নির্বাচন শেষ, আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না হলেও যুক্তরাষ্ট্রের ৪৬তম প্রেসিডেন্ট হচ্ছে জো বাইডেন- তা একপ্রকার নিশ্চিত। যদিও ক্ষমতা হস্তান্তরে এখনও দু’মাস বাকি। তবে হবু প্রেসিডেন্টের বিশেষ টিম এ সপ্তাহেই হোয়াইট হাউসে পৌঁছে গোছগাছের কাজ শুরু করবে ঠিক করেছিল। ভোটের ফলাফল পরিষ্কার হয়ে গেলে সেটাই নিয়ম যুক্তরাষ্ট্রে। কিন্তু, এতে বাধ সেধেছে ট্রাম্প প্রশাসন।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম ব্লুমবার্গ জানিয়েছে, হোয়াইট হাউসের জেনারেল সার্ভিসেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (জিএসএ) প্রধান এমিলি মারফি এ সংক্রান্ত একটি চিঠিতে সই করতে অস্বীকার করছেন। হোয়াইট হাউসের কিছুটা অংশে হবু প্রেসিডেন্টের কর্মীদের যাতায়াতের অনুমতি দেয়া ছিল সেখানে।

ওই চিঠিতে সই হলেই কয়েক লাখ ডলারের ‘অন্তর্বর্তীকালীন’ তহবিলও চলে যাবে বাইডেন সমর্থকদের হাতে।

সাধারণত ফলাফল জানতে পারার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ওই বিশেষ চিঠিতে সই করেন জিএসএ প্রধান। কিন্তু, বাইডেনের বিজয় নিশ্চিত হওয়ার ৪৮ ঘণ্টা পরেও সেই চিঠিতে সই করেননি ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ সহকর্মী এমিলি মারফি।

তবে এ বিষয়ে কোনও মন্তব্য করতে রাজি হননি জিএসএ প্রধান। তার মুখপাত্র পামেলা পেনিংটন বলেছেন, এখনও স্পষ্ট কিছু বোঝা যাচ্ছে না। প্রশাসন যেভাবে কাজ করার, সেটাই করছে।

শুধু ট্রাম্প প্রশাসনই নয়, বাইডেনের জয় মেনে আনুষ্ঠানিক কোনও বার্তা দেয়নি রিপাবলিকান পার্টিও। যদিও এ দলেরই সাবেক প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশ জুনিয়র শনিবার জো বাইডেন ও কমলা হ্যারিসকে ফোন করে অভিনন্দন জানিয়েছেন।

তবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যে নির্বাচনের ফলাফল চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টে যাবেন বলে বারবার হুমকি দিচ্ছেন, তাতে রিপাবলিকান শিবিরের একটা অংশের মদদ রয়েছে বলে দাবি অনেকের।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ভোটের ফল এখনও একই রয়েছে। বিবিসি-সিএনএনের মতো কিছু গণমাধ্যমের হিসাবে, বাইডেন পেয়েছেন ২৭৯টি ইলেকটোরাল ভোট, আর ট্রাম্প ২১৪টি। অ্যারিজোনা, জর্জিয়া, নর্থ ক্যারোলিনা এবং আলাস্কায় ভোটগণনা এখনও শেষ হয়নি।

তবে দ্য গার্ডিয়ান, আল-জাজিরার মতো গণমাধ্যমগুলো অ্যারিজোনাতেও বাইডেন জয়ী দেখাচ্ছে। সেই হিসাবে, তার মোট ইলেকটোরাল ভোটের সংখ্যা দাঁড়াচ্ছে ২৯০টি।