নিয়াজ মুহাইমেন, লস এঞ্জেলেস :
বিএনপির ৪২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ক্যালিফোর্নিয়া বি এন পি’র ভার্চুয়াল আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখতে গিয়ে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, বি এন পি নেতা কর্মী ছাড়াও ৩৫ লক্ষ্য মানুষের বিরুদ্ধে রয়েছে গায়েবি মিথ্যা মামলা। এর থেকে ভিক্ষুক পর্যন্ত রেহাই পাচ্ছে না। কে কোথায় ফোনে কাকে কি বলছেন সেটা রেকর্ড করে মামলা দেওয়া হচ্ছে। আমি মির্জা ফকরুল ইসলাম আলমগীর, নজরুল ইসলাম খান, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী সহ অনেকের বিরুদ্ধেই গায়েবী মামলা হয়েছে। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে ৩৫টি নাশকতার মামলা হয়েছে। উনি নাকি কুমিল্লায় ৫টি ভিন্ন ভিন্ন জায়গায় গিয়ে একই সময়ে বোমা মেরেছেন? উনার বিরুদ্ধে এই মামলায় ওয়ারেন্ট বেরিয়েছে। ইলিয়াস আলী, পারভেজ, সুমন-ইমন, চৌধুরী আলম সহ পাঁচ শত নেতা-কর্মী গুম হয়েছেন। এই পরিস্থিতিতে বি এন পি সংগ্রাম করে যাচ্ছে। অনেকে হতাশা প্রকাশ করেন। কিন্তু একটি স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে লড়াই করে যাচ্ছি আমরা। এ লড়াই দীর্ঘ এবং সহজ ব্যাপার নয়। কিন্তু হতাশ হবেন না। স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে ৯ বছর সংগ্রাম করে গণতন্ত্র এসেছিল। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন থেকে দীর্ঘ সংগ্রাম করে ১৯৭১ এ মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে স্বাধীনতা এসেছিল। কোন এক ব্যক্তি কিংবা দল এই স্বাধীনতা এনে দেয়নি। আওয়ামী লীগ গণতন্ত্র, মুক্ত বাজার অর্থনীতি, কথা বলার স্বাধীনতা, সর্বপরি সুশাসন দিতে ব্যর্থ হয়েছিল বলেই সেদিন বি এন পি’র জন্ম হয়েছিল।

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর আরো বলেন, বি এন পি’র জন্ম না হলে বাংলাদেশ টিকতো না।

তিনি বলেন, বাংলাদেশে নিযুক্ত সাবেক রাষ্ট্রদূত উইলিয়াম বি মাইলাম তার এক বক্তব্যে বলেছিলেন, প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ১৯৮১ সালে মারা না গিয়ে যদি ১৯৭৫ সালে মারা যেতেন, তাহলে বাংলাদেশ আফগানিস্তান কিংবা লাইবেরিয়ার মত একটি ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত হত। ৭২ থেকে ৭৫ এর পরিস্থিতি শহীদ জিয়াকে রাজনীতিতে আসতে বাধ্য করেছে। অপশাসন থেকে ধাপে ধাপে জরুরি অবস্থা থেকে একদলীয় বাকশাল কায়েম, দুর্ভিক্ষ, দমন পীড়ন ছিল সে সময়কার প্রেক্ষাপট। অমর্ত সেন বলেছেন সেই দুর্ভিক্ষ ছিল মানুষের সৃষ্টি। শিশুদের খাদ্য সামগ্রী পর্যন্ত কালো বাজারে বিক্রি হয়েছিল। তিনি প্রবাসীদের সে সময়কার পরিস্তিতি বিভিন্ন মিডিয়া ঘেটে গবেষণা করার আহবান জানান। ‘বটম লেস বাস্কেট’ কিংবা জাল দিয়ে বাসন্তীর লজ্জা নিবারণ আওয়ামী লীগকে লজ্জা দিতে পারেনি? ঢাকার রাস্তায় না খেতে পেয়ে হাজার হাজার মানুষ পড়ে ছিল ১৯৭৪ সালে। বি এন পি একটি আধুনিক প্রগতিশীল দল, সামনে এগিয়ে যাবার দল। অনেকে বি এন পি সরকারের প্রয়াত অর্থমন্ত্রী সাইফুর রহমান সাহেবের সমালোচনা করেন কৃপণ লোক বলে। তিনি আজকের মত ১১০-১২০টা ব্যাংকের অনুমোদন দেননি। বাংলাদেশ ব্যাংক কিংবা শেয়ার মার্কেট লুটে নেবার সুযোগ করে দেননি। তিনি ব্যাংক থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা লুটে নিয়ে বিদেশে পাচার করার সুযোগ দেননি। জনগণের মাঝে আজও জনপ্রিয় জিয়াউর রহমান একজন খুবই সৎ প্রজ্ঞাবান মানুষ ছিলেন।

মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর আরো বলেন, আমরা যখন বি এন পি এর ৪২ তম বার্ষিকী পালন করেছি, তখন বিশ্বে এক মহা সংকট কোবিড ১৯ চলছে। করোনা ভাইরাস সারা বিশ্ব ওলোট পালট করে দিয়েছে। পাশাপাশি একদিকে অর্থনৈতিক অপরদিকে রাজনৈতিক সংকট চলছে। এই সংকট মানুষের চিন্তা চেতনায়, ধ্যান ধারণায় এক পরিবর্তন নিয়ে এসেছে। এর সুদূর প্রসারী প্রভাব রয়েছে। দেশে এমনই সময় এর চেয়েও বড় সংকট চলছে। একটি এক নায়কতান্ত্রিক ফ্যাসিবাদী সরকার বল প্রয়োগ করে জন মানুষের সকল অধিকার কেড়ে নিয়ে স্বৈরাচারী শাসন ব্যবস্থা কায়েম করেছে। একই সাথে আমাদের দলের চেয়ারপারসন, যাকে কেন্দ্র করে দল সামনের দিকে এগিয়ে যায়, যাকে কেন্দ্র করে এদেশের মানুষ দেশে গণতন্ত্র পুন্ প্রতিষ্ঠার আন্দোলন করে, যাকে আশা ভরসার কেন্দ্রস্থল মনে করে এদেশের মানুষ স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বকে সুসংহত করতে চায়, তিনি তার সারাটা জীবন এই দেশের গণতন্ত্রের জন্য, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের জন্য উৎসর্গ করেছেন, তিনি আমাদের মহান নেত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া। তাকে গৃহ বন্দি করে রাখা হয়েছে। আমাদের বাংলাদেশে একদিকে করোনা অপরদিকে এই ফ্যাসিবাদী সরকার মানুষের অধিকারগুলো কেড়ে নিচ্ছে, তাদের যে দমন পীড়ন তা রাজনীতিকে একটা পরিবর্তনের দিকে নিয়ে এসেছে।

বিদেশে থাকলে মানুষ আরো বেশী দেশপ্রেমী হয়। আপনারা প্রবাসীরা দেশ ও দলকে অতীতে সহযোগিতা করেছেন, আজ আবার দলের প্রয়োজনে নেতা-কর্মীদের কষ্টে এগিয়ে আসবেন। আমরা যে গণতন্ত্র ৯ বছর সংগ্রাম করে স্বৈরাচারের হাত থেকে ছিনিয়ে এনেছিলাম, যে স্বাধীনতা ১৯৭১ সালে যুদ্ধ করে অর্জন করেছিলাম, তা আজ বিপন্ন। বাংলাদেশে সরকারের বিরুদ্ধে আকার ইঙ্গিতেও কথা বললে মামলা হয়। এমতাবস্থায় ক্যালিফোর্নিয়া বি এন পি তথা যুক্তরাষ্ট্র বি এন পি’র নেতা-কর্মীদের সহজ সুযোগ রয়েছে- আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে বাংলাদেশের রাজনৈতিক অবস্থা তথা জনগণের আশা আকাঙ্খার কথা তুলে ধরার।আওয়ামী লীগ সংবিধানে যে সব পরিবর্তন এনেছে তার এক তৃতীয়াংশ করেছে তাদের নেতা, মতবাদ ও দলকে রক্ষা করার জন্য। বি এন পি আমলেই আওয়ামী লীগ নির্বাচনকালীন তত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে জাতীয় পার্টি ও জামাতে ইসলামী কে নিয়ে এক জোট করে ১৭৩ দিন হরতাল করেছিল। বেগম খালেদা জিয়া তার রাজনৈতিক দূরদর্শিতা দিয়ে সেদিন সেই দাবি মেনে নিয়েছিলেন। উনি স্বল্পতম সময়ে একটি নির্বাচন আয়োজন করে পার্লামেন্টের মাধ্যমে এই তত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা সংবিধানে সন্নিবেশিত করেছিলেন। বাংলাদেশে রাজনৈতিক দলগুলোর একে ওপরের উপর আস্থা নেই। এরূপ পরিস্থিতিতে বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে তত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থাই একটি যুগোপযোগী পদক্ষেপ। কারণ যারা সরকারে থাকেন তারা নির্বাচনকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করেন এবং অন্যরা নির্বাচন সঠিক হয়নি বলে দাবি তোলেন। সুতরাং তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার কিছু সমস্যা থাকলেও বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে সমসাময়িক সময়ে এটিই নির্বাচনকালীন সঠিক সরকার ব্যবস্থা। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে পর পর চারটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন হয়েছে। কিন্তু এই তত্বাবধায়ক ব্যবস্থাকে বাতিল করে তারা পূর্বাবস্থায় ফিরে গেছে। হাইকোর্টের একটি রায়ের মধ্য দিয়ে তত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতি আলোচনায় আসে। যার প্রেক্ষিতে একটি সংসদীয় কমিটি সকল রাজনৈতিক দলের সাথে আলোচনায় বসে। এই আওয়ামী লীগ সহ সকল রাজনৈতিক দল তত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতির পক্ষে মত দেয়। হাইকোর্টও আরো দুই টার্ম তত্বাবধায়কের অধীনে নির্বাচন আয়োজনের কথা বলে। কিন্তু বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তা বাতিল করে দিয়ে দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনে ফিরে গেছেন।

সেদিনই বেগম খালেদা জিয়া সাংবাদিক সম্মেলন করে বলেছিলেন, এর মধ্য দিয়ে জাতিকে একটি সংঘাতের দিকে ঠেলে দেয়া হল। এরই ধারাবাহিকতায় একটির পর একটি সংবিধান পরিবর্তন করে দেশকে একটি একদলীয় বাকশালী শাসন ব্যবস্থায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে। আমরা তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থায় অভ্যস্থ হয়ে উঠেছিলাম, যারা মধ্য দিয়ে জনগণ সরকার পরিবর্তন করতে পারতো। এখন আর সেটা সম্ভব না। রাষ্ট্র বিজ্ঞানীরা এটাকে সম্বোধন করেন হাইব্রিড রিজিম বলে।২০১৮ সালের নির্বাচন নিয়ে আমেরিকার ইলিনয় ইউনিভার্সিটির রাষ্ট্র বিজ্ঞানের প্রফেসর ডঃ আলী রিয়াজ একটি বই লিখেছেন “ভোটিং ইন হাইব্রিড রিজিম” নামে।
আজ ইনু সাহেবরা আওয়ামী লীগের সাথে জোট বেঁধে অনেক কথা বলেন। তার কাছে আমার প্রশ্ন, তারা আওয়ামী লীগ ছেড়ে ১৯৭২ সালে এসে কেন জাসদ তৈরী করেছিলেন? কেন গণ বাহিনী সৃষ্টি করেছিলেন? কেন আওয়ামী লীগ থেকে বেরিয়ে এসে শেখ মুজিবের বিরুদ্ধে সশস্ত্র যুদ্ধ শুরু করলেন?

জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেন, প্রথম কমিটির আমরা ২৯জন প্রতিদিন দলীয় কার্যালয়ে বসে রাজনৈতিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ করতাম। শহীদ জিয়া আমাদের কাছ থেকে বিরোধী দলের কর্মকান্ডের উপর মতামত নিতেন। তিনি দলের নেতাকর্মীর পাশাপাশি দলের শুভাকাঙ্খীদের মতামত নিতেন। বেগম খালেদা জিয়া এবং তারেক রহমানও দলের নেতাকর্মীর পাশাপাশি দলের শুভাকাঙ্খীদের মতামত নেন। দেশে আজ বহু সমস্যার কথা লুকিয়ে রাখতে সরকার রাষ্ট্রযন্ত্র ব্যবহার করে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়া, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ও তারুণ্যের অহংকার তারেক রহমানের নামে মিথ্যা অপবাদ, নিন্দা রটাচ্ছে। যে নিন্দা করে সেই অসম্মানিত হয়, যার নামে রটানো হয় সে অসম্মানিত হয় না। ছোটবেলায় পড়েছিলাম “নিন্দুকেরে বাসি আমি সবার চেয়ে ভালো, যুগ জন্মের বন্ধু আমার আধার ঘরের আলো। সবাই মোরে ছাড়তে পারে বন্ধু যারা আছে, নিন্দুক সে ছায়ার মত থাকবে পাশে পাশে।”
১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চ রাতে পোর্ট থেকে ফিরে তৎকালীন মেজর জিয়া তার পাকিস্তানী ড্রাইভারকে আন আর্মড করে ঘোষণা দিলেন ‘উই রিভোল্ট’। সেটাই বাংলাদেশের ইতিহাসে আনুষ্ঠানিক বিদ্রোহ ঘোষণা। তার ইউনিটের কমান্ডারকে গ্রেফতার করে সেনানিবাস থেকে বাঙালি অফিসারদের একত্র করে তিনি সম্মুখ লড়াইয়ে অবতীর্ন হয়েছিলেন। মেজর জিয়া কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন। সেদিন লক্ষ কোটি মানুষ তার সেই ঘোষণা শুনেছে। কিন্তু আজকে সেটা ভুলিয়ে দেবার চেষ্টা করা হচ্ছে। তারা বলছে তিনি ঘোষণা দেননি। এই বলায় কিছুই যায় আসে না। কারণ দেশের র্লক্ষ কোটি মানুষ তা শুনেছে। এমনকি আওয়ামী লীগের বহু নেতা তাদের লিখিত বইয়ে তার উল্লেখ করেছেন ইতিপূর্বে। ভারতের তৎকালীন রাষ্ট্রপতি নিলাম সঞ্জীবা রেড্ডি প্রেসিডেন্ট জিয়াকে বলেছিলেন, আপনিতো বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করে ইতিহাসে আপনার নাম লিপিবদ্ধ করেছেন। তিনি স্বাধীনতা ঘোষণা করে প্রথম ফোর্সেস কমান্ডার হিসেবে জেড ফোর্স নিয়ে যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন। তার পর আরো দুটো ফোর্স গঠিত হয়। সেই যুদ্ধ করে তিনি দেশ স্বাধীন করেছেন। তিনি যেমন সেই ক্রান্তিকালের নেতা আবার ১৯৭৫ সালের ক্রান্তিকালে তিনি দেশকে রক্ষা করেছেন। দেশকে পুনর্গঠনের দ্বায়িত্ব নিয়েছিলেন। আমরা আল্লার কাছে শুকরিয়া আদায় করি যে, আল্লাহ তাকে দেশের সেই সব ক্রান্তিলগ্নে ভূমিকা নিয়ে সফল হওয়ার তৌফিক দিয়েছিলেন। আবার ১৯৮৩ সালে একটি গণতান্ত্রিক সরকার হটিয়ে স্বৈরাচারী এরশাদ ক্ষমতায় এলে স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে যে লড়াই সেই ক্রান্তিকালে ভূমিকা রেখেছেন দেশ নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া। সকল বাধা বিপত্তি, সকল লোভ-লালসা, ষড়যন্ত্র পেরিয়ে তিন সফল হয়েছিলেন। আর বাংলাদেশের মানুষ ১৯৯১ সালে ভোট দিয়ে তাকে বিজয়ী করেছিল। আজকে দেশ বেনামে স্বৈরাচারের অধীনে। এরশাদের চেয়েও নিকৃষ্ট স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে আজকে তারেক রহমান সংগ্রামে নেতৃত্ব দিচ্ছেন। আজকে ২১ই আগস্টের বিচার কে প্রভাবিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। তারেক রহমানকে ফাঁসানোর চেষ্টা হচ্ছে। আমাদের সামনে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের বিকল্প নেই।

জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছে গণতন্ত্রের জন্য। আর এই সরকার গণতন্ত্রের পিলার -নির্বাচনী অধিকার কেড়ে নিয়ে বিচার ব্যবস্থা এবং দেশকে তাদের করায়ত্ত করেছে। তারা জনগণের অর্থনৈতিক অধিকার কেড়ে নিয়েছে। আওয়ামী লীগ চালিত দলীয় অর্থনীতি বাংলাদেশের অর্থনীতি ধ্বংস করেছে। এর মূল কারণ গণতন্ত্রের অভাব। জনগণকে বাইরে রেখে একদলীয় শাসনের কারণে জনগন অধিকার হারিয়েছে। দেশের মালিক দেশের জনগণ। বাংলাদেশ একটি আইডেন্টিটি ক্রাইসিসে পড়েছিল বলেই বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ এর ভিত্তিতে একটি মুক্ত বাংলাদেশ দিয়েছেন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। আমরা যাতে অন্য কোন রাষ্ট্রের স্যাটেলাইট রাষ্ট্রে পরিণত না হয় সেই জন্য তিনি মুক্ত বাজার অর্থনীতি প্রতিষ্ঠা করেন। যাতে কৃষক শ্রমিক পেশাজীবী যার যার কাজ করে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারে।তিনিই প্রথম বাংলাদেশ থেকে গার্মেন্টস শিল্প ও বিদেশে জন শক্তি রপ্তানির সূচনা করেছিলেন রাষ্ট্রীয়ভাবে।তার যুগান্তকারী পদক্ষেপ- শুল্কমুক্ত গার্মেন্টস কাঁচামাল আমদানি এবং বন্ডেড ওয়ার হাউস। তিনি মধ্যপ্রাচ্যের বন্ধু প্রতিম রাষ্ট্র গুলোর সাথে সম্পর্ক উন্নয়ন করে রাষ্ট্রীয় ভাবে জনশক্তি রপ্তানি শুরু করেন। আজকের উন্নয়ন জিডিপি আসছে সেখান থেকেই। বেগম খালেদা জিয়া সেইসব খাতকে আরো জোরদার করেছেন। বি এন পি’ই একমাত্র দল যারা ক্ষমতায় যেয়ে অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে সকল মৌলিক সংস্কার সাধন করেছে।আজ বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে আওয়ামীলীগ ফেল করেছে। তারা রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসের মাধ্যমে ক্ষমতায় টিকে রয়েছে। তারা একটি নিরপেক্ষ নির্বাচনে যেতে ভয় পায়। বাংলাদেশে একটি ফ্যাসিস্ট কর্তৃত্ববাদী স্বৈরাচারী আওয়ামী সরকার পেশী শক্তির মাধ্যমে টিকে রয়েছে। একটি সময় পর্যন্ত এইসব স্বৈরাচার টিকে থাকতে পারে, কিন্তু জনগণকে বাইরে রেখে এই স্বৈরাচার বেশিদিন টিকে থাকতে পারবে না।এরা দেশের মালিকানা কেড়ে নিয়েছে, জনগণের মৌলিক অধিকার ও অর্থনৈতিক অধিকার কেড়ে নিয়েছে। দল হিসেবে আমরা এগিয়ে যাচ্ছি। আমরা সকলে মিলে অচিরেই এই ফ্যাসিস্ট সরকারের পতন ঘটাতে পারবো।

চেয়ারপারসন উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য এবং ঢাকার সাবেক ডেপুটি মেয়র বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সালাম বলেন, দেশের স্বাধীনতা রক্ষার জন্য শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বি এন পি প্রতিষ্ঠা করেন। জিয়াউর রহমান মাত্র তিন বছর ক্ষমতায় ছিলেন। এই তিন বছরে তিনি দেশের সকল খাতকে স্বনির্ভর করে তোলেন।তাই তিনি এখনও জনপ্রিয়। তিনি দেশের সকল পেশার মানুষের কাজের নিশ্চয়তা দিয়েছিলেন। দেশের মানুষের মৌলিক অধিকার ফিরিয়ে দিয়েছেন। বাংলাদেশ যতদিন থাকবে জিয়াউর রহমান ততদিন মানুষের মনে বেঁচে থাকবেন। ১৯ দফা একটি ঐতিহাসিক দিক নির্দেশনা। আসুন সকলে তার জীবনী থেকে শিক্ষা গ্রহণ করি।

সাংগঠনিক সম্পাদক শ্যামা ওবায়েদ ইসলাম রিঙ্কু বলেন, দক্ষিণ এশিয়ার সবচেয়ে জনপ্রিয় দল বি এন পি। বি এন পি’তে দেশের সবচেয়ে বেশি দেশপ্রেমিক মুক্তিযোদ্ধা রয়েছেন। জনগণের মাঝে দল, দলের প্রতিষ্ঠাতা শহীদ জিয়া ও খালেদা জিয়ার জনপ্রিয়তায় আওয়ামীলীগ ঈর্ষান্বিত। তাই তারা একটি নিরপেক্ষ নির্বাচন দিতে ভয় পায়। স্বাধীনতার ক্রাইসিসে জিয়া এগিয়ে এসেছিলেন, ৭ই নভেম্বর , বি এন পি প্রতিষ্ঠাকালীন সময়ে, স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনেও বি এন পি এগিয়ে এসেছে। বি এন পি জনগণের সেবায় সবসময় এগিয়ে এসেছে। এই স্বৈরাচারী সরকারের নির্যাতনে আমরা ইলিয়াস আলী ও চৌধুরী আলম সহ ৫৩৭ জনকে হারিয়েছে। বহু দমন পীড়ন এর মধ্যেও দল এখনও ঐক্যবদ্ধ রয়েছে।

দলের সহ আন্তর্জাতিক সম্পাদক জনাব আনোয়ার হোসেন খোকন দেশে ও বিদেশে ঐক্যবদ্ধ ভাবে কর্মসূচি পালন করার উপর জোর দেন। তিনি বিদেশ থেকে বি এন পি নেতৃবৃন্দকে দেশের বি এন পি নেতৃবৃন্দকে উৎসাহ -উদ্দীপনা এবং সহযোগিতা করার আহবান জানান।

ক্যালিফোর্নিয়া বিএনপি সভাপতি বদরুল আলম চৌধুরী শিপলুর সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক এম ওয়াহিদ রহমানের সঞ্চালনায় ভার্চুয়াল আলোচনা সভায় আরো বক্তব্য রাখেন ক্যালিফোর্নিয়া বিএনপি’র সাবেক সভাপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরী কাঞ্চন, আব্দুল বাসিত, শামসুজ্জোহা বাবলু ও সিনিয়র সহসভাপতি মাহবুবুর রহমান শাহীন। ভার্চুয়াল সভায় ক্যালিফোর্নিয়া বি এন পি’র সহসভাপতি মোরশেদুল ইসলাম, ডাঃ নিয়াজ মুহাইমেন (সাবেক সাধারণ সম্পাদক), সাইফুল আনসারী চপল, মাতাব আহমেদ, অপু সাজ্জাদ, শওকত হোসেন আনজিন, সাইদ আবেদ নিপু, আহসান হাফিজ রুমি, মিকাইল খান রাসেল, শাহাদাৎ হোসেন শাহীন, হাসনাত খন্দকার, মিজান রহমান, নুরুল ইসলাম, আশরাফুল হক হেলাল, এলেন খান ইলিয়াস, আব্দুর রহিম, যুগ্ম সম্পাদক ফারুক হাওলাদার, সৈয়দ নাসির উদ্দিন জেবুল, মোয়াজ্জেম আহমেদ রাসেল, বদরুল আলম মাসুদ, দেলোয়ার জাহান চৌধুরী, রনি জামান, ইলিয়াস মিয়া, শাহীন হক, সাংগঠনিক সম্পাদক মারুফ খান ও লোকমান হুসেন, প্রচার সম্পাদক কামাল হোসেন তরুণ, দপ্তর সম্পাদক রেজাউল হায়দার চৌধুরী বাবু, আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ফয়সাল সালাম, শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক সাঈদ খান, মহিলা বিষয়ক সম্পাদক এডভোকেট শামসুন্ খান লাকি, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সম্পাদক আবুল খায়ের, পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক নয়ন বড়ুয়া পলাশ , খোরশেদ আলম রতন, হোসেন আহমেদ, খসরু রানা প্রমুখ সহ শতাধিক নেতাকর্মী অংশ নেন। সভার শুরুতে পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত করেন সহসভাপতি আফজাল হোসেন শিকদার। বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল হান্নান, সমাজসেবক মোসলেম খান, সাংবাদিক ফয়সাল আহমেদ তুহিন ও খায়রুজ্জামান মামুন, এমদাদুল হক মিলন সহ লস এঞ্জেলেসের বহু গন্যমান্য ব্যক্তি এই ভার্চুয়াল সভায় অংশ নেন।