ভিন্ন কৌশলে ঐক্যের অভিযাত্রায়ও সকলের সাড়া মেলেনি যুক্তরাষ্ট্র বিএনপিতে। তবে বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের চেতনায় প্রবাস প্রজন্মসহ পরিবারের সকল সদস্যকে উদ্বুদ্ধ করার প্রয়াসে এ এক অনন্য উদাহরণ হয়ে থাকবে বলে অনেকের ধারণা। 

কারণ, গত ৮ সেপ্টেম্বর রবিবার ‘পারিবারিক মিলনমেলা’র ব্যানারে বনভোজন স্টাইলের সমাবেশে স্ত্রী-সন্তান-ভাই-বোন সকলেই ছিলেন। এ প্রসঙ্গে এই উদ্যোগের অন্যতম বিএনপির সাবেক আন্তর্জাতিক সম্পাদক গিয়াস আহমেদ এ সংবাদদাতাকে জানান, নানাবিধ কারণে স্ত্রী-সন্তান নিয়ে দলীয় ফোরামে দূরের কথা, আঞ্চলিক-সামাজিক-সাংস্কৃতিক অনেক অনুষ্ঠানেই যাওয়া সম্ভব হয় না। হরদম ঝগড়া-ঝাটি থেকে ধাক্কা-ধাক্কি, কখনো কখনো মারপিটের উদ্ভব হওয়ায় স্ত্রী-সন্তানেরাও ঐসব অনুষ্ঠানে যেতেও চান না। এ অবস্থায় বিএনপি পরিবারের সকলে দলীয় ফোরামে পরিবারের সদস্যদের সম্পৃক্ত করার ভাবনা থেকেই এ আয়োজন। এবং বিপুল সাড়া পাওয়া গেছে। যারা আসেননি তারা পরবর্তী কর্মসূচিতে আসার অঙ্গিকার করছেন। লং আইল্যান্ডে বেলমন্ট লেইক স্টেট পার্কে সবুজে ঘেরা নির্মল আনন্দদায়ক পরিবেশে স্কুল-কলেজগামী সন্তানের সাথে মা-খালারাও মেতেছিলেন দিনব্যাপী নানা কর্মসূচিতে। এ সময় বাংলাদেশের রাজনীতি এবং বিএনপির ভূমিকা নিয়েও কথা হয় সকলের মধ্যে। 

এ আয়োজনের শুরুতেই কারাবন্দি খালেদা জিয়ার দ্রæত আরোগ্য কামনায় বিশেষ মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয় যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির সাবেক সভাপতি ও কেন্দ্রীয় কমিটির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সাবেক প্রধান সমন্বয়কারি আলহাজ্ব আব্দুল লতিফ সম্রাটের নেতৃত্বে। তারপর বিপুল করতালির মধ্যে বেলুন উড়িয়ে উপস্থিত সকলকে পাশে নিয়ে কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা আবদুস সালাম, সহ-আন্তর্জাতিক সম্পাদক খ্যাতনামা কন্ঠশিল্পী বেবী নাজনিন,  ঢাকা জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও কেন্দ্রীয় সদস্য খন্দকার আবু আশফাক, জাসাসের সিনিয়র সহ-সভাপতি অভিনেতা বাবুল আহমেদ। এ পর্বের সমন্বয় করেন গিয়াস আহমেদ। 

জানা গেছে, যুক্তরাষ্ট্র জাতীয়তাবদী পরিবারের এ মিলনমেলায় বিএনপির ৪১ তম প্রতিষ্ঠাবাষিকী পালন এবং দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি দাবিতে আলোচনা ও দোয়া করা হয়। নেতৃবৃন্দের মধ্যে আরো ছিলেন যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির সাবেক সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট ও বাংলাদেশ সোসাইটির বোর্ড অব ট্রাস্টির অন্যতম সদস্য অধ্যাপক দেলোয়ার হোসেন, সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আলহাজ্ব সোলায়মান ভুঁইয়া, সাবেক সেক্রেটারি জিল্লুর রহমান জিল্লু এবং কামাল পাশা বাবুল, জাসাসের কেন্দ্রীয় কমিটির আন্তর্জাতিক সম্পাদক গোলাম ফারুক শাহীন, নিউইয়র্ক স্টেট বিএনপির নেতা পারভেজ সাজ্জাদ। আরো ছিলেন বহুল আলোচিত হাওয়া ভবনের কর্মকর্তা আশিক ইসলাম, বিএনপি নেতা নিয়াজ আহমেদ জুয়েল, মোহাম্মদ  আনোয়ারুল ইসলাম, আজাদ বাকের, সামসুল ইসলাম মজনু, আনোয়ার হোসেন, জহির মোল্লাহ, মোহাম্মদ মহসীন, ফিরোজ আহমেদ, ফেরদৌস, হেলাল উদ্দিন, আজম জাহাংগীর, খলকুর রহমান, মো. সুরুজ্জামান, আমানত হোসেন আমান, সাইদ রহমান, আবু সাইদ আহমেদ, বাসেত রহমান, স্বপন, বাদশা, নিউজার্সির সৈয়দ জুবায়ের আলী, সৈয়দ কায়সারসহ ১০ জন, সৈয়দা মাহমুদা শিরিন, শো টাইমের আলমগীর খান আলম প্রমুখ। জ্যামাইকা ফ্রেন্ডস সোসাইটির নেতৃবৃন্দ, যুবদল, জাতীয়তাবাদি ফোরাম নেতৃবৃন্দসহ প্রায় ৩০০ জন ছিলেন এ আয়োজনে। 

অনুষ্ঠানে যথারীতি বিনোদনমূলক খেলাধূলার পাশাপাশি শিশু-কিশোরদের প্রতিযোগিতাও ছিল।