নিউইয়র্কের মুক্তধারা ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে ২৯তম নিউইয়র্ক বাংলা বইমেলা শুরু হচ্ছে আজ শুক্রবার। চলবে ২৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। করোনাভাইরাসের কারণে এই মেলা হবে ভার্চুয়াল, সরাসরি দেখা যাবে ইউটিউব ও ফেসবুকে। বাংলাদেশ ও ভারতের পশ্চিমবাংলার বাইরে বৃহত্তম ও সবচেয়ে দীর্ঘস্থায়ী এই বইমেলায় এ বছর বিশ্বের ৩০টিরও বেশি দেশের বাংলা ভাষা ও সাহিত্যপ্রেমী বাঙালিরা অংশ নিচ্ছেন।

মুজিববর্ষে আয়োজিত এই মেলা উৎসর্গ করা হয়েছে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্মৃতির উদ্দেশে। মেলাকে স্বাগত জানিয়ে বার্তা পাঠিয়েছেন বাংলাদেশ সংসদের স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী, শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি, সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ, নিউইয়র্ক স্টেটের গভর্নর অ্যান্ড্রু কুমো ও বাংলা একাডেমির সভাপতি শামসুজ্জামান খান।

দশ দিনের বইমেলার সার্বিক কার্যক্রম জাতির পিতার প্রতি নিবেদন করা হবে। থাকবে বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে স্মৃতিচারণ, কবিতা আবৃত্তি এবং বিশেষ কনসার্ট।

আলোচকদের মধ্যে থাকছেন জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটির চেয়ারম্যান অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম, বিশিষ্ট সাংবাদিক আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরী, প্রবীণ রাজনীতিক তোফায়েল আহমেদ, কবি নির্মলেন্দু গুণ, মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের ট্রাস্টি মফিদুল হক, কবি কামাল চৌধুরী ও মুক্তিযোদ্ধা-বিজ্ঞানী ড. নূরুন নবী।

স্বরচিত কবিতা পাঠ করবেন কবি আসাদ চৌধুরী, হাবীবুল্লাহ সিরাজী, মনসুর মুসা ও আরও অনেকে। নাটক ও মুক্তিযুদ্ধ শীর্ষক আলোচনায় থাকছেন আতাউর রহমান, রামেন্দু মজুমদার, মামুনুর রশীদ, নাসির উদ্দীন ইউসুফ ও ম. হামিদ। সাহিত্যবিষয়ক আলোচনায় অংশ নেবেন শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়, আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ, সেলিনা হোসেন, সমরেশ মজুমদার, ত্রিদিব চট্টোপাধ্যায়, ইমদাদুল হক মিলন, আনিসুল হক। উত্তর আমেরিকা ও বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বসবাসরত শতাধিক কবি ও লেখক এই মেলার বিভিন্ন কার্যক্রমে অংশ নিচ্ছেন। এই বইমেলার জন্য বঙ্গবন্ধুর প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে একটি অপ্রকাশিত কবিতা পাঠিয়েছেন কবি শঙ্খ ঘোষ। বঙ্গবন্ধুর স্মৃতির উদ্দেশে আয়োজিত কনসার্টে অংশ নিচ্ছেন মাহমুদুর রহমান বেনু, শাহীন সামাদ, কুমার বিশ্বজিৎ, হিমাংশু গোস্বামী, ফরিদা পারভীন ও গাজী আবদুল হাকিম।

জীবনমুখী গানের শিল্পী নচিকেতা একটি পূর্ণাঙ্গ কনসার্টে অংশ নেবেন। এছাড়া উত্তর আমেরিকায় বসবাসরত উল্লেখযোগ্য সংখ্যক শিল্পীও সংগীত পরিবেশন করবেন। আরও থাকছে যুক্তরাষ্ট্রে চলমান বর্ণবৈষম্যের বিরুদ্ধে বিক্ষোভের ভিত্তিতে একটি একাঙ্কিকা নাটক। এটি লিখেছেন ফেরদৌস সাজেদিন। অভিনয়ে থাকবেন শিরীন বকুল।

 

মেলার একটি বিশেষ আকর্ষণ হবে ‘বাংলাদেশি অভিবাসী দিবস’। উল্লেখ্য, নিউইয়র্ক স্টেট অভিবাসী বাংলাদেশিদের বহুজাতিক সংস্কৃতি নির্মাণে তাদের ভূমিকার স্বীকৃতি হিসেবে ২৫ সেপ্টেম্বরকে ‘বাংলাদেশি ইমিগ্র্যান্টস ডে’ হিসেবে ঘোষণা দিয়েছে। এদিন ১৯৭৪ সালে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান জাতিসংঘে প্রথমবারের মতো বাংলায় ভাষণ দিয়েছিলেন। মেলার আরও একটি আকর্ষণ হবে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে অবদানের জন্য মুক্তধারা/জিএফবি সাহিত্য পুরস্কার। মুক্তধারার উপদেষ্টা গোলাম ফারুক ভূঁইয়ার অর্থানুকূল্যে প্রতিষ্ঠিত এই পুরস্কারের মূল্যমান ২,৫০০ মার্কিন ডলার।

অভিবাসী পাঠকদের জন্য মেলায় ২০২০ সালে প্রকাশিত বাংলা বই বিক্রির ব্যবস্থা করা হয়েছে। বাংলা একাডেমি, বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র, সময় প্রকাশনী, অনন্যা, বেঙ্গল পাবলিকেশন্স, প্রথমা প্রকাশন, আনন্দ পাবলিশার্স, দেজ পাবলিশিং হাউজ, পত্রভারতীসহ বাংলাদেশ ও পশ্চিমবাংলার ২৫টির মতো প্রকাশনা সংস্থা বইমেলায় অংশ নিচ্ছে। মেলা চলাকালে এসব প্রকাশকের বই আন্তর্জাতিক মূল্যের ৫০ শতাংশ হ্রাসকৃত মূল্যে অনলাইনে বিক্রয় হবে।

ঢাকার আইএফআইসি ব্যাংক এই মেলার প্রধান পৃষ্ঠপোষক। আর্থিক সাহায্য দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন বাংলাদেশি ব্যবসায়িক সংস্থা ও ব্যক্তি। ভার্চুয়াল এ মেলাটি ১৮ থেকে ২৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চলবে। সোম থেকে শুক্রবার নিউইয়র্ক সময় রাত ৯টা থেকে ১২.৩০ পর্যন্ত, শনি ও রোববার সকাল ১০টা থেকে বেলা ২টা পর্যন্ত অনুষ্ঠান চলবে।