জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা নির্ধারণ ও রংপুর-৩ আসনে মনোনয়ন নিয়ে জাতীয় পার্টিতে চলমান বিবাদ নিয়ে কথা বলেছেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, এরশাদের জাতীয় পার্টিতে ‘অভ্যন্তরীণ বিবাদ’ আছে। এটি তাদের নিজেদের ব্যাপার।

শুক্রবার দুপুরে রাজধানীর রমনায় ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে ঢাকা মহানগর যুবলীগ আয়োজিত এক আলোচনাসভায় তিনি এ কথা বলেন। আগামী ২৮ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্মদিন সামনে রেখে মাসব্যাপী উদযাপনের উদ্বোধন উপলক্ষে আলোচনাসভাটি আয়োজন করা হয়।

ওবায়দুল কাদের বলেন, জাতীয় পার্টি সংসদের বিরোধী দল হলেও সেই দলের ‘অভ্যন্তরীণ বিবাদ’ নিয়ে আওয়ামী লীগের মাথা ঘামানোর মতো সময় নেই। আমরা এখন রংপুর-৩ আসনের উপনির্বাচন নিয়ে ব্যস্ত। ওই নির্বাচনের প্রস্তুতি চলছে।

আওয়ামী লীগ কারও পক্ষ নেবে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, জাতীয় পার্টির মধ্যকার টানাপোড়েন নিয়ে আওয়ামী লীগের কিছু করার নেই। এটি তাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়। তাদের দলের মধ্যে আওয়ামী লীগ কারও পক্ষ নেবে না।

রংপুর-৩ আসনে উপনির্বাচনে আওয়ামী লীগ থেকে কাকে মনোনয়ন দেয়া হচ্ছে, জানতে চাইলে তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত ১৬ জন মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছেন এই নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার জন্য। আগামীকাল দলের চূড়ান্ত প্রার্থীর নাম প্রকাশ করা হবে।

শেখ হাসিনার দূরদর্শী রাজনীতির প্রশংসা করে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, শেখ হাসিনার অপ্রতিরোধ্য উন্নয়ন-অগ্রযাত্রা বিএনপিকে রাজনৈতিক সংকটে ফেলেছে। এই সংকট বিএনপি কাটিয়ে উঠতে পারবে না। তিনি বলেন, রাজনীতি মানে অস্ত্রবাজি না, শিক্ষাগ্রহণ করে জনসেবা করা। প্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে বিশ্বব্যাপী সমাদৃত। অন্য রাজনীতিবিদরা পরবর্তী নির্বাচন নিয়ে ভাবেন, আর শেখ হাসিনা ভাবেন পরবর্তী প্রজন্মের কী হবে।

শেখ হাসিনা বিশ্বের আলোকবর্তিকা মন্তব্য করে ওবায়দুল কাদের বলেন, শুধু দল বা দেশ নয়, বিশ্বের জন্য আলোকবর্তিকা হিসেবে কাজ করছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। দল ও দেশের জন্য যেসব উন্নয়নকাজ করছেন, তা সঠিকভাবে জনগণের কাছে পৌঁছে দিতে আহ্বান জানান তিনি।

কর্মীদের জন্য শেখ হাসিনার ত্যাগের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, কর্মীদের জন্য শেখ হাসিনা কতটা নিবেদিত আমার অসুস্থতার সময়ে সেটি দেশবাসী দেখেছে। প্রতিটি মানুষের জন্য তিনি এমনই নিবেদিত। শেখ হাসিনা জেগে আছেন বলে দেশের মানুষ আজ শান্তিতে ঘুমাতে পারছে।

আলোচনাসভার উদ্বোধন করেন আওয়ামী যুবলীগের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ ওমর ফারুক চৌধুরী। সভাপতিত্ব করেন ইসমাইল চৌধুরী সম্রাট।