বাংলাদেশি অভিবাসী তরুণ রায়হান কবিরের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ আনতে পারেনি মালয়েশিয়া। শিগগিরই তাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠাবে দেশটি।

বুধবার দুপুরে মালয়েশিয়ায় রায়হানের আইনজীবী সুমিতা শান্তিনি কিষনা ও সেলভারাজ চিন্নিয়াহ ইংরেজি দৈনিক দ্য ডেইলি স্টারকে এ কথা বলেছেন।

করোনা পরিস্থিতিতে অভিবাসীদের প্রতি মালয়েশিয়া সরকারের আচরণ নিয়ে গণমাধ্যমে কথা বলায় গত ২৪ জুলাই রায়হান কবিরকে গ্রেপ্তার করে দেশটির পুলিশ।

৬ আগস্ট আদালতে হাজির করা হলে তাকে ১৩ দিনের রিমান্ড দেয়া হয়। আজ রায়হানের রিমান্ড শেষ হয়েছে।

আইনজীবী সুমিতা বলেন, ‘রায়হানের বিরুদ্ধে মালয়েশিয়ায় কোনো অভিযোগ গঠন করা হয়নি। ইমিগ্রেশন পুলিশ তাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠোনোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ফেরত পাঠানোর আগে রায়হানের করোনা পরীক্ষা করা হবে। এরপর উড়োজাহাজের টিকিট প্রাপ্তি সাপেক্ষে তাকে দেশে ফেরত পাঠানো হবে। আমরা আশা করছি, চলতি সপ্তাতেই সে দেশে ফিরতে পারবে।’

এর আগে ৫ আগস্ট মালয়েশিয়ার ইমিগ্রেশন বিভাগের মহাপরিচালক খায়রুল দিজাইমি দাউদ সংবাদ সম্মেলনে বলেছিলেন, মালয়েশিয়া থেকে বাংলাদেশের পরবর্তী ফ্লাইট যাবে ৩১ আগস্ট। সেই ফ্লাইটে তাকে পাঠানো হবে।’

তিনি আরও বলেছিলেন, রায়হান আর মালয়েশিয়া যেতে পারবেন না। কারণ তাকে কালো তালিকাভুক্ত করা হবে।

গত ৩ জুলাই আলজাজিরার ‘লকডআপ’ শিরোনামের একটি প্রামাণ্যচিত্রে দাবি করা হয়েছিল, লকডাউনের সময় অভিবাসী শ্রমিকদের সঙ্গে বৈষম্যমূলক আচরণ করেছে মালয়েশিয়া কর্র্তৃপক্ষ। তাতে দেওয়া সাক্ষাৎকারে রায়হান কবির নামের ওই বাংলাদেশি বৈষম্য ও নিপীড়নের প্রতিবাদ করেন।

এই ঘটনায় মালয়েশিয়া কর্র্তৃপক্ষ ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে রায়হান কবিরের ওয়ার্ক পারমিট (ভিসা) বাতিলের ঘোষণা দেয়। এরপর তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে দেশটি।

রায়হান কবিরের বাড়ি বাংলাদেশের নারায়ণগঞ্জের বন্দর থানায়। তার বাবা আশরাফুল আলম একটি পোশাক কারখানায় চাকরি করেন। রায়হান ২০১৪ সালে তোলারাম কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিক পাস করে মালয়েশিয়া চলে যান। সেখানেই বিএ পাস করেন।