ব্রুনাইভিত্তিক পাঁচ ভিসা ব্যবসায়ীর বাংলাদেশি পাসপোর্ট বাতিল করেছে বহির্গমন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তর। এদের বিরুদ্ধে ব্রুনাইতে ভিসা ব্যবসা, মানবপাচার ও প্রবাসী বাংলাদেশি শ্রমিকদের নির্যাতনের অভিযোগ রয়েছে। 

ব্রুনাইতে বাংলাদেশ হাইকমিশনের অভিযোগের ভিত্তিতে সম্প্রতি ওই পাঁচ ব্যক্তির পাসপোর্ট বাতিলের আদেশ জারি করা হয়েছে। যে পাঁচজনের পাসপোর্ট বাতিল করা হয়েছে তারা হলেন- দেলোয়ার মো. আ. লতিফ (পাসপোর্ট নং বিপি-০৩২৮১৫০), জসিম সরকার (বিআর-০৭৭৩৪৬০), মোহাম্মদ সুহেল আহমেদ (বিপি-০১৯৬৫২২), রবিউল হাবিবুর রহমান (বিসি-০৪১১৭৪৬) এবং জাকির হোসেন (বিএম-০৪২১৮২১)। 

গত ২৯ সেপ্টেম্বর এদের পাসপোর্ট বাতিলের আদেশ জারি করে বহির্গমন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তর। জানা গেছে, গত আগস্ট মাসে ব্রুনাইতে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার এয়ার ভাইস মার্শাল (অব.) মাহমুদ হোসেন ওই পাঁচ ব্যক্তির বিভিন্ন অপরাধের বিবরণ দিয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা সেবা বিভাগের সচিবের কাছে চিঠি দেন। চিঠিতে তাদের বাংলাদেশি পাসপোর্ট বাতিলের অনুরোধ জানানো হয়।

চিঠিতে জানানো হয়, ব্রুনাই দারুসসালামে তৎপর কতিপয় বাংলাদেশি আদম ব্যবসায়ী ও ভিসা দালাল প্রায়ই বাস্তব কর্মসংস্থান না থাকা সত্ত্বেও যোগসাজশের মাধ্যমে বাংলাদেশি নাগরিকদের নামে ভিসা ইস্যুর ব্যবস্থা করে শ্রমিক আনছেন। অসাধু চক্রের জালিয়াতির কারণে ব্রুনাইতে বাংলাদেশি শ্রমিকের অভিবাসন ব্যয় বেড়ে গেছে। বাংলাদেশ থেকে শ্রমিক এনে কোনো রকম বেতন-ভাতা ছাড়াই ভিসা বাতিলের ব্যবস্থা করে দেশে ফেরত পাঠানো, শ্রমিক নির্যাতন, শ্রমিকদেরকে বেআইনি কাজে নিযুক্ত করাসহ নানা অপরাধে এরা জড়িত। এ ছাড়া এ চক্র ব্রুনাইতে অন্যান্য নানা অপরাধে জড়িত। দালাল চক্রের প্রতারণার কারণে ব্রুনাইতে বাংলাদেশের শ্রমবাজার দারুণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

বাংলাদেশ হাইকমিশনের চিঠিতে বাংলাদেশের বিমানবন্দর থেকে ব্রুনাইগামী শ্রমিক যাতে ভিসা সত্যায়ন ছাড়া ‘বডি কন্ট্রাক্ট’-এর নামে ইমিগ্রেশন পার হতে না পারে, তার ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়। ব্রুনাইতে বর্তমানে ৩০ হাজার বাংলাদেশি কর্মরত এবং আগামী বছর দুটি বৃহৎ উন্নয়ন প্রকল্পে প্রায় ৪০ হাজার বাংলাদেশির কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়।