ফিরোজ মাহবুব কামাল

দেওবন্দি ফেরকার ভা্রতীয় সংগঠন “জমিয়তে উলামায়ে হিন্দ”এর নেতাগণ আবার তাদের আসল চেহারাকে বিশ্ববাসীর সামনে তুলে ধরলো। ১৯৪৭ সালে এ সংগঠনটি এবং তার নেতা হোসেন আহম্মদ মাদানী মুসলিমদের জন্য স্বাধীন ভূমি পাকিস্তান চায়নি। তারা আজ মজলুম কাশ্মীরী মুসলিমদের স্বাধীনতাও চায়না। তারা চায় গলায় হিন্দুদের গোলামীর জিঞ্জিন নিয়ে বাঁচতে। তাই তাদের নেতা মাহমুদ মাদানী দিল্লির এক জনসভায় নরেন্দ্র মোদীর শাসনতন্ত্রের ৩৭০ ধারা বাতিল করে কাশ্মীরকে ভারতভূক্ত করাকে সমর্থণ করেছেন। এমনকি সমর্থণ করেছেন নাগরিকত্ব রেজিস্ট্রেশনের নামে মোদী সরকার মুসলিমদের বিদেশী রূপে ভারত থেকে বহিস্কারের যে উদ্যোগ নিয়েছে -সেটিকেও। অথচ কংগ্রেস এবং তৃণমূল কংগ্রেসসহ ভারতের অধিকাংশ বিরোধী দল মোদীর এ মুসলিম বিরোধী উদ্যোগের বিরোধীতা করছে।

কাশ্মীরে মোতায়েনকৃত ভারতের ৬ লাখ সৈন্য সেখানে যে বর্বর জুলুম চাল্লাচ্ছে -তার বিরুদ্ধে জনাব মাহমুদ মাদানী একটি কথাও বলেননি। বরং হিন্দু গুন্ডাদের সুরে তিনিও সে জনসভায় বলেছেন, “কাশ্মীর আমাদের ছিল এবং আমাদেরই থাকবে।” মাহমুদ মাদানীর ভাষণের বিবরণ কলকাতার দৈনিক আনন্দবাজার পত্রিকা ১২/০৯/২০১৯ তারিখে প্রথম পৃষ্টায় ছবিসহ ছেপেছে। ভারতের দালালী করে কথা না বললে আনন্দবাজার পত্রিকা তার মত এক বিবেকশূণ্য ও মানবতাশূণ্য ব্যক্তির কথা এত গুরুত্ব দিয়ে কখনোই ছাপতো না।  

প্রশ্ন হলো, জনাব মাহমুদ মাদানী কি ভূলে গেছেন এক কালের খেলাফত আন্দোলন এবং পরবর্তীতে কংগ্রেসের বিখ্যাত নেতা আবুল কালাম আযাদের কথা? তিনি তার সম্পাদিত আল হেলাল পত্রিকায় লিখেছিলেন, “বলকানে যুদ্ধরত কোন তুর্কি সৈনিকের পা যদি গুলিবিদ্ধ, আর সেগুলির ব্যাথা তুমি যদি হৃদয়ে অনুভব না করো, তবে খোদার কছম তুমি মুসলিম নও”। (সূত্রঃ মাওলানা আবুল কালাম আযাদ রচনাবলি, প্রকাশনায় ইসলামী ফাউন্ডেশন, ঢাকা।)“ অথচ আজ কাশ্মীরী মুসলিমদের পা নয়, গুলিবিদ্ধ হচ্ছে তাদের বুক। সে গুলিতে তারা লাগাতর শহীদ হচ্ছে। এক লাখেরও বেশী কাশ্মীরী ইতিমধ্যে ভারতীয় সেনাবাহিনীর গুলিতে শহীদ হয়ে গেছে। এবং সে ধারা বর্তমানে আরো তীব্রতর হয়েছে। হিন্দুদের হাতে ধর্ষিতা হয়েছে হাজার হাজার মুসলিম মহিলা। পঙ্গু হয়েছে বহু হাজার। শত শত মানুষ অন্ধ হয়েছে চোখে পেলেট গুলি লাগাতে। গায়েব করা হয়েছে ১০ হাজার মুসলিম যুবকে। এতো জুলুম দেখে নীরব থাকলে কি ঈমান থাকে?

কাশ্মীরী নরনারীগণ ভারতের গোলামী থেকে মুক্তি পা্‌ওয়ার জন্য জিহাদে নেমেছে। কাশ্মীরী মুসলিমদের জিহাদ যে শতভাগ বিশুদ্ধ জিহাদ -তা নিয়ে কি বিন্দুমাত্র সন্দেহ থাকে? কোন মুসলিম ভূমি কাফেরদের হাতে অধিকৃত হলে জিহাদ যে সেখানে ফরজে আইন হয়ে যায় -সে শরিয়তি বিধান কি জমিয়তে উলামায়ে হিন্দের নেতাগণ জানে না? অথচ সে জিহাদের পক্ষেও তাদের মুখে কোন কথা নাই। জিহাদ যে শরিয়তের অপরিহার্য বিধান সে কথাও তারা মুখে আনে না। অথচ যে কোন কাফের অধিকৃত ভূমিত জিহাদে নামা ও জিহাদে নেতৃত্ব দেয়ার দায়িত্ব ছিল তো তাদের যারা নিজেদের আলেম রূপে পরিচয় দেয়। মুসলিম শরীফের সে প্রসিদ্ধ হাদীস কি তারা একবারও পড়েনি যাতে বলা হয়েছেঃ “যে ব্যক্তি জীবনে কোনদিন জিহাদ করেনি এবং জিহাদের নিয়েতও করেনি, সে ব্যক্তি মুনাফিক।” তাই কিছু অন্ধ ও পঙ্গু ব্যক্তি ছাড়া নবীজী (সাঃ)র সাহাবাদের মাঝে এমন একজনও  খুঁঝে পাওয়া যাবে না যিনি জিহাদ করেননি। কথা হলো, দেওবন্দি হুজুরগণ কি পঙ্গু? পঙ্গু না হলে মুনাফিক হওয়া থেকে বাঁচার ফিকর কি তাদের আছে? কাফেরগণ ঘরে ঢুকে খুণ, ধর্ষণ ও অত্যাচার শুরু করলেও যদি জিহাদ ফরজ না হয়, তবে আর কবে জিহাদ ফরজ হবে?

শুধু কাশ্মীর নয়, সমগ্র ভারত জুড়ে মুসলিমদের উপর আজ মহাদুর্দিন। এর মূল কারণ শুধু বিজিপি, আর, এস. এস, বিশ্বহিন্দু পরিষদ, বজরং দলের ন্যায় সন্ত্রাসী হিন্দু সংগঠন এবং তাদের হত্যাপাগল নেতাগণ নয়, বরং জমিয়তে উলামায়ে হিন্দের ন্যায় সংগঠন ও তাদের হিন্দুসেবী নেতাগণও। যারা মুসলিম উম্মাহকে পথ দেখাবে তারাই আজ সবচেয়ে বেশী পথভ্রষ্ট। তাদের রাজনীতির মূল লক্ষ্য ইসলাম ও মুসলিম স্বার্থ্যের প্রতিরক্ষা দেয়া নয়, বরং হিন্দু ও হিন্দুভারতকে শক্তিশালী দেয়া। সেটি যেমন ১৯৪৭য়ে ছিল, এখনও সেটিই চলছে। কোর’আনে বর্ণিত বনি ইসরাইলের আলেমদের ন্যায় এরাও ধর্মকে রুটি-রুজীর ব্যবসায়ে পরিণত করেছে। ফলে সেক্যুলারিস্টদের ন্যায় তাদের কাছেও পবিত্র জিহাদ সন্ত্রাস রূপে চিহ্নিত হচ্ছে।