Read Time:4 Minute, 15 Second

করোনাভাইরাসজনিত কভিড-১৯ এর ভ্যাকসিন পাওয়া গেলে তা সবার জন্য ফ্রি করা যায় কি-না বিষয়টি যুক্তরাষ্ট্র সরকারও ভেবে দেখছে বলে জানালেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। চলতি বছরের শেষ দিকে কার্যকরী ভ্যাকসিন হাতে পাওয়ার ব্যাপারেও আশাবাদ প্রকাশ করেছেন বিশ্বের সবচেয়ে ক্ষমতাধর ও করোনায় পর্যুদস্ত দেশটির প্রেসিডেন্ট।

প্রাণঘাতী এই ভাইরাসের ভ্যাকসিন আবিষ্কারে ওষুধ প্রস্তুতকারক জায়ান্ট কোম্পানি গ্ল্যাক্সোস্মিথক্লাইনের সাবেক এক প্রধানকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন ট্রাম্প। কভিড-১৯ এর ভ্যাকসিন আবিষ্কারের এই অভিযানকে তার প্রশাসন নাম দিয়েছে ‘অপারেশন ওয়ার্প স্পিড’।

হোয়াইট হাউসের রোজ গার্ডেনে সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প বলেন, “নিকট ভবিষ্যতেই আমরা একটা ভ্যাকসিন পেতে যাচ্ছি। ‘অপারেশন ওয়ার্প স্পিড’ শুরু হয়েছে। এর অর্থ বিশাল আয়োজন, দ্রুততা। ‘ম্যানহাটন প্রজেক্টের’ পর এত বেশি বৈজ্ঞানিক, লজিস্টিক প্রচেষ্টা আমাদের দেশ আর দেখেনি।”

“বছরের শেষ নাগাদই আমরা এটা পেতে পারি। আমি মনে করি, খুব দ্রুত সময়ের মধ্যেই আমরা কিছু ভালো খবর পাব।”

ভ্যাকসিন পাওয়া গেলে তা সবার জন্য ফ্রি, সহজলভ্য করা যায় কি-না তাও ভেবে দেখা হচ্ছে বলে জানালেন ট্রাম্প, “সত্যিকার অর্থেই, আমরা এটা বিবেচনা করছি।”

কভিড-১৯ এর কার্যকরী কোনো ভ্যাকসিন বা চিকিৎসা পাওয়া গেলে তা বিশ্বজুড়ে সবার জন্য ফ্রি ও সহজলভ্য হওয়া উচিত বলে এরই মধ্যে মত দিয়েছেন বিশ্বের বর্তমান ও অতীত অনেক নেতা।

বৃহস্পতিবার এক খোলা চিঠিতে তারা বলেন, ভ্যাকসিন জাতিগুলোর মধ্যে ভাগাভাগি না করলে কোনো ভ্যাকসিনই করোনাভাইরাস বিতাড়িত করতে পারবে না।

গত বছরের ডিসেম্বরের শেষ দিকে চীনের উহানে করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের পর বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়তে খুব বেশি সময় লাগেনি। এর মধ্যে বিশ্বে এই ভাইরাসে আক্রান্ত ছাড়িয়েছে ৪৫ লাখ ৫০ হাজার ছাড়িয়েছে; মৃত্যু ছাড়িয়েছে ৩ লাখ।

এখন পর্যন্ত করোনাভাইরাসের কার্যকরী কোনো ওষুধ বা ভ্যাকসিনের সন্ধান মেলেনি। ট্রাম্প জানিয়েছেন, জানুয়ারি থেকেই ভ্যাকসিন আবিষ্কারের চেষ্টায় আছে তার দেশ। কিন্তু বিশেষজ্ঞরা বলছেন, খুব দ্রুত হলেও একটা ভ্যাকসিন আবিষ্কারে অন্তত ১৮ মাস সময় লাগে।

আশার বাণী শুনিয়ে ফক্স বিজনেস নেটওয়ার্ককে যুক্তরাষ্ট্রের হেলথ অ্যান্ড হিউম্যান মন্ত্রী অ্যালেক্স আজার বলেন, “আমরা এরই মধ্যে ১০০টি সম্ভাব্য ভ্যাকসিনের নমুনা পেয়েছি। এখন আমরা এগুলো কমিয়ে আসল গ্রুপে নিয়ে আসার চেষ্টা করছি। নিজেরাই যাতে প্রচুর পরিমাণে ভ্যাকসিন উৎপাদন করতে পারি সে জন্য লাখ লাখ ডলার খরচ করা হচ্ছে।”

“আমরা আশাবাদী, বছরের শেষ নাগাদ এক বা একাধিক নিরাপদ ও কার্যকরী ভ্যাকসিনের লাখ লাখ ডোজ পাব।”

Happy
Happy
0 %
Sad
Sad
0 %
Excited
Excited
0 %
Sleepy
Sleepy
0 %
Angry
Angry
0 %
Surprise
Surprise
0 %
Previous post সব চালুর ঘোষণা ট্রাম্পের
Next post মাউথওয়াশে ধ্বংস হবে করোনাভাইরাস
Close