মালদ্বীপ থেকে হযরত শাহজালাল বিমানবন্দরে পৌঁছান কুমিল্লার দাউদকান্দির মাইনুদ্দিন মিয়াজি মাইনুল। স্বজনরা যেখানে তাকে কাছে পেয়ে খুশি হবেন সেখানে বিমানবন্দরে তাকে নিয়ে মারামারিতে লিপ্ত হন তার দুই স্ত্রী। এবার সালিশী বৈঠকে দ্বিতীয় স্ত্রীকে বেছে নিলেন মাইনুল, প্রথম স্ত্রীকে দেবেন তালাক।

গতকাল সোমবার বিকেলে কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলার ইলিয়টগঞ্জ দক্ষিণ ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মো. মামুনুর রশিদের কার্যালয়ে টানা তিন ঘণ্টার সালিসি বৈঠকে প্রথম স্ত্রী সানজিদাকে তালাক দিয়ে দ্বিতীয় স্ত্রী তমাকে নিয়ে সংসার করার কথা জানান মাইনুদ্দিন।

এর আগে গত মঙ্গলবার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রবাসী মাইনুলকে নিয়ে তার দুই স্ত্রীর মধ্যে টানাহেঁচড়া ও মারামারির ঘটনা ঘটে। একপর্যায়ে বিমান বন্দরে নিয়োজিত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাদের বিমানবন্দর থানা পুলিশের কাছে তাদেরকে হস্তান্তর করা হয়। বিমানবন্দর থানা পুলিশ তাদেরকে স্থানীয় ও পারিবারিকভাবে সমাধানের জন্য মুচলেকা নিয়ে পরিবারের লোকজনের জিন্মায় তাদের হস্তান্তর করে। এ ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়।

মাইনুল দেশে ফেরার এক সপ্তাহ পর গতকাল সোমবার দাউদকান্দি উপজেলার ইলিয়টগঞ্জ দক্ষিণ ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মো. মামুনুর রশিদের কার্যালয়ে টানা ৩ ঘণ্টাব্যাপী চলে সালিশী বৈঠক। এতে প্রথম স্ত্রী সানজিদাকে তালাক দিয়ে দ্বিতীয় স্ত্রী তমাকে নিয়ে সংসার করার কথা জনান মালদ্বীপ প্রবাসী মাইনুদ্দিন মিয়াজি। অবশেষে স্বামীকে নিয়ে দুই স্ত্রীর দ্বন্দ্বের অবসান হলো সালিশী বৈঠকে।

সালিশের সিদ্ধান্ত মোতাবেক প্রথম স্ত্রীর ঘরের সন্তানকে ভরণপোষণ বাবদ প্রতি মাসে ২ হাজার টাকা ও ৫ শতক জমি লিখে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। উপস্থিত উভয় পরিবারের লোকজনের মতামতের ভিত্তিতে আগামী ১৫ দিনের মধ্যে প্রচলিত আইন মোতাবেক এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন হবে বলে জনান চেয়ারম্যান মো. মামুনুর রশিদ মামুন।

সালিসি বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন-কুমিল্লা উত্তর জেলা মহিলা লীগের সভাপতি শিরিন সুলতানা, দাউদকান্দি উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক বিল্লালুর রশিদ দোলন, যুবলীগ নেতা কামরুল হাসান প্রমুখ।