নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে বিবস্ত্র করে নির্যাতনের শিকার সেই নারীকে বছর খানেক আগেও দুইবার ধর্ষণ করেছিল দেলোয়ার বাহিনীর প্রধান দেলোয়ার ও তার সহযোগী কালাম।

ভুক্তভোগী নারীর সঙ্গে কথা বলে মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) নোয়াখালী জেলা জজ আদালতের কনফারেন্স রুমে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান মানবাধিকার কমিশনের অভিযোগ ও তদন্ত পরিচালক মাহমুদ ফায়জুল কবির।

তিনি বলেন, দেলোয়ার ও আসামি কালাম রাতের বেলায় নৌকায় নিয়েও ওই নারীকে ধর্ষণ করেন। ওই দিন রাতে ভুক্তভোগী নারী তার বাবার রাড়িতে একা ছিলেন। দেলোয়ারের সঙ্গে আরেক আসামি কালামও তাকে ধর্ষণ করেছে। দেলোয়ার এলাকায় প্রভাবশালী সন্ত্রাসী হওয়ায় তার বিরুদ্ধে মামলা করার সাহস পাননি তিনি।

জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের তদন্তদল মঙ্গলবার নোয়াখালীতে এসে ঘটনাস্থল বেগমগঞ্জ উপজেলা ও ভুক্তভোগী নারী ও তার বাবার সঙ্গে কথা বলেন। এছাড়াও তদন্ত দল জেলা পুলিশ প্রশাসনের সাথে কথা বলে ভিকটিম ও তার পরিবারকে নিরাপত্তা দেওয়ার ওপর গুরুত্বরোপ করেন। ভুক্তভোগী নারীকে ধর্ষণের ঘটনায় জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের পক্ষ থেকে একটি মামলা করা হবে বলে তিনি জানান।

উল্লেখ্য, স্বামী দ্বিতীয় বিয়ে করায় ছেলে-মেয়েকে নিয়ে একলাশপুরে বাবার বাড়িতে থাকতেন ওই নারী। ১০ বছর পর গত ২ সেপ্টেম্বর স্বামী তার কাছে এলে দেলোয়ার বাহিনীর ক্যাডাররা দরজা ভেঙে ওই নারীর ঘরে ঢোকে। এরপর তারা ওই নারীর স্বামীকে পাশের রুমে বেঁধে রেখে ওই নারীকে বিবস্ত্র করে ভিডিও ধারণ করে। এরপর থেকে ওই নারী এলাকাছাড়া হয়ে পালিয়ে থাকলেও তাকে মোবাইলফোনে নানা ধরনের হুমকি ও কুপ্রস্তাব দিতো দেলোয়ারবাহিনী। তিনি ফিরে না আসায় গত ৪ অক্টোবর সে ভিডিও ফেসবুকে প্রকাশ করে দুর্বৃত্তরা। বিষয়টি প্রশাসনের নজরে এলে পুলিশ ও র‌্যাব তাদের বিরুদ্ধে মাঠে নামে। এদিকে ভুক্তভোগী এ ঘটনায় মামলা দায়ের করলেও দেলোয়ারের নাম উল্লেখ করেননি।

গত রবিবার রাতে র‌্যাবের একটি দল সিদ্ধিরগঞ্জের শিমরাইল এলাকা থেকে অস্ত্রসহ নারী নির্যাতন মামলার প্রধান আসামি দেলোয়ার হোসেনকে গ্রেফতার করে। র‌্যাবের জিজ্ঞাসাবাদে সে স্বীকার করে বেগমগঞ্জে তার মাছের খামারে আরও বিস্ফোরক ও গুলি রয়েছে। পরে র‌্যাব-১১ লক্ষ্মীপুর ক্যাম্প কমান্ডারের নেতৃত্বে একটি দল মাছের খামারে অভিযান চালিয়ে ৭ টি তাজা ককটেল ও দুটি বন্দুকের কার্তুজ উদ্ধার করে। বিস্ফোরক ও গুলি উদ্ধার ঘটনায় বেগমগঞ্জ থানায় পৃথক একটি মামলা দায়ের করেছে র‌্যাব। অন্যদিকে, অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনায় র‌্যাবের একজন ডিএডি বাদী হয়ে সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। এ মামলায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তার দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছে আদালত। মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) বিকেলে নারায়ণগঞ্জ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ফাহিমা খাতুনের আদালতেআসামি দেলোয়ারের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।