যুক্তরাষ্ট্রে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের অধিকাংশ জরিপ বলছে, ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জো বাইডেনের চেয়ে পিছিয়ে আছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। কিন্তু কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ রাজ্যে এ ব্যবধান খুব একটা বেশি নয়। এ রাজ্যগুলোর মধ্যে রয়েছে ফ্লোরিডার নামও। শুধু এই কটি রাজ্য ট্রাম্পের দখলে এলেই ট্রাম্পের পুনর্নির্বাচন ঠেকাতে পারবেন না বাইডেন। খবর বিবিসি।

মার্কিন জনগণের সরাসরি ভোটে দেশটির প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন না। প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন রাজ্যগুলোর ইলেক্ট্রোরাল কলেজ ভোটের মাধ্যমে। অর্থাৎ যে রাজ্যে যে প্রার্থী জয়ী হন ওই রাজ্যের সব ভোট ওই প্রার্থীর পকেটে চলে যায়। ঠিক এ নিয়মের কারণে ২০১৬ সালে সারা দেশে বেশি ভোট পেয়েও পরাজয়ের গ্লানি নিতে হয়েছিল হিলারি ক্লিনটনকে। যদিও ইলেক্ট্রোরাল কলেজ ভোটও নির্ধারণ করা আছে ওই রাজ্যের জনসংখ্যার অনুপাতে। যেমন জনবহুল ক্যালিফোর্নিয়ার ইলেক্ট্রোরাল ভোট রয়েছে ৫৫টি যে খানে হাওয়াইতে রয়েছে মাত্র চারটি। কিন্তু ফ্লোরিডায় রয়েছে ২৯টি। এভাবে যুক্তরাষ্ট্রের সব অঙ্গরাজ্য মিলে ইলেক্ট্রোরাল ভোট রয়েছে ৫৩৮টি আর কোনো প্রার্থীকে প্রেসিডেন্ট হতে হলে তাকে ২৭০ ভোট পেতে হয়। গত নির্বাচনে এ ফ্লোরিডায় অল্প ভোটের ব্যবধানে জয়ী হয়ে ইলেক্ট্রোরাল ভোটে হিলারির থেকে এগিয়ে যান ট্রাম্প। এ বছর জরিপে দেখা যাচ্ছে এই রাজ্যটির ৪৮.৮ শতাংশ ভোটার মতামত দিয়েছে বাইডেনের পক্ষে আর ৪৫.১ শতাংশ ভোটার ট্রাম্পের পক্ষে মত দিয়েছেন। এখানে ট্রাম্প পিছিয়ে থাকলেও ব্যবধানটি অল্প। ধারণা করা হচ্ছে, নির্বাচন যত এগিয়ে আসবে ট্রাম্প এ ব্যবধানগুলো টপকে যাবেন। দেখা যাচ্ছে, ফ্লোরিডা ও পেনসেলভানিয়ার মতো গুরুত্বপূর্ণ রাজগুলোতে ভালো ফল করলে অন্য রাজ্যগুলোর হিসাব অনেকটা গৌণ হয়ে যায়। এ বছর ছাড়াও মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচন ফ্লোরিডা সব সময় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। কয়েকটি রাজ্যের ফলই মূলত গোটা দেশের ফল নিয়ন্ত্রণ করতে পারে।

এ বছর শুরু থেকেই জরিপের ফলে ট্রাম্প পিছিয়ে রয়েছেন। ২০১৬ সালেও একই চিত্র দেখা গেছে। সে সময় হিলারি ক্লিনটন থেকে পিছিয়ে ছিলেন ট্রাম্প। বেশ কিছু নেতিবাচক প্রচারও ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ছিল। নির্বাচনের মাত্র এক মাস আগে ট্রাম্পকে নিয়ে নারী কেলেঙ্কারির খবর ফাঁস হয়। এবারও ট্রাম্পের বিরুদ্ধে বেশ কিছু অভিযোগ রয়েছে। করোনা মহামারী থেকে শুরু করে, অভিবাসন, শ্বেতাঙ্গ শ্রেষ্টত্ব, মুসলিম ও কৃষ্ণাঙ্গ বিদ্বেষ এ সবের অন্যতম। এসব ছাপিয়ে ট্রাম্প কি পারবেন হোয়াইট হাউসে আরও চার বছর থেকে যেতে?