লস এঞ্জেলেস্থ বাংলাদেশ কনস্যুলেটে যাথাযোগ্য মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৫তম শাহাদাত বার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস পালিত হয়েছে। চলমান বৈশ্বিক করোনা মহামারী, বিশেষ করে লস এঞ্জেলেসে করোনা পরিস্থিতি অবনতির কারণে স্থানীয় সরকারের স্বাস্থ্য সুরক্ষাবিধি প্রতিপালন করে কনস্যুলেরে বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক কেন্দ্রে বিভিন্ন কর্মসূচীর মাধ্যমে জাতীয় শোক দিবসের অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়।

কনসাল জেনারেল কর্তৃক জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত করণের মধ্য দিয়ে জাতীয় শোক দিবসের কর্মসূচীর সূচনা হয়। এরপর চ্যান্সেরীর বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক কেন্দ্রে স্থাপিত জাতির পিতার ম্যুরালে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে সম্মান জানানো হয়। ধর্মগ্রস্থ থেকে পাঠ করার পর জাতির পিতা, বঙ্গমাতা, তাদের পরিবারের নিহত সকল সদস্য ও অন্যান্য শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এক মিনিট নিরবতা পালন করা হয়। এরপর জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষ্যে প্রেরিত মহামান্য রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, পররাষ্ট্র মন্ত্রী এবং পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর বাণী পাঠ করা হয়।

অনুষ্ঠানে জাতির পিতার জীবন কাহিনীর উপর নির্মিত একটি প্রামাণ্যচিত্র ‘বঙ্গবন্ধু-বজ্রে তোমার বাজে বাঁশি’ প্রদর্শিত হয়। শোক দিবসের তাৎপর্যের উপর আলোচনা শেষে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও তার পরিবারের সকল শহিদ সদস্য এবং অন্যান্যদের রূহের মাগফেরাত কামনা করে দোয়া ও মোনাজাত করা হয়। জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষ্যে কনস্যুলেটের উদ্যোগে যুক্তরাষ্ট্রের বহুল প্রচারিত দৈনিক ‘লস এঞ্জেলেস টাইমস’ এ মহামান্য রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর বাণী প্রকাশিত হয়।

লস এঞ্জেলেসে নিযুক্ত বাংলাদেশের কনসাল জেনারেল তারেক মোহাম্মদ তার বক্তব্য জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে তার দূরদর্শী ও সাহসী নেতৃত্ব এবং অবিস্মরণীয় অবদানের কথা স্মরণ করেন।

তিনি উল্লেখ করেন, বঙ্গবন্ধু তার নিজস্ব স্বকীয়তায় আজ বিশ্বের দরবারে বাঙ্গলী জাতির অবিসংবাদিত নেতা হিসেবে সম্মানিত।

তিনি বলেন, ‘স্বাধীনতাবিরোধী ঘাতকচক্র ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যা করলেও তার আদর্শ ও নীতিকে মুছে ফেলতে পারেনি।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে সরকার এ জঘন্য হত্যাকান্ডে জড়িত ঘাতকচক্রকে বিচারের আওতায় এনে বাঙ্গালী জাতিকে এই ঘৃণ্যতম অপরাধের গ্লানি থেকে মুক্তি দিয়েছেন।

তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, বিদেশে পালাতক বাকী সাজাপ্রাপ্ত আসামীদেরকে শীঘ্রই দেশে ফিরিয়ে এনে তাদের বিচারের রায় কার্যকরের মাধ্যমে বিচার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে। কনসাল জেনারেল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গৃহীত উন্নয়ন কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নের মাধ্যমে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সকলকে যার যার অবস্থান থেকে সহযোগিতার জন্য আহ্বান জানান।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন নেছা মুজিবসহ তাদের পরিবারের শাহাদত বারণকারী সকল সদস্য ও মুক্তিযুদ্ধের সকল শহীদদের রূহের মাগফেরাত এবং দেশের শান্তি, মঙ্গল ও উন্নয়ন কামনা করে বিশেষ দোয়ার মাধ্যমে অনুষ্ঠান শেষ করা হয়।