বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মুক্তিযুদ্ধের খেতাব বাতিলের সিদ্ধান্তসহ নেতাকর্মীদের সাজা ও কারাগারে পাঠানোর প্রতিবাদে রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে বিক্ষোভ করছে বিএনপি।

বৃহস্পতিবার (১১ ফেব্রুয়ারি) সকাল থেকে বিএনপি ও এর বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী বিক্ষোভ সমাবেশে অংশ নিয়েছেন। ঢাকা মহানগর বিএনপির উদ্যোগে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

আয়োজক সংগঠনের সভাপতি ও বিএনপির যুগ্ম-মহাসচিব হাবিব-উন-নবী খান সোহেলের সভাপতিত্বে প্রতিবাদ সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আমান উল্লাহ আব্দুস সালাম, হাবিবুর রহমান হাবিব, ভাইস চেয়ারম্যান ডাক্তার এজেডএম জাহিদ হোসেন, আব্দুল আউয়াল মিন্টু, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, অ্যাডভোকেট সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, বিএনপির তথ্যবিষয়ক সম্পাদক আজিজুল বারী হেলাল, স্বেচ্ছাসেবক দলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান, সিনিয়র সহ-সভাপতি গোলাম সারোয়ার প্রমুখসহ অসংখ্য নেতাকর্মী।

এ সময় রিজভী বলেন, ‘আজকে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে হঠাৎ করে অন্যায়ভাবে কোনও সুযোগ না দিয়ে নড়াইলের একটি আদালতে সাজানো মামলায় সাজা দেয়া হলো। তারপর এখন আমরা কী দেখতে পাচ্ছি, স্বাধীনতার ঘোষক জেড ফোর্সের অধিনায়ক জিয়াউর রহমান, তাঁর নাকি খেতাব কেড়ে নেয়া হবে। আর এটির সিদ্ধান্ত নিয়েছেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়। আমাদের বক্তব্য হচ্ছে, কীসের জন্য হঠাৎ করে এ বিষয়টি সামনে নিয়ে আসা হলো? এগুলোর পেছনে তো সরকার আছে। শেখ হাসিনা আছেন। দেশের এই কীর্তিমান মহানায়কের খেতাব কেন কেড়ে নেয়া হবে? ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে কেন সাজা?’

সমাবেশে নেতারা বলেন, রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের নাম মুছে ফেলার ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে। তারেক রহমানসহ বিএনপির প্রকাশনা সম্পাদক ও সাবেক সাংসদ হাবিবুল ইসলাম, সাতক্ষীরার ৩৪ জন নেতা-কর্মী ও পাবনার ৪৭ জন নেতা-কর্মীকে সাজা দেওয়া এবং দলের বাণিজ্যবিষয়ক সম্পাদক সালাহউদ্দিন আহমেদকে অন্যায়ভাবে কারাগারে পাঠিয়েছে সরকার।

উল্লেখ্য, বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলায় দণ্ডিত চার পলাতক খুনির খেতাব স্থগিতের জন্য হাইকোর্ট একটি আদেশ দিয়েছিলেন গত বছরের শেষ দিকে। গত মঙ্গলবার মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হকের সভাপতিত্বে জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলের (জামুকা) সভায় সংবিধান লঙ্ঘন, বঙ্গবন্ধুর আত্মস্বীকৃত খুনিদের দেশত্যাগে সহায়তা এবং তাদের গুরুত্বপূর্ণ পদে পদায়নের কারণে জিয়াউর রহমানের খেতাব বাতিলের সিদ্ধান্ত হয়েছে।

সেই সঙ্গে বঙ্গবন্ধুর আত্মস্বীকৃত খুনি শরিফুল হক ডালিম, এ বি এম এইচ নূর চৌধুরী, রাশেদ চৌধুরী ও মোসলেহ উদ্দিন ওরফে মোসলেম উদ্দিনের মুক্তিযুদ্ধের খেতাব বাতিলেরও সিদ্ধান্ত হয়।