ক্যালিফোর্নিয়া ষ্টেট আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে সভাপতি শফিকুর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক
ডাঃ রবি আলম এ বিজ্ঞপ্তিতে জানান যে- ক্যালিফর্নিয়া ষ্টেট আওয়ামী লীগ দীর্ঘদিন ধরে লক্ষ্য করছে, লস এঞ্জেলেস্থ প্রবাসী বাংলাদেশীদের ক্ষুদ্র একটি অংশ বাংলাদেশ বিরোধী বিভিন্ন কর্মকান্ডে জড়িত। তাদের কর্মকান্ডে প্রায়ঃশ বাংলাদেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রাকে অবমূল্যায়ন করা হয়।
এই চক্রটির বাংলাদেশ বিরোধী অপপ্রচারের গতি পায় লস এঞ্জেলেস্থ বাংলাদেশ কন্সুলেটে বাবু প্রিয়তোষ সাহার কনসুলার জেনারেল হিসাবে যোগদানের পর। প্রথমেই তারা বাবু প্রিয়তোষ সাহার ধর্ম পরিচয় সামনে এনে তার যোগ্যতাকে অস্বীকার করার অপপ্রয়াস করে। কিন্তু অতি অল্পদিনে বাবু প্রিয়তোষ সাহা কমিনিটির সর্বস্তরের মানুষের কাছে নিজের দক্ষতা ও দেশপ্রেমের প্রমাণ করেন।
কমিউনিটির বিভিন্ন সংগঠনের কর্মসূচিতে তিনি পক্ষপাতহীনভাবে নিজের অংশগ্রহণ ও সহযোগিতা নিশ্চিত করেছেন। রাষ্ট্রীয় ও জাতীয় দিবসগুলোতে তিনি সরকারের গৃহীত কর্ম পরিকল্পনা প্রবাসীদের কাছে পৌঁছে দিয়ে সরকারের প্রতি প্রবাসীদের সমর্থন আস্থা আদায়ে সর্বদা সচেষ্ট।
অতি সম্প্রতি বাংলাদেশ সরকারের বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ বিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমানের সম্মানে বাংলাদেশ কনসুলেট আয়োজিত প্রবাসী ও বিদেশিদের বিনিয়োগ বিষয়ক একটি সেমিনার ঘিরে এই চক্রটি আবারো সক্রিয় হয়ে উঠে। তারা কনসুলার জেনারেল প্রিয়তোষ সাহার বিরুদ্ধে কমিউনিটিকে বিভক্ত ও সম্প্রতি বাংলাদেশ কনসুলেটের জন্য স্থায়ী ভবন ক্রয় সহ বিভিন্ন বিষয়ে ভিত্তিহীন দুর্নীতির অভিযোগ এনে, সালমান এফ রহমানের সম্মানে আয়োজিত সেমিনারের স্থলে বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড হাতে প্রিয়তোষ সাহার বিরুদ্ধে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন।
লক্ষণীয় বিষয় হলো, যারা এই ক্ষুদ্র বিক্ষোভের নেতৃত্ব দিয়েছে তারা সবাই নিজেদেরকে আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের স্বঘোষিত নেতা দাবি করেন। হাস্যকর ব্যাপার হলো এদেরই একটি অংশ আবার গত বছর বাবু প্রিয়তোষ সাহার পক্ষে বাংলাদেশ সরকারের কাছে লিখিত স্বারকলিপি ও আইপিটিশন করেছিল। বাবু প্রিয়তোষ সাহার বিরুদ্ধে এরা ভিত্তিহীন অভিযোগ করে শুধু তারই সম্মান নষ্ট করছে না, এরা প্রবাসে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করছেন। এদের পিছনে ইন্ধন যোগাচ্ছে সরকার বিরোধী সেই অংশটি যারা নিকট অতীতে মানবতা বিরোধী বিচার ও জিয়া পরিবারের দুর্নীতির বিচারের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে কনসুলেট ঘেরাও করেছিল। যারা অনলাইন অফলাইনে সর্বদায়ই সরকারের বিরুদ্ধে তথা বাংলাদেশের বিরুদ্ধে বহুবিধ গুজব ও অপপ্রচারে লিপ্ত।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, চক্রটি বাবু প্রিয়তোষ সাহার বিরুদ্ধে কনসুলেটের স্থায়ী ভবন ক্রয়ে দুর্নীতির অভিযোগ করেছে, অথচ স্থূল চিন্তার বাংলাদেশ বিরোধী এই মানুষগুলোর জানা নেই, ভবনটি ক্রয়ে বাবু প্রিয়তোষ সাহার একক কোনো কতৃত্ব নেই। কনসুলেটের এই স্থায়ী ভবন ক্রয়ে সরকারের অর্থ, পরাষ্ট্র ও পূর্ত এই তিন মন্ত্রালয় জড়িত। ভবন ক্রয়ের আগে বাংলাদেশের প্রতিনিধি ও মার্কিনস্থ বাংলাদেশী রাষ্ট্রদূত সরজমিনে পরিদর্শন করেছেন। কনসুলেট ভবনের মূল্য আন্তঃমন্ত্রণালয়ের কমিটি যাচাই বাছাই করার পর, সম্মানিত রাষ্ট্রদূত কর্তৃক পুন: মূল্য যাচাই করে ভবন ক্রয়ের অনুমোদন দেওয়া হয়। পুরো ক্রয় প্রক্রিয়ায় লস এঞ্জেলেস বাংলাদেশ কনসুলেট পোস্ট অফিসের ভূমিকা পালন করে। বাংলাদেশ কনসুলেটের নিজস্ব স্থায়ী ভবন ক্রয়ে এরা গর্বিত না হয়ে, এরা অভিযোগ করেছে ক্রয়কৃত ভবন বাংলাদেশী অভিবাসী এলাকা, ‘লিটল বাংলাদেশ’ থেকে অনেক দূরে।
তারা আরও জানান, প্রকৃত সত্য হলো, লিটল বাংলাদেশ থেকে বাংলাদেশ কনসুলেটের দুরুত্ব মাত্র ৩.৬ মাইল। বাংলাদেশ কনসুলেটের নতুন এই স্থায়ী ভবনটি লস এঞ্জেলের অভিজাত ও কূটনৈতিক এলাকা সংলগ্ন এবং স্টেট্ ডিপার্টমেন্ট কতৃক অনুমোদিত। মূলত সম্পূর্ণ গোষ্ঠিগত ও ব্যক্তিগত স্বার্থে ক্ষুদ্র একটি চক্র বাবু প্রিয়তোষ সাহাকে বিতর্কিত করে বাংলাদেশের ইমেজ ক্ষুণ্ন করার অপচেষ্টা করছে মাত্র।
বিজ্ঞপ্তিতে তারা বলেন, ‘আমরা ক্যালিফোর্নিয়া ষ্টেট আওয়ামী লীগ দ্ব্যর্থহীন ভাবে বলতে চাই, বাবু প্রিয়তোষ সাহা একজন দেশপ্রেমিক সৎ ও দক্ষ কূটনীতিক। তার কর্মকান্ড প্রবাসে বাংলাদেশের মুখ উজ্জ্বল করছে।’ ক্যালিফোর্নিয়া স্টেট্ আওয়ামী লীগ সরকার ও দেশবিরোধী যে কোনো চক্রের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে সরকারের চলমান উন্নয়ন কার্যক্রমে প্রবাসীদের সাথে নিয়ে তার পাশে থাকবে।
লস এঞ্জেলেসে অবস্থানরত সকল বাংলাদেশীদের প্রতি অনুরোধ, অশুভ চক্র কর্তৃক যেকোনো অপপ্রচার থেকে দূরে থাকুন। কোনো প্রকার অপপ্রচার দ্বারা বিভ্রান্ত হবেন না। বাংলাদেশ কনসুলেট আপনাদের সেবায় সর্বদা আন্তরিক।’