লেবাননের রাজধানী বৈরুতে ভয়াবহ জোড়া বিস্ফোরণের ঘটনায় দেশটির সরকার প্রবল ক্ষোভের মুখে পড়েছে।

আলজাজিরা জানায়, চাপের মুখে থাকা লেবানন সরকারের দুইজন মন্ত্রী এবং নয়জন এমপি পদত্যাগ করেছেন।

গত মঙ্গলবারের বিস্ফোরণের ঘটনায় রবিবার দেশটির তথ্য মন্ত্রী মানাল আবদেল সামাদ এবং পরিবেশ মন্ত্রী কাত্তার ডেমিয়ানোস পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন।

এখন পর্যন্ত পার্লামেন্ট থেকে পদত্যাগ করেছেন নয়জন এমপি।

পদত্যাগ করা এমপিরা হচ্ছেন, মারওয়ান হামাদেহ, পাউলা ইয়াকুবিয়ান, নাদিম গেমায়েল, সামি গেমায়েল, ইলিয়াস হানকাস, নেমাত এফরেম, মিখায়েল মওয়াদ, দিমা জামালি, হেনরি হেলু।

ভূ-মধ্যসাগরীয় দেশ লেবাননে ভয়াবহ বিস্ফোরণের পর সরকারবিরোধী আন্দোলন তীব্র থেকে তীব্রতর হচ্ছে।

এর মধ্যে সাবেক সেনা কর্মকর্তাদের নেতৃত্বে সাধারণ মানুষ ইতিমধ্যে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দখল করেছে।

এমন অবস্থায় আগাম নির্বাচনের ঘোষণা দেওয়ার কথা ভাবছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী হাসান দিয়াব।

ডেমিয়ানোস রবিবার বিকেলে বিবৃতিতে বলেন, ‘বৈরুত বিস্ফোরণের ভুক্তভোগীদের প্রতি সংহতি জানাতে আমি পদত্যাগ করলাম।’

এই বিস্ফোরণের ঘটনায় এখন পর্যন্ত ২০০ জন মারা গেছেন। আহত হয়েছেন ৬ হাজার মানুষ। নিহতদের মধ্যে বাংলাদেশি আছেন পাঁচজন।

বৈরুতের বন্দরের একটি রাসায়নিকের গুদাম থেকে ওই বিস্ফোরণ ঘটে। গুদামটিতে প্রায় ২ হাজার ৭৫০ টন অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট মজুদ ছিল এবং তাই বিস্ফোরিত হয়েছিল মঙ্গলবার।

এত বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরক দ্রব্য মজুতের জন্য সরকারের অবহেলাকে দায়ী করে দেশজুড়ে বিক্ষোভে নামে লেবাননবাসী।

ডেমিয়ানোস লেবাননের বর্তমান শাসন পদ্ধতিকে নড়বড়ে আখ্যা দিয়ে বলেছেন, ‘সংস্কারের চেষ্টা আগে বেশ কয়েকবার ব্যর্থ হয়েছে।’

জোড়া বিস্ফোরণের জন্য লেবাননের সাধারণ মানুষ প্রশাসনের ‘অবহেলা এবং অব্যবস্থাপনা’কে দায়ী করছেন।

বিশ্লেষকেরা বলছেন, রাজনীতির অভিজাত শ্রেণির দুর্নীতি, অব্যবস্থাপনার অভিযোগে এমনিতেই ক্ষুব্ধ ছিল লেবাননের জনগণ। তার ওপর ভয়ংকর বিস্ফোরণে রাতারাতি ব্যাপক হতাহত ও ক্ষয়ক্ষতি এবং রাতারাতি তিন লাখ মানুষের গৃহহীন হয়ে পড়ার ঘটনা সেই ক্ষোভে ঘি ঢেলেছে।