(আমি যাদেরকে ডিসেপিয়্যার্ড হতে দেখেছি)

আহমেদ ফয়সাল (যুক্তরাষ্ট্র) : আমাদের বাল্যকাল থেকেই শুরু করা যাক। সত্তুরের দশকের কথা। নরসুন্দর’রা তখনও অনেকের বাড়ি বাড়ি গিয়ে মড়া, টুল কিম্বা চেয়ার পেতে চুলদাড়ি কাটতো। টাকাপয়সা তখন নিতো না। বছর শেষে পৌষ মাঘ মাসে ধান কাটার পরে ধান নিত। কোথাও কোনো মুসলমান নরসুন্দর(নাপিত) দেখিনি। আমাদের নরসুন্দর ছিলো পঞ্চা কাকা ও অনিল। অনিল আমাদের চেয়ে বছর চার/পাচ বড় হবে। অনিলের যখন সিক্স, সেভেনে পড়ার কথা, তখন থেকেই দেখি সে বাড়ি বাড়ি দৌড়ায়। অনিল নলছিটি খাসমহলে সেলুন করেছিলো। শুনলাম এখনো এলাকাতেই এপিয়ার্ড(হাজির) আছে। পঞ্চা কাকা অনেক আগেই পরপারে ডিসএপিয়ার্ড হয়েছেন। পঞ্চা কাকার ছেলে স্বপ্না(স্বপন) আমাদের সামান্য কিছু বড় হবে, নাম ধরেই ডাকতাম। সে বোয়ালিয়া বাজারে সেলুন দিয়েছিলো। গত দুই যুগের খবর জানিনা, ডিসেপিয়ার্ড হলো কিনা। ওর বোন মালতিকে বিয়ে দিয়েছিলো নলছিটির কোথাও। ওদের আরো কয়েকটি বোন ছিলো। প্রবীণ জীর্ণশীর্ণ এক মহিলা, যাকে কুশংগল ইউনিয়নের বাচ্চা বুড়ো সকলেই এক নামে, মজুমদারের বৌ নামে চিনতো। বিধবা মজুমদারের বৌ বাড়ি বাড়ি গিয়ে জিলাপি বিক্রয় করতেন। তখন টাকাপয়সা চাইতেন না। ধানের সিজনে ধান নিতেন। অনেক সময় জোর করেই চাহিদার চেয়ে বেশী জিলাপি রেখে যেতেন আর বলতেন, ‘পোলাপগুলারে একটু খাওয়াও। টাহাপয়সা জোমাইয়্যা কি হরবা?’ আমরা বাচ্চারা তার এই আচরণে ভীষণ খুশী হইতাম। আমার বাবাকে তিনি এমন ভাবে নাম ধরে ডাকতেন, ডাক শুনে যে কারো মনে হবে বোন তার ছোটভাইকে ডাকতেছে। বাবাও তার সাথে বোনের মতই ব্যবহার করতেন। তার ছেলেপেলে ছিলোনা, কিন্তু কেরী নামে একটা নাতনী ছিলো, আমাদের সাথেই ফয়রা প্রাইমারীতে পড়তো। বাড়ন্ত শরীরের কেরীর প্রাইমারী শেষের পরেই বিয়ে হয়ে গেছিলো। শুনেছি বিয়ের কয়েকবছর পরে কেরী ডায়রিয়ায় মৃত্যুবরণ করে। নতুন ঘর তোলা, ঘর মেরামত কিম্বা হাল্কাপাতলা ফার্নিচার বানাতে এলাকায় বীরু মিস্তুরির(মিস্ত্রি) বিকল্প খুব বেশী ছিলোনা। বীরু কাকা তার পিচ্চি ছেলে নিরঞ্জনকেও অনেক সময় সাথে নিয়ে আসতেন। নিরঞ্জন বেশ মেধাবী ছিলো। শুনলাম প্রাইমারী শিক্ষক হিসেবে এলাকাতেই আছে সে। বীরু কাকা দুই যুগ আগে ইন্তেকাল করেন। তার বানানো চেয়ার টেবিল এখনো আনাদের ঘরে আছে। ঋষিবাড়ির সন্তোষ দা, স্বর্ণকার পরিমল এখনো মানপাশা বাজারেই এপিয়ার্ড আছে। ননী বারৈ, শংকর বারৈ পরপারে চলে গেছেন। প্রাইমারী শিক্ষা সমাপ্ত করে উত্তরাধিকার সূত্রে আব্বা আমাকে মাদ্রাসায় ভর্তি করিয়ে দেন। দুইবছর মাদ্রাসায় পড়ার পরে পারিবারিক সম্পত্তি বন্টনকে কেন্দ্র করে বাপ চাচাদের ক্ষণস্থায়ী একটা ঝামেলায় বড় মামা আমাকে নিয়ে ঝালকাঠীর কীর্তিপাঁশা হাইস্কুলে ক্লাস সিক্সে ভর্তি করে দিলেন। সেই হিসাবে কীর্তিপাঁশা স্কুলের ৮৮’র ব্যাচের সকলেই আমার সহপাঠী হবে। যদিও আমি অরিজিনালি এসএসসি ১৯৮৬’র ব্যাচের ছাত্র ছিলাম। বন্ধু গোলাম মোস্তফা ফকির(ব্যাংকার) হারুন ফকির(টিচার) সহ আমার প্রাইমারীর সহপাঠী অনেকেই ৮৬ সালে এসএসসি পাশ করে। তাই ৮৬’র ব্যাচের অনেককেই আমি নাম ধরে ডাকি। ক্লাস সিক্সে আমি নানাবাড়ি থেকে দুই খালামনি’র সাথে স্কুলে যেতাম। খালারা যেতেন কীর্তিপাঁশা গার্লস স্কুলে; একজন ৮৩, আরেকজন ৮৪’র ব্যাচ। তখন কীর্তিপাঁশা গার্লসের (নবীন চন্দ্র বালিকা বিদ্যালয়) হেড স্যার ছিলেন দিলীপ সেন। খুবই অমায়িক ও অসাধারণ ব্যক্তিত্বের অধিকারী ছিলেন তিনি। দিলীপ সেন ঝালকাঠী যাতায়াতের পথে প্রায়ই আমার নানাবাড়ি আসতেন, খালাদের পড়াশোনার খোঁজ খবর নিতেন। শুনেছি অনেক আগেই তিনি মৃত্যুবরণ করেন। যতদূর মনে পরে, তখন কীর্তিপাঁশা হাইস্কুলের(প্রফুল্ল চন্দ্র মাধ্যমিক বিদ্যালয়) প্রধান শিক্ষক ছিলেন শ্রী পুলিন শিকদার। শ্রেণী শিক্ষক সাধন স্যার এবং অশোক স্যারের কথা ও চেহারা এখনো আমার মানসপটে অংকিত। দুধে-আলতা গড়নের অশোক স্যার দেখতে দেবরাজের মত ছিলেন। সর্বদা মেজাজি মুডের জন্য তাকে দেখলে ছেলেপেলের কলজে শুকিয়ে যেত। আরো কয়েকজন স্যারের কথা মনে পরে, কিন্তু নাম স্মরণে আসছে না। সে তিন যুগ আগের কথা, শুনেছি প্রবীণ সাধন স্যার অনেক আগেই মৃত্যুবরণ করেন; আর অশোক স্যার এখনো কোথাও ডিসেপিয়ার্ড বা গুম হননি, ঝালকাঠী শহরেই নাকি এপিয়ার্ড আছেন। মনে আছে, কীর্তিপাঁশা স্কুলের আমার ক্লাসের তিন ভাগের এক ভাগ ছাত্রই ছিলো হিন্দু। সেই সময়ের আমার ৫টা ক্লাসফ্রেন্ডের নাম মনে আছে। তাদের মাঝে আনোয়ার এবং ইস্রাফিল আসতো বেশেইন খান থেকে। ইস্রাফিল পরবর্তীতে ঝালকাঠী গভঃ স্কুলে চলে গিয়েছিলো। ক্লাসে দুইটা গৌতম ছিলো, তাদের একজন গৌতম কর্মকার, যার বাসা ছিলো স্কুলের খুবই নিকটে, কর্মকার বাড়ি। শুনেছি, অভিনেত্রী তমালিকা কর্মকার ওদের ঘনিষ্ঠ জ্ঞাতি। বিপ্লব বল সম্ভবত তারপাঁশা থেকে আসতো। সেই সহপাঠী বন্ধু বিপ্লব বল, দুই গৌতম’দ্বয় কোথায় আছে, কেমন আছে জানিনা। জানিনা ওরা এপিয়ার্ড আছে, নাকি ডিসেপিয়্যার্ড বা গুম হয়ে গেছে!

খালামনিদের সাথে যারা পড়তেন, তাদের মধ্যে জুতিকা খালার কথা মনে আছে। সম্ভবত ধর্মবিশ্বাসে তিনি বৌদ্ধ হয়ে থাকবেন(সংগ্রামনীল গ্রামের বৌদ্ধ বাড়ি)। অনেক আগে আমার ছোট খালার মুখে শুনেছিলাম, ঝালকাঠী সরকারী কলেজ থেকে গ্রাজুয়েশন করে তারা একই সময়ে প্রাইমারীতে জয়েন করেছেন। জানিনা জুতিকা খালা ঝালকাঠীতেই আছেন, নাকি ডিসেপিয়্যার্ড বা অন্তর্ধান হয়ে গেছেন! কীর্তিপাঁশা স্কুল থেকে ষষ্ঠ শ্রেনী শেষ করে পিত্রালয়ে ফিরে ৭ম শ্রেনীতে ভর্তি হই নলছিটির সিদ্ধকাঠী হাইস্কুলে। সিদ্ধকাঠী স্কুলে দুজন স্যার পেলাম সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের। কমল গাঙ্গুলি স্যার & জগদীশ স্যার। জগদীশ স্যার ছিলেন বেশ প্রবীণ, সাদা ধুতির সাথে সাদা কোর্তা পড়তেন। সামান্য বাতাসেই ভেঙ্গে পরার মত ফিনফিনে শরীর নিয়ে কুশঙ্গলের দক্ষিন মাথা থেকে(মিত্র বাড়ি লজিং থাকতেন) তিন মাইল হেটে স্কুলে আসতেন স্যার। শুনেছি, জগদীশ স্যার দুই যুগ আগেই পরপারে পাড়ি জমিয়েছেন। কমল স্যারের কাছে নাইন-টেন, টানা দুই বছর ম্যাথ, জ্যামিতি ও ত্রিকোনমিতি প্রাইভেট পড়েছি। তিনিও দক্ষিণ কুশঙ্গল থেকে আসতেন। ভীষণ স্নেহ করতেন আমাদের। সম্ভবতঃ ৯৮/৯৯ সালে স্যারকে মানপাঁশা বাজারে সর্বশেষ দেখেছি। বাজারে বসেই স্যারকে পা ছুঁয়ে সালাম করেছিলাম, অসম্ভব খুশী হয়েছিলেন। শুনেছি ক্রিকেটার সৌরভ গাঙ্গুলি কমল স্যারদের জ্ঞাতি, যারা কিনা অনেক আগেই ডিসেপিয়ার্ড হয়ে ইন্ডিয়াতে চলে গিয়েছেন। কুশংগলের ইউপি চেয়ারম্যান সহপাঠী বন্ধু আলমের (আলমগীর শিকদার) কাছ থেকে জানলাম কমল স্যার রিটায়ার্ড করে এলাকাতেই এপিয়ার্ড আছেন। আলম’ও আমি এক সাথেই কমল স্যারের নিকটে প্রাইভেট পড়তাম। আলমের কাছেই শুনলাম, স্যারের একটা ছেলে সম্প্রতি বিসিএস(৩৫/৩৬ব্যাচ) ক্যাডার হয়েছে। সিদ্ধকাঠী স্কুলে মাইনরিটি সম্প্রদায় থেকে আমাদের সহপাঠী ছিলো সুনীল মিত্র, কমল মিত্র, শংকর, চম্পা, তবতী, সোনালী, ছোট সুনীল, শোভা প্রমুখ। দপ্তরি নির্মল দা’র ছেলেটার নাম আমার ব্রেইন থেকে ডিসেপিয়ার্ড হয়ে গেছে! কুশংগল মিত্রবাড়ির সুনীল মিত্রকে ক্লাস সেভেনে পেয়েছিলাম সেকেন্ড বয় হিসাবে। কিন্তু ক্লাস সেভেনের’ই মাঝামাঝি সময়ে সে ডিসএপিয়ার্ড বা গুম হয়ে যশোরে তার ভাই ভাবীদের নিকটে চলে যায়। সুনীলের অপর ভাই কমল ছিলো বোকাসোকা টাইপের। অর্টিস্টিকতার জন্য তার আর লেখাপড়া হয়ে ওঠেনি। ওদের ঘরেই জগদীশি স্যার লজিং থাকতেন। ওরাও ডিসেপিয়ার্ড হতে পারেনি, দেশেই এপিয়ার্ড আছে। ক্লাস এইটের কোনো এক সময়ে শুনতে পেলাম, সোনালী তার পিসী ও জ্যাঠার সাথে কোলকাতায় ডিসএপিয়ার্ড হয়ে গেছে। যতদূর মনে পরে, অন্তা নোমোর মেয়ে শোভা ইন্ডিয়াতে ডিসেপিয়ার্ড হয়েছে ক্লাস নাইনের কোনো এক সময়ে। তার গুম নিখোঁজ হওয়ার কারণ ছিলো, জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেড়ে তার ভাইয়ের হাতে আইয়ুব আলী নামে এক লোক ঘটনাস্থলেই খুন হয়েছিলো। শোভার আরেক ভাই ভবতোষকে ৯৭/৯৮ সালেও এলাকাতে দেখেছি। শঙ্কর এসএসসি’র পরেই নলছিটি চায়না মাঠের নিকটে দোকান দিয়ে সাংসারিক হয়ে যায়। শুনেছি এখনো ডিসেপিয়ার্ড বা গুম হয়নি। ৯৭/৯৮ সালের দিকেও শুনেছি, তবতীর বিয়েসাদী হয়নি, এলাকাতেই(সিদ্ধকাঠী) এপিয়ার্ড আছে। দুই দশক আগে চম্পার সাথে যাত্রাপথে দেখা হয়েছিলো। শুনলাম, চম্পা অনেক কষ্ট করে গ্রাজুয়েশন করে জেড এ ভুট্টো গার্স স্কুলে জয়েন করেছে। জানিনা সে বিনা কারণেই কোথাও গুম হয়ে গেল কিনা! ছোট সুনীল(সুনীল নাগ) মানপাঁশা বাজারেই ডাক্তার কাম মেডিসিনের ব্যবসায় ভালোভাবেই এপিয়ার্ড আছে। সুনীলের বাবা ডাঃ অরুণ কাকাকে ছাড়া আমাদের এলাকায় কোনো চিকিৎসা চলতোনা বললেই চলে। অরুণ কাকা দুই দশক আগে পরলোক গমন করেন। অরুণ কাকার আগে বাপদাদার আমলে আমাদের চিকিৎসা সেবা দিতেন হরি ডাক্তার। এলাকায় হরি ডাক্তারের নাম ও জশ ছিলো আকাশচুম্বী। তিনি নাকি পালস(নাড়ি) দেখেই রোগ নির্ণয় করতে পারতেন। এলাকার লোকজনকে কাঁদিয়ে তিনি ৭৪ সালের দিকে কোলকাতা ডিসেপিয়ার্ড হন। নলছিটি কলেজে ইন্টারমিডিয়েটে পেয়েছিলাম দীপক, দয়াল ও স্বপ্না নামে একটা মেয়েকে। অসম্ভব বন্ধুবৎসল সাদা মনের মানুষ দীপক দেড় যুগ আগে পরপারে পাড়ি দিয়েছে! দয়ালের কথা শুনেছি প্রাইমারীতে জয়েন করেছে। মাত্র সপ্তাহ দুই আগে নাকি তার বউ নিহত হয়! নলছিটিতে হরি দা’র লন্ড্রি, অরুন দা-কালুদের রেষ্টুরেন্টে একসময় আড্ডা দিতাম। হরি দা বার্ধক্য রোগে বাড়িতেই আছেন। কেহই ডিসেপিয়ার্ড হন নি। বিএম কলেজে সাবজেক্টের জন্য সরাসরি আমার ক্লাসমেট হওয়ার সুযোগ কোনো সংখ্যালঘু বন্ধুর ছিলোনা। কিন্তু বলরাম দা, নিপু দা, বন্ধু অজয়, সঞ্জয় দাস বাবু, স্বাধীন মজুমদারের সাথে সখ্যতা ছিলো। নিপু দা ডিসেপিয়ার্ড হয়ে নিউইয়র্কে & স্বাধীন মজুমদার ক্যালিফোর্নিয়াতে আছেন। বাবু ঢাকায় বড় বিজনেসম্যান, অজয় বরিশাল বারের এডভোকেট, বলরাম দা আওয়ামীলীগের কেন্দ্রীয় নেতা হিসেবে এখনো এপিয়ার্ড আছেন। বন্ধু আলমের সাথে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের আড্ডা থেকে বন্ধুত্ব হয় প্রিয়লাল দত্ত’র সাথে। অসম্ভব ভালো ছেলে প্রিয়কে বহুদিন পরে বছর খানেক আগে আলমের মাধ্যমেই ফেসবুকে খুঁজে পাই। প্রিয় এখনো ঢাকাতেই আছে। ফোন & এক্সাসরিজ ব্যবসায় ও বউ বাচ্চা নিয়ে ভালোই আছে প্রিয়। পরিশেষে কথা হচ্ছে, আমার এই চেনাজানা মাইনোরিটি মানুষগুলোর মাঝে যে ৩/৪ জন ইন্ডিয়াতে ডিসেপিয়ার্ড হয়েছে, তাদের একজনও কোনো দাঙ্গা বা মুসলমানদের কাছে নিগ্রহের শিকার হয়ে চলে যায়নি। বরং এদের কেউ যদি কোনো মুসলমানের সাথে ঝগড়া হত, দশঘর মুসলমান ওদের পক্ষে দাড়িয়ে যেত। আমার আলেম বাবাকেই দেখেছি, রানু দাশ নামে(নামে ভুল হতে পারে, নলছিটি গোদন্ডা বাড়ি) এক প্রাইমারী শিক্ষিকাকে এরশাদের আমলে উপজেলা চেয়ারম্যান মাওলানা আব্দুল হাই শাস্তিমূলক ট্রান্সফার করেছিলেন মুখিয়া স্কুলে। এই নিয়ে আব্বা মাওলানা আব্দুল হাইর সাথে প্রচণ্ড দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পরেছিলেন। দুই বন্ধুর সম্পর্কই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিলো। প্রায় ১৫ বছর বিদেশ করে এটাই বুঝলাম যে, মাতৃভূমির প্রতি ভালোবাসা, জন্মভূমির প্রতি টান থাকলে দুনিয়ার কোথাও থিতু হওয়া বেশ কষ্টকর। মাইনোরিটি নেত্রী প্রিয়া সাহার বক্তব্যের সত্যতা বিশ্লেষণের ভার পাঠকদের উপরে ছেড়ে দিলাম।