প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ছাত্রলীগকে সততা ও আদর্শ নিয়ে সংযমের সঙ্গে চলতে হবে। ছাত্রলীগ নিয়ে আর কোনো নালিশ (অভিযোগ) শুনতে চাই না। ছাত্রলীগের পর যুবলীগ ধরেছি। এ অবস্থায় নিজেদের ইমেজ বাড়াতে হবে। নীতি-আদর্শ নিয়ে সংযমের সঙ্গে চলতে হবে।

গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ছাত্রলীগ নেতারা গণভবনে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গেলে শেখ হাসিনা এসব কথা বলেন। এদিন ছাত্রলীগের নতুন ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয় ও ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্যের নেতৃত্বে সংগঠনের কেন্দ্রীয়, মহানগর ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় নেতারা দেখা করতে আসেন। এ সময় তারা তাদের সাংগঠনিক নেত্রীর হাতে ফুলের তোড়া তুলে দেন। গণভবনে উপস্থিত নেতাদের সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ছাত্রলীগের পর এখন যুবলীগকেও সংশোধন করছি। সমাজের অসঙ্গতিগুলো এখন দূর করব। একে একে এসব ধরতে হবে। আমি করব।  জানি কঠিন কাজ, কিন্তু করব।’

ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুর আদর্শের পথে চলতে না পারলে আওয়ামী লীগের সঙ্গে কারোর রাজনীতি করার প্রয়োজন নেই। আমি দিনরাত পরিশ্রম করে যাচ্ছি জনগণের জন্য। জনগণের মাঝে যেন ইতিবাচক ভাবমূর্তি থাকে। ছাত্রলীগকেও মানুষের পাশে থাকতে হবে। সবার আস্থা-বিশ্বাস অর্জন করতে হবে।’

ছাত্রলীগ নেতাদের উদ্দেশে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও বঙ্গমাতা বেগম শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিবসহ নিজের ও পরিবারের অন্য সদস্যদের সঙ্গে দেশের ঐতিহ্যবাহী এই ছাত্র সংগঠনের সম্পর্কের বিভিন্ন স্মৃতিচারণা করেন আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। একই সঙ্গে ছাত্রজীবনে ছাত্রলীগ কর্মী হিসেবে আন্দোলন-সংগ্রামে নিজের অংশগ্রহণের কথাও তুলে ধরেন তিনি।

ছাত্রলীগকে গতিশীল করতে নিয়মিত কর্মশালা ও পাঠচক্র করার নির্দেশ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দ্রুত সারাদেশে সাংগঠনিক সফরে বের হতে হবে। সব জায়গায় সংগঠনকে গতিশীল করতে হবে।

এ সময় মেট্রোরেলের কারণে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ শিক্ষার্থীদের সুবিধার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের সুযোগ-সুবিধা বাড়াতে নতুন করে যা যা করা দরকার, সরকার করবে। টিএসসিসহ অন্যসব স্থাপনা আধুনিক করে দেওয়া হবে।

সাক্ষাৎ শেষে লেখক ভট্টাচার্য সমকালকে বলেন, ‘ছাত্রলীগের লাইফস্টাইল কেমন হওয়া উচিত তা প্রধানমন্ত্রী উদাহরণের মাধ্যমে আমাদের বুঝিয়েছেন। উদাহরণ হিসেবে তিনি বঙ্গবন্ধু ছাত্রলীগকে কীভাবে পরিচালনা করতেন এবং প্রধানমন্ত্রী নিজে কীভাবে ছাত্রলীগকে সহযোগিতা করতেন সেসব বিষয় তুলে ধরেন। প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ছাত্রলীগের লাইফস্টাইল সাধারণ ছাত্রদের মতোই হওয়া উচিত। প্রটোকলের রাজনীতিও বন্ধ করতে বলেছেন তিনি।’

লেখক ভট্টাচার্য জানান, প্রধানমন্ত্রী তথ্য ও জ্ঞানভিত্তিক কর্মসূচি হাতে নেওয়ার জন্য নির্দেশনা দিয়েছেন। মুক্তিযুদ্ধ ও মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের যেসব বই রয়েছে এবং অসমাপ্ত আত্মজীবনী, কারাগারের রোজনামচাসহ বঙ্গবন্ধুর বই সবাইকে পড়তে উৎসাহিত করার কথাও বলেছেন।

এ সময় ছাত্রলীগের দেখভালের দায়িত্বপ্রাপ্ত আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর কবির নানক, আবদুর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম ও বিএম মোজাম্মেল হক উপস্থিত ছিলেন। ছাত্রলীগ নেতাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সহসভাপতি তানজিল ভূঁইয়া তানভীর, রেজাউল করিম সুমন, সোহান খান, আরিফিন সিদ্দিক সুজন, আতিকুর রহমান খান, ইশাত কাসফিয়া ইরা, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক প্রদীপ চৌধুরী, আরিফুজ্জামান আল ইমরান, শামস-ই-নোমান, শাকিল ভূঁইয়া, মহিউদ্দিন আহম্মেদ, বেনজীর হোসেন নিশি, সাংগঠনিক সম্পাদক সাবরিনা ইতি, মামুন বিন সাত্তার, সাজ্জাদ হোসেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি সনজিত চন্দ্র দাস, সাদ্দাম হোসাইন, ঢাকা মহানগর উত্তরের সভাপতি ইব্রাহিম হোসেন, সাধারণ সম্পাদক সাইদুর রহমান হৃদয়, দক্ষিণের সভাপতি মেহেদী হাসান ও সাধারণ সম্পাদক জুবায়ের আহমেদ।

নানা বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের কারণে গত শনিবার ছাত্রলীগের সভাপতি রেজওয়ানুল হক শোভন ও সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানীকে সরিয়ে দেওয়া হয়। এরপর আল নাহিয়ান খান জয়কে ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও লেখক ভট্টাচার্যকে ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।