এ কাজে ব্যবহৃত ছুরি ও শীল উদ্ধার করেছে পুলিশ।

পুলিশ জানায়, ওই নারীকে আরও জিজ্ঞাসাবাদের পর এই ঘটনা সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে। ঘটনাস্থল থেকে আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য লাশ সলিমুল্লাহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। সজিব হাসানের গ্রামের বাড়ি ঝিনাইদহ জেলার হরিনাকুন্ড থানার নারায়নকান্দা (বিশ্বাসপাড়া) গ্রামে।