কাজী মশহুরুল হুদা :
লস এঞ্জেলেসে যখন প্রথমবারের মত একুশের প্রথম প্রহরের পুষ্পার্ঘ দেওয়ার রেওয়াজ চালু করেছিলাম তখন দেখেছি প্রথম একজন মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে পুষ্পর্ঘ অর্পণ করতে এগিয়ে এসেছিলেন। তিনি মুক্তিযোদ্ধা আবুল খায়ের। বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল খায়ের। তখন এবং তার দীর্ঘদিন ধরে আয়োজনের একমাত্র আবুল খায়েরই একুশের অস্থায়ী শহীদ মিনারে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে ফুল দিতেন। তারপর ধীরে ধীরে অনেকেই আত্মপ্রকাশ করেন মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে। কে আসল কে নকল মুক্তিযোদ্ধা তা বোঝার কোন উপায় নেই। কারণ সূদূর প্রবাসে কারও কাছে সার্টিফিকেট নেই। (ইদানিং দু/একজনের কাছে প্রকাশ পেয়েছে। সর্টিফিকেটই যে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে চিহ্নিত হয় বা হতে হবে এমন কোন কারণও নেই। অনেক সত্যিকারের মুক্তিযোদ্ধাদের কাছে সার্টিফিকেট নেই বা তারা কেয়ারই করেন না। আবার অনেকেই মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন না অথচ সার্টিফিকেট আছে। যারা সত্যিকারের মুক্তিযোদ্ধা তাদের ইতিহাস আছে। সেটাই যাথেষ্ট।
সকলের পরিচিত মুক্তিযোদ্ধা আবুল খায়েরকে নিয়ে কেউ কেউ বিরুপ সমালোচনা করেন। তাই একদিন তার বাসায় গিয়ে জানতে চাইলাম ‘আপনার মুক্তিযুদ্ধের গল্প শুনতে চাই’। তিনি প্রথমে ৭১’র কিছু বিশিষ্ট জনদের কথা উল্লেখ করে গল্প বলতে শুরু করলেন। কিভাবে তিনি যুদ্ধে অংশগ্রহণ করলেন এবং যুদ্ধে কি করলেন। বাসায় দেওয়ালে ফ্রেমে বাঁধা দেখলাম বহুজনের প্রদত্ত স্বীকারোক্তি ও সার্টিফিকে।


পাক্তিস্তান আমলে আবুল খায়ের হোটেল পূর্বানীতে ডিস ওয়াসারের কাজ করতেন। যুবক খায়েরের সব সময় খায়েস ছিল বিদেশে যাওয়ার। একবার বাহরাইন থেকে কাজের লোক নেওয়ার জন্য ইন্টারভিউ হয়। তিনি ইন্টারভিউতে উত্তীর্ণ হয়েছিলেন। কিন্তু বিদেশে যেতে গেলে প্রয়োজন পাসপোর্টের। পাকিস্তান আমলে পূর্বপাকিস্তানের সাধারণ মানুষের জন্য পাসপোর্ট পাওয়া ছিল স্বপ্রেন মত। তাই তনি উর্ধতনদের পরামর্শে করাচী যান এবং সেখানে নর্থ ওয়ার্স্টন হোটেলে কাজ নেন। সেখানে থেকে পাসপোর্ট করতে না পেরে অবশেষে করাচী থেকে আগ্রাবাদ হোটেলে চাকরী নিয়ে আবার তিনি পূর্ব পাকিস্তানের আগ্রাবাদ হোটেলে বদলি নিয়ে চট্টগ্রামে আসেন।
নির্বাচনের পর ট্রেড ইউনিয়নের জন্য আন্দোলন হচ্ছিল। আবুল খায়ের সেই ট্রেড ইউনিয়নের সক্রিয় সদস্য ছিলেন। মহিউদ্দিন চৌধুরী তখন ট্রেড ইউনিয়নের নেতা ছিলেন। তার সাথে আবুল খায়েরের সাক্ষতা ছিল। ২৪শে মার্চ রুস্তম, সোহাদ ও আল সামস জাহাজ পাকিস্তান থেকে অস্ত্র, গোলাবারুদ নিয়ে এসেছে। কিন্তু ওই সকল অস্ত্র যাতে জাহাজ থেকে খালাস না হয় তার জন্য শ্রমিকদের উপর নির্দেশ ছিল। সেই রাতে শ্রমিক ও পাক সেনাদের সাথে সংঘর্ষ হয়। কয়েক হাজার শ্রমিক সেই রাতেই সংঘর্ষে মারা পড়ে এবং বাকিরা পালিয়ে যায়। পালিয়ে যাওয়ার মধ্যে ছিলেন আবুল খায়ের।
হোটেল আগ্রাবাদের চীপ একাউন্টেন্ট ওসমান সাহেব আবুল খায়েরকে ডেকে বললেন, ‘খায়ের তুমি ট্রেড ইউনিয়নের একজন সক্রিয় কর্মী হিসেবে ওয়ানটেড ব্যাক্তি। তোমার হোটেলে থাকা ঠিক হবে না। তুমি এই পরিস্থিতিতে পালিয়ে যাও। তারপর বললেন, ‘আমরা কয়েকজন মুক্তিযুদ্ধে যোগ দিতে যাচ্ছি। তুমি কি আমার সাথে যাবে?’ উল্লেখ , আবুল খায়ের জানালেন, বংগবনধুর ৭ই মার্চের ভাষন আমাকে উৎসাহিত ও অনুপ্রানিত করেছিল, মুক্তিযুদ্ধের কথা শুনতেই আমার ভেতর এক সাহসের চেতনা মাথা চাডা দিয়ে ওঠে। মনের ভেতর উদ্দামতা জেগে ওঠে।

ইতিমধ্যে কালুরঘাট থেকে জিয়াউর রহমান রেডিও’র মাধ্যমে যুদ্ধের ঘোষণা দিয়েছেন। আবুল খায়ের ওসমান সাহেবকে বললেন, ‘স্যার, আমার কাছে কোন অর্থ নেই। যাব কি করে?’
তিনি বললেন, ‘আগামীকাল সকালে আমার অফিসে আসো। আমি টাকার ব্যবস্থা করে দেব।’
পরের দিন ওসমান সাহেব আবুল খায়েরকে চাকরী থেকে ইস্তফা দেখিয়ে অগ্রিম তিন মাসের বেতন তুলে দেন এবং সেই অর্থ নিয়ে পরিকল্পমত ওসমান সাহেবদের সাথে ইন্ডিয়ার দিকে রওনা দিলেন। সাথে আরও ছিলেন হোটেল আগ্রবাদের মালিক সরদার আলীর আপন ভাতিজা মি. চৌধুরী ও আওয়ামী লীগের নেতা মোহম্মদ হোসেন। আবুল খায়ের মহিউদ্দিনের সাথে দেখা করে তার অনুমতি নিয়ে রওনা হলেন।
একটি জীপে করে তারা যাচ্ছিলেন। কালুরঘাটের ব্রীজের কাছে আসতেই পাহাড়ের উপর থেকে লুকিয়ে থাকা পাকসেনারা তাদের গাড়ী লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। সেই গুলিতে মি. ওসমান সাহেব, মোহম্মদ হোসেন ঘটনাস্থলেই মৃত্যুবরণ করেন। মি. চৌধুরীর একটি পা উড়ে যায় গোলার আঘাতে। তখন আবুল খায়ের লাশের নিচে চাপা পড়ে বেঁচে যান। এরপর একবার দুদিন ধরে পালিয়ে আবার চট্টগ্রামে ফিরে আসনে এবং তিনি মহিউদ্দিন সাহেবকে ঘটনার বর্নণা দেন। তারপর থেকে সাত মাস তিনি মহিউদ্দিনের সাথে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। দীর্ঘ সাত মাস পর নিজ গ্রাম লক্ষ্মীপুরে ফিরে যান নৌকায় সমুদ্রের ভেতর দিয়ে। প্রথমে গ্রামে পালায়ত অবস্থায় থাকার পর নিকটস্থ মুক্তিযোদ্ধাদের ক্যাম্প আসন্দি গিয়ে যোগাযোগ করেন। এই এলাকায় মুক্তিযোদ্ধারা নৌকায় বসবাস করত। তিনি সেখানে কমান্ডার রফিকুল হায়দার চৌধুরীর সাথে দেখা করেন। লক্ষ্মীপুরের আওয়ামী লীগের প্রেসিডেন্ট ও কমান্ডার আতর আলী উকিল নিয়ে গিয়ে হাওলাদার মতিনের সাথে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। অত্র এলাকার মানুষ জেনে যায় আবুল খায়ের মুক্তিযুদ্ধে যোগদান করেছেন। তিনি হওলাদারের সাথে মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয়ভাবে অপারেশনে নেপে পড়েন। বর্তমানের মেয়র মুজিববাদ তাহের, সাবেক কমান্ডার তোফায়েল, কমান্ডার আনোয়ার প্রমুখ লক্ষ্মীপুরের কমান্ডারদের সাথে বিভিন্ন অপারেশনে অংশগ্রহণ করেন।
উল্লেখ্য, লক্ষ্মীপুর এলাকায় ৮০০’র মত মুক্তিযোদ্ধা ছিল। আবুল খায়ের তাদের মধ্যে অন্যতম একজন ছিলেন। এল এমজি রাব্বির সাথে তার ঘনিষ্টতা ছিল। আবুল খায়ের ইন্ডিয়ায় যাননি। তিনি দেশের ভেতরে থেকে কমান্ডারদের সাথে যুদ্ধ করেছেন একজন সক্রিয় মুকিযোদ্ধা হিসেবে। তার ট্রেনিং ছিল প্রথম অবস্থায় চট্টগ্রামে মহিউদ্দিনের সাহেবের সাথে। পরবর্তীতে লক্ষ্মীপুর মুক্তিযোদ্ধা ক্যাম্পে।স্বাধীনতার পর তিনি কারর্ফু অফিসার হিসেবে নিয়োগ পান। যার ফলে লক্ষ্মীপুর ডিস্ট্রিকের মানুষ তাকে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে চেনে। স্বাধীনতার কয়েক মাস আগে জিয়াউর রহমানের ডেপুটি কমান্ডার সুবেদার লুৎফর রহমান ও একজন ইন্ডিয়ান আর্মি মেজর লক্ষ্মীপুরে আসলে তাদের সাথে বিভিন্ন অপারেশনেও আবুল খায়ের অংশগ্রহণ করেছেন বলে জানালেন। মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে স্বীকৃতি স্বরূপ তিনি বিভিন্নজনের কাছ থেকে সনদ প্রাপ্ত হয়েছেন। ৭১ সালের সংসদ সদস্য খালেদ মোহম্মদ আলী (ছাত্রনেতা ও এমপি)’র প্রদত্ত সার্টিফিকেটও রয়েছে তার কাছে।

একবার লক্ষ্মীপুর গ্রামে যখন তিনি চট্টগ্রাম থেকে ফিরে এসেছিলেন তখন জামাত গ্রুপ সন্দেহে তারউপর আক্রমন করেছিল এবং সে যাত্রা রক্ষা পেয়েছিলেন। স্বাধীনতার পর আবুল খায়ের একজন মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে ন্যায্যমূল্যের দোকানের কোটা পেয়েছিলেন।

স্বাধীনতার পর বাংলাদেশের নাগরীক হয়ে অতি সহজেই পাসপোর্ট করেন। এরপর ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলে কর্মরত অবস্থায়, ইন্টারভিউ দিয়ে ১৯৮০ সর দুবাই চলে যান। ১৯৯৪ সালে তিনি লস এঞ্জেলেসে চলে আসেন এবং পরবর্তীতে লষ এঞ্জেলেস ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলে কাজ পান। আবুল খায়ের বর্তমানে আমেরিকার নাগরিকত্ব নিয়ে লস এঞ্জেলেসে বসবাস করছেন। একজন মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে আবেদন করেই নাগরিকত্ব লাভ করেছেন। কর্মজীবনের পাশাপাশি সামাজিকভাবে কমিউনিটির বিভিন্ন কর্মকান্ডের সাথে জড়িত রয়েছেন আবুল খায়ের। কমিউনিটির বিভিন্ন সংগঠন এই বীর মুক্তিযোদ্ধাকে বিভিন্ন সময়ে আউটস্ট্যান্ডিং কর্মকাণ্ডের জন্য স্বীকৃতি স্বরূপ তাকে এওয়ার্ড প্রদান করেছে।

তিনি কন্যা সন্তানের জনক স্ত্রীকে নিয়ে আবুল খায়ের বর্তমানে লস এঞ্জেলেসে অবসর জীবনযাপন করছেন।

বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল খায়ের ২ ডিসেম্বর ১৯৪৯ সালে নোয়াখালীর লক্ষ্মীপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।

মুক্তিযোদ্ধা আবুল খায়েরের সঙ্গে আলাপচারিতায় তিনি বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর প্রতি রয়েছে তার যথেষ্ট শ্রদ্ধাবোধ। কারণ, বঙ্গবন্ধু না থাকলে বাংলাদেশ স্বাধীন হত না বলে তিনি মনে করেন। আর তাই তার ডাকে সাড়া দিয়েই তিনি ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন মুক্তিযুদ্ধে। এরপর যদি কারো কথা স্মরণ করতে হয় তাহলে মাওলানা ভাষানী ও জিয়াউর রহমানের নাম স্মরণে আসে। মাওলানা ভাষানী তার কাছে একজন প্রিয় ব্যাক্তিত্ব, মজলুম জনতার নেতা। মেজর জিয়াউর রহমানের কথা বলতে গিয়ে তিনি জানালেন যে, রেডিও স্টেশন থেকে সম্প্রচারিত জিয়ার ভাষন তিনি শুনেছিলেন, যা ছিল তার কাছে যুদ্ধে যাওয়ার সাহস ও প্রেরণা। আবুল খায়েরকে প্রশ্ন করলাম, এছাড়া রাজনৈতিকভাবে আর কাদের কথা এমুহূর্তে স্মরণ করতে চান? তিনি বললেন, বলার জন্য বলছি না। আমি আমার প্রাণের কথা বলছি, একবার আমার সৌভাগ্য হয়েছিল স্বাধীনতার পূর্বে আজিমপুরের এক মিটিং এ জাতির পিতার কন্যা শেখ হাসিনা বক্তৃতা দেখার। তার বক্তৃতায় আমি অভিভূত হয়েছিলাম এবং বলেছিলাম এই মেয়ে একদিন অনেক বড় হবে। আজ তাকে দেখে আমার মনে হয় আমার সেদিনের চিন্তা সার্থক হয়েছে। আবুল খায়েরের কাছে মহিউদ্দিন চৌধুরী একজন গুরুত্বপুর্ণ মানুষ, কারণ- সর্বদা তার সাহচার্যে থেকেই মুক্তিযুদ্ধ করেছেন। এছাড়া তিনি বলেন, শাহজাহান কামাল (সাবেক বিমানমন্ত্রী) বর্তমানে লক্ষীপুরের এমপি সহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ব্যাক্তিবর্গ যাদের সাঙ্গে তিনি মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছেন।

আমি স্বচক্ষে ১৯৭১/৭২ সনদ পত্র দেখেছি। বিভিন্ন ব্যাক্তিবর্গ তার নামে সার্টিফিকেট প্রদান করেছেন। তাদের মধ্যে রয়েছে উল্লেখিত ব্যাক্তিবর্গ। এর মধ্যে মহিউদ্দিন চৌধুরী (১৭/১/৭২) অধিনায়ক মুজিব বাহিনী, চট্রগ্রাম, খালেক মোহম্মদ অলি প্রমুখ। তারা তাদের প্রদত্ত সার্টিফিকেটে উল্লেখ করেছেন আবুল খায়ের স্বাধীনতা আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেছেন। পত্রে লিখেছেন ব্যাক্তিগত ভাবে আমি তাকে চিনি। সে কর্মঠ ও চরিত্রবান। এইসকল সার্টিফিকেট ব্যবহার করে তিনি ১৯৭৩ সাল থেকে হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে কাজ করে আসছেন। কাজের ভেতর দিয়ে বিভিন্ন দেশ ঘুরে এই লস এঞ্জেলেসে তিনি আসেন।

যারা তাকে ব্যাক্তিগত ভাবে প্রদত্ত সনদে (স্বাধীনতার পর) তার মঙ্গল কামনা করে সংশ্লিষ্ট সকল কতৃপক্ষের নিকট সকল প্রকার সাহায্য ও সহযোগিতা করার জন্য সকলের কাছে সুপারিশ করেছেন। সে ক্ষেত্রে আবুল খায়ের মুক্তিযোদ্ধা কিনা সে বিষয়ে দ্বিমত পোষণ করার অবকাশ থাকে না বলে আমি মনে করি।

বিগত ১৯৯৪ থেকে মুক্তিযোদ্ধা আবুল খায়ের এই লস এঞ্জেলেসে বসবাস করছেন। সেই তখন থেকেই তিনি এই প্রবাসী কমিউনিটির সামাজিক, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডের সঙ্গে জড়িত রয়েছেন। বিগত বালা থেকে লিটল বাংলাদেশ ফরমেশনেও তার ভূমিকা বা অংশগ্রহণ পরিলক্ষিত হয়। মুক্তিযোদ্ধা হিসাবে সুপরিচিত আবুল খায়ের রাজনৈতিক সভা-সমিতিতে বক্তব্য ও তার কর্মকান্ড এখনও অব্যাহত রেখেছেন। বর্তমানে ক্যালিফোর্নিয়া বিএনপি’র মুক্তিযাদ্ধা সম্পাদক এবং সভাপতি সরদার খালেকের ক্যালিফোর্নিয়া মুক্তিযাদ্ধা সংসদের সহ সভাপতি মুক্তিযাদ্ধা আবুল খায়ের।