যুক্তরাষ্ট্রের ২৮ বছরের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো একবার প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালনের পরই ক্ষমতা হারানোর ঝুঁকিতে আছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইতিমধ্যেই তিনি স্বভাবসুলভ বিষোদ্‌গার করছেন প্রতিপক্ষের প্রতি। ভোট গণনা বন্ধের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, বলছেন মামলা কথা। তার রাগান্বিত মুখভঙ্গি সংবাদ ও সামাজিক মাধ্যমের এখন আলোচ্য বিষয়। তবে রেগে গেলেও হেরে যাবেন না ট্রাম্প- এমন মনে করছেন তার সহকর্মীসহ বিশ্লেষকরা।

তারা বলছেন, ক্ষমতা হারালেও ৭৬ দিন ক্ষমতায় থাকবেন রিপাবলিকান প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্প। শুরুতেই তিনি হেরে যাওয়ার প্রতিশোধ নিতে পারেন তার প্রশাসনের কর্মকর্তাদের ওপর। এসব শঙ্কা প্রকাশ করে নিউইয়র্ক টাইমসের দুই সাংবাদিক পিটার বেকার এবং ম্যাগি হেবারম্যান একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছেন।

নিউইয়র্ক টাইমসে প্রকাশিত এক সংবাদ বিশ্লেষণে তারা জানিয়েছেন, জো বাইডেন যদি জেতেন তাহলে তার ক্ষমতায় আরোহণের আগ পর্যন্ত ট্রাম্প তার হেরে যাওয়ার জন্য অনেককে দায়ী করতে পারেন। তিরি তার উপদেষ্টা, জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের অপসারণ অথবা বদলি করতে পারেন। এদের মধ্যে এফবিআই পরিচালক ক্রিস্টোফার অরি এবং স্বাস্থ্য খাতের প্রধান ডা. ফাউচি থাকতে পারেন।

হেরে গেলেও ডোনাল্ড ট্রাম্প ২০১৬ সালের তুলনায় এবার পাঁচ মিলিয়ন বেশি ভোট পেয়েছেন। অনেক বিতর্কের পরও তিনি ৪৮ শতাংশ পপুলার ভোট পেয়েছেন। প্রায় অর্ধেক মার্কিন জনগোষ্ঠী তার পক্ষে রয়েছে। যদিও ট্রাম্পের সময়ে করোনাভাইরাসে যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ২ লাখ ৩৩ হাজার নাগরিকের মৃত্যু হয়েছে।

এই জনসমর্থন তাকে একবারই প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালনের পর ক্ষমতা হারানো জর্জ বুশ কিংবা জিমি কার্টারের তুলনায় শক্তিশালী করে তুলবে। তিনি এমনকি ২০২৪ সালে আবার প্রেসিডেন্ট নির্বাচন করতে পারেন। যদিও তখন তার বয়স হবে ৭৮। অপরদিকে টুইটারে তার রয়েছে ৮৮ মিলিয়ন অনুসারী। যার ফলে তিনি টুইটারে কোনো মন্তব্য করলে এর প্রতিক্রিয়া হবে বেশি। রিপাবলিকান সমর্থকদেরও তিনি এভাবে চাঙা রাখতে পারবেন।

অ্যারিজোনা রাজ্যের সাবেক সিনেটর ও ট্রাম্পের সঙ্গে বিরোধর কারণে রিপাবলিকান থেকে সরে যাওয়া জেফ ফ্লেক মন্তব্য করেছেন, নির্বাচনের ফলাফল যাই হোক না কেন ট্রাম্প এ মঞ্চ ছেড়ে সহসা চলে যাবেন না। তার মতে, বিপুলসংখ্যক ‘ফলোয়ার’ থাকায় ট্রাম্প রিপাবলিকান সিনেটরদের মাধ্যমে বাইডেন প্রশাসনের ওপর চাপ প্রয়োগ করতে সমর্থ হবেন। তার নিজের পক্ষে কোনো সিদ্ধান্ত পাস করাতে অথবা আটকাতে তিনি এসব সমর্থকদের ব্যবহার করবেন।

নতুন কোনো রিপাবলিকান নেতার আবির্ভাবের আগ পর্যন্ত ডোনাল্ড ট্রাম্প কার্যত এ দলের নেতা হিসেবে থাকবেন। ট্রাম্পের প্রথম নির্বাচনী প্রচারের ব্যবস্থাপক ব্র্যাড পারসকল বলেছেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের কাছে রয়েছে বিপুলসংখ্যক তথ্য যা অন্য কোনো রাজনীতিবিদের নাই।

এর মধ্যে ‘ব্ল্যাক লাইভস ম্যাটারস’ আন্দোলন হয়ে গেলেও ট্রাম্পের কৃষাঙ্গ ভোট বেড়েছে। বেড়েছে হিস্পানিক ভোটও। ৪১ শতাংশ মনে করছেন তিনি দায়িত্ব নেয়ার পর ভালো করেছেন। তার দলের নেতারাই বলছেন, ‘রিপাবলিকানদের মধ্যে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প একজন হিরো। ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে যদি ট্রাম্প না দাঁড়ান তাহলে যিনি দাঁড়াবেন তিনি হবেন তার ঘনিষ্ঠ’।

এ ছাড়া ট্রাম্পের রয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়, তিনি টিভিও আনতে যাচ্ছেন ‘ট্রাম্প টিভি’ নামে। বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মালিক ট্রাম্প কখনো মধ্যস্থতার দিকে যান না বলে মন্তব্য তার দলের লোকদেরই।