প্রয়াত প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানকে বিতর্কিত করার হীন উদ্দেশ্যে মিথ্যা অপপ্রচার চলছে দাবি করে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ১৫ আগস্টের হত্যাকারীদের ইনডেমনিটি দিয়েছিল খন্দকার মোশতাক, জিয়াউর রহমান নয়।

মঙ্গলবার বিকেলে গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। জিয়াউর রহমান সম্পর্কে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ষড়যন্ত্রমূলক মিথ্যাচারের প্রতিবাদে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

মির্জা ফখরুল বলেন, গত ১৫ আগস্ট সরকার প্রধানের জিয়াউর রহমানের ঐতিহাসিক ভূমিকাকে বিকৃত করার মাধ্যমে অপচেষ্টা নতুনভাবে শুরু করা হলো। অবশ্য বহুদিন ধরেই এই ষড়যন্ত্রের অপচেষ্টা চলছে। কিন্তু কখনোই তা হালে পানি পায়নি।

গোটা বিশ্ব যখন করোনা আতঙ্কে দুশ্চিন্তাগ্রস্ত এবং চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় জাতীয় ঐকমত্যই যখন সর্বস্তরের জনগণের দাবি তখন সরকারের প্রধান ব্যক্তির মুখে ইতিহাস বিকৃত করার এই ঘৃণ্য অপচেষ্টা গোটা জাতিকে হতাশ ও ক্ষুব্ধ করেছে। আমরা নিন্দাভরে এই ঘৃণ্য অপচেষ্টার প্রতিবাদ জানাই।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, ১৫ আগস্টের হত্যা মামলায় ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত এক আসামিকে দিয়ে বন্দী অবস্থায় দেশের আইন, আদালত, শাসনব্যবস্থাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে বেআইনিভাবে মিথ্যা ও ভিত্তিহীন বিদ্বেষমূলক বক্তব্যের ধারণকৃত ভিডিও উদ্দেশ্যমূলকভাবে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রচারে বাধ্য করা হয়েছে। একই সঙ্গে বেতনভুক্ত সাইবার ফোর্স নিয়োগ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ভাইরাল করা হয়েছে। দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী ১৫ আগস্ট হত্যা মামলার সব আসামিকে যথাযথ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দোষী সাব্যস্ত করা এবং রায় কার্যকর করার পর্ব প্রায় সম্পন্ন হতে চলেছে। এমতাবস্থায় আইনিভাবে এ ধরনের বক্তব্যের কোনো সাক্ষ্য মূল্য নাই।

বিএনপি মহাসচিব আরও বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাস সম্পর্কে যাদের সম্যক ধারণা আছে তারা সবাই জানেন, ১৫ আগস্ট হত্যাকাণ্ড ঘটেছিল আওয়ামী লীগের অন্যতম শীর্ষ নেতা খন্দকার মোশতাক আহমেদের নেতৃত্বে।

তিনি বলেন, মাজেদের কথিত জবানবন্দিতে বয়ান করা হয়েছে ১৫ আগস্ট হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বিদেশে পাঠিয়েছিলেন। প্রধানমন্ত্রী নিজেও ১৯৭৫ সালের ঘটনার নায়কদের ইনডেমনিটির রেফারেন্স দিয়ে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে ১৫ আগস্ট হত্যাকাণ্ডের মদদদাতা হিসেবে অভিযুক্ত করেছেন। অথচ জাতি জানে, প্রকৃতপক্ষে সরকারপ্রধান নিজেও জানেন, ওই সময়ের ঘটনার নায়কদের ইনডেমনিটি দেওয়া হয়েছিল ১৯৭৫ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর তৎকালীন রাষ্ট্রপতি খন্দকার মোশতাক কর্তৃক, জিয়াউর রহমান নয়। এই অধ্যাদেশটি ১৯৭৫ সালের অধ্যাদেশ ৫০ নামে অভিহিত। ‘দ্য বাংলাদেশ গেজেটে’ প্রকাশিত অধ্যাদেশটিতে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি খন্দকার মোশতাক আহমেদ ও আইন বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব এম এইচ রহমানের সই রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, আমাদের দলের পক্ষ থেকে আমাদের নেত্রী খালেদা জিয়া জাতীয় ঐক্যের জন্য বারবার উদ্যোগ নিয়েছেন। মরহুম রাষ্ট্রপতি শেখ মুজিবুর রহমানের কবর জিয়ারত করাসহ নানা তৎপরতার মাধ্যমে তিনি তার উদ্যোগের এই বার্তা দেশবাসীকে দিয়েছেন বারবার। কিন্তু চলমান অপতৎপরতায় প্রমাণিত হয় ক্ষমতাসীন মহল জাতিকে বিভক্ত করে সংকীর্ণ স্বার্থ অন্বেষণেই ব্যস্ত।

তিনি প্রয়াত প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান, খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানকে নিয়ে প্রোপাগান্ডা অবিলম্বে বন্ধ করার আহ্বান জানান।