বরগুনায় স্ত্রীর সামনে প্রকাশ্যে স্বামী রিফাত শরীফকে কুপিয়ে হত্যা মামলার প্রধান আসামি সাব্বির আহমেদ নয়ন ওরফে নয়ন বন্ড পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হয়েছে। মঙ্গলবার ভোর সোয়া ৪টার দিকে বরগুনার পূর্ব বুড়িরচর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। বরগুনা সদর থানার ওসি আবির মোহাম্মদ হোসেন সকালে এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

পরে বরগুনার পুলিশ সুপার মো. মারুফ হোসেন নিজ কার্যালয়ে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ জানতে পারে চাঞ্চল্যকর রিফাত হত্যা মামলায় পলাতক আসামিরা বরগুনা সদর উপজেলাধীন পুরাঘাট এলাকায় আত্মগোপনে আছে। এরপর বরগুনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (পাথরঘাটা সার্কেল) বিএম আশ্রাফ উল্যাহ তাহেরের নেতৃত্বে ভোররাত সোয়া ৪টার দিকে বরগুনা থানা পুলিশ সেখানে অভিযান চালায়। এ সময় পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে নয়ন ও তার সহযোগীরা গুলি ছোঁড়ে। পুলিশও আত্মরক্ষার্থে পাল্টা গুলি চালায়। গোলাগুলি শেষে সহযাগীরা পালিয়ে গেলে পুলিশ ঘটনাস্থলে একজনের লাশ পায়। স্থানীয়রা ভোরে লাশটি নয়ন বন্ডের বলে শনাক্ত করে। 

তিনি আরও জানান, ঘটনাস্থল থেকে ১টি বিদেশি পিস্তল, এক রাউন্ড পিস্তলের গুলি, শটগানের ২টি কার্তুজের খালি খোসা ও ৩টি দেশিয় তৈরি ধারালো অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। অভিযানে অংশ নেওয়া বরগুনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মো. শাহজাহান হোসেন, এস আই মো. হাবিবুর রহমান, এসআই মো. মনিরুজ্জামান, কনস্টেবল মো. হাবিবুর রহমান আহত হন। আহত মো. শাহজাহান হোসেন এবং এসআই মো. হাবিবুর রহমানকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শেরে বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। বাকি দু’জন বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে।  

‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত নয়ন বন্ড

গত বুধবার (২৬ জুন) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বরগুনা শহরে রিফাত শরীফকে (২২) প্রকাশ্যে তার স্ত্রীর সামনে কুপিয়ে হত্যা করে সন্ত্রাসীরা। পাশে থাকা অনেকে এ তাণ্ডব দেখলেও কেউ সন্ত্রাসীদের ঠেকানোর চেষ্টা করেনি। এ হামলার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর নিন্দার ঝড় ওঠে।

এ ঘটনায় নয়ন বন্ড, রিফাত ফরাজীসহ ১২ জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেন রিফাত শরীফের বাবা মো. আব্দুল হালিম দুলাল শরীফ। ওই মামলায় রোববার (৩০ জুন) পর্যন্ত ছয়জনকে গ্রেফতার করা হয়।