কাজী মশহুরুল হুদা :

প্রায় দশ বছর হতে চললো লিটল বাংলাদেশের নামকরণ হয়েছে। অথচ এই লিটল বাংলাদেশে কতিপয় রেস্টুরেন্ট ছাড়া দেশের জাতীয় ও কৃষ্টির কোন নিদর্শণ নেই বা প্রতিষ্ঠা করতে ব্যর্থ হয়েছি। যারা লিটল বাংলাদেশ সৃষ্টির পেছনে তাদের অবদানের খেতাব দেন বা কৃতিত্ব নেন তাদের কাউকেই দেশীয় নিদর্শন প্রতিষ্ঠার জন্য কোন পরিকল্পনা বা চিন্তা নেই। আমি ব্যক্তিগতভাবে কয়েক দফা প্রচেষ্টা করেছিলাম দেশীয় কৃষ্টির মুরাল দেওয়ালে সৃষ্টির জন্য। কিন্তু কমিউনিটির মধ্যে সেই আলোড়ন সৃষ্টি করতে পরিনি। অথচ আমরা যদি অন্যান্য কমিউনিটির এলাকায় যাই, তাহলে দেখতে পাবো সেই সব দেশের এবং জতীর কৃষ্টি বা সংস্কৃতি রাস্তার দুই পাশে শোভাবর্ধন করছে। যেমন- কোরিয়া টাউনের অলিম্পিক স্ট্রটে গেলে দেখাযাবে দু’পাশে তার নিদর্শন। হলিউডে থাই টাউনে গেলে দেখা যাবে, চায়না টাউন, লিটল টোকিও, লিটল ইথোপিয়া, পারশিয়ান স্কয়ার ইত্যাদি।
আমরা যেটা করতে পরি তা হলো- লিটল বাংলাদেশের আলেকজেন্ডিয়া থেকে নিউ হ্যাম্পশায়ার পর্যন্ত, থার্ড স্ট্রীষ্টের দু’পাশে স্তম্ভের উপর জাতীয় নিদর্শন প্রতিষ্ঠার জন্য সিটির কাছে অনুমোদনের পিটিশন দিতে পারি, ডিজাইন সহকারে অন্যান্যদের মত। যেমন- শহীদ মিনারের প্রতিকৃতি, জাতীয় স্মৃতিসৌধের প্রতিকৃতি, জাতির পিতার প্রতিকৃতি, জাতীয় কবি এবং রবীন্দ্রনাথের প্রতিকৃতি, জাতীয় পতাকার প্রতিকৃতি, জাতীয় পাখি, ফুল ইত্যাদি জাতীয় কৃষ্টিকে দেওয়ালের মোরাল তৈরি।
এগুলো তৈরি করতে অর্থের প্রয়োজন হবে। তার জন্য লিটল বাংলাদেশ প্রণয়ন কমিটি সহ বিভিন্ন সংগঠনকে অন্তভূক্ত করে একটি লিটল বাংলাদেশ প্রবাসী কমিউনিটি কমিটি তৈরি করা যেতে পারে। আর্কিটেক এর মাধ্যমে ডিজাইন প্রণয়ন করে সিটির কাছ থেকে অনুমোদনের জন্য আবেদন করে প্রকল্প পাশ করাতে হবে। তারপর বাজেট অনুযায়ী কমিটি কতৃক অর্থ সংগ্রহ করে লিটল বাংলাদেশ বিউটিফিকেশন প্রকল্প বাস্তবায়নের প্রচেষ্টা করা যেতে পারে। আমাদের দেশ ও জাতিকে লিটল বাংলাদেশের মধ্যে নিদর্শন প্রদর্শনের মাধ্যমে জাতিগত কৃষ্টিকে তুলে ধরার বিকল্প নেই। এই দায়িত্ব দেশমাতৃকার প্রতিটি প্রবাসী কমিউনিটির কর্তব্য এবং দায়িত্ব।
আসুন আমরা নিজ স্বার্থকে আবহমান এই আমেরিকার বুকে মাইল স্টোন হিসেবে এবং আমাদের নতুন প্রজন্মের জন্য সৃষ্টি করি। এ আহ্বান রইলো প্রবাসী সকল কমিউনিটির মানুষের প্রতি।