সৌদি আরবে ওমরা অথবা হজ্ব করতে গেলে একটি টিকা গ্রহণ বাধ্যতামূলক নিতে হয়। যাকে বলা হয় মেনিনজাইটিস টিকা। সৌদি আরবের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের আদেশক্রমে এই টিকা নেওয়া বাধ্যতামূলক। ভিসা নেওয়ার সময় উক্ত টিকার সার্টিফিকেট প্রদান করতে হয়। শুধু হজ্বের জন্য নয়, সৌদি রাজ্যে প্রবেশ করার এই নিয়ম। নূণ্যতম পক্ষে প্রবেশের ১০দিন পূর্বে উক্ত টিকা নিতে হবে এবং এই মেনিনজাইটিস টিকার মেয়াদ থাকে ৩ থেকে ৫ বছর।

মেনিনজাইটিস এমন একটি রোগ, যেখানে জীবাণু মস্তিষ্কের এবং মেরুরজ্জুর আবরণীকে আক্রমণ করে। রোগটির ভয়াবহতার মুখ্য কারণ হলো, যখন রোগের লক্ষণ প্রকাশ পায় তখন চিকিৎসার জন্য সময় থাকে ২৪ ঘণ্টারও কম। নানাবিধ কারণে মেনিনজাইটিস হতে পারে, যার মাঝে রয়েছে ব্যাকটেরিয়া বা ভাইরাসের সংক্রমণ, আঘাত, ক্যানসার এমনকি কোনো কোনো বিশেষ ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াও। রক্তের মধ্যে এই সংক্রামক ব্যাধি দেখা যায়।

এ রোগ সতর্ক থাকলেও হতে পারে। এমনকি সুস্থ মানুষের মধ্যেও বিস্তার লাভ করতে পারে। এই রোগ মানুষের নিকটবর্তী সম্পর্শ থেকে ব্যাক্তি থেকে ব্যাক্তিতে ছড়িয়ে পড়তে পারে। এটি কাশির সঙ্গে সংক্রামক হিসেবে ছড়িয়ে পড়তে পারে। এটি মারাত্মক ব্যাধী। এমনকি এস সঙ্গে বসবাস করলেও ছড়িয়ে পড়তে পারে। বদ্ধ জায়গায় বহু মানুষের অবস্থান এবং খাওয়া বা পানির পাত্র ভাগাভাগি করলে এই রোগ সহজে বিস্তার লাভ করে। আর এ জন্যই হজ্বের ক্ষেত্রে এটি বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

মেনিনজাইটিসের মাঝে সবচেয়ে প্রাণঘাতী হলো ব্যাকটেরিয়াল মেনিনজাইটিস। ব্যাকটেরিয়াল মেনিনজাইটিসের সময়মতো এবং যথোপযুক্ত চিকিৎসা করা না হলে, এটি রক্তে সংক্রমণ ঘটায় এবং মস্তিষ্কসহ গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গপ্রত্যঙ্গের স্থায়ীভাবে ক্ষতিসাধন করতে পারে। এই মেনিনজাইটিস ৫ বছরের নিচে শিশুদের সাধারণত আক্রমণ করলেও মাঝে মাঝে এক বছরের কম বয়সের শিশুদের এবং ১৫ থেকে ১৯ বছর বয়সী কিশোর-কিশোরীদের আক্রান্ত করে থাকে।

প্রাথমিক লক্ষণ থেকে মেনিনজাইটিস শনাক্ত করা কষ্টকর। আর শনাক্ত করা গেলেও প্রায় ১০ শতাংশ ক্ষেত্রে রোগী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মাঝে মৃত্যুবরণ করে আর ২০ শতাংশ রোগী বেঁচে গেলেও প্রতিবন্ধিতা বরণ করে নিতে হয়। ৫ বছরের নিচে শিশুরা আর ১৫-১৯ বছরের কিশোর-কিশোরীদের মাঝে এই রোগে আক্রান্ত হওয়ার প্রবণতা বেশি।

যারা বেঁচে যায় তাদের কিছু অক্ষমতায় ভুগতে হয়। ব্যাকটেরিয়াল মেনিনজাইটিসের লক্ষণগুলোর মাঝে রয়েছে জ্বর, বমি, মাথাব্যথা এবং পাশাপাশি ঘাড় শক্ত হয়ে যাওয়া। অন্য উপসর্গগুলো হলো আলোক সংবেদনশীলতা, নিদ্রাহীনতা, বিভ্রান্তি, বিরক্তিভাব, প্রলাপ বকা এবং পরিশেষে কোমায় চলে যাওয়া। মেনিনজাইটিসে আক্রান্ত ব্যক্তির রক্তে সংক্রমণ হলে জীবন রক্ষার্থে হাত-পা বা এর অংশবিশেষ কেটে ফেলতে হতে পারে। সবচেয়ে আতঙ্কের বিষয় হলো, রোগমুক্তির পরও রোগের মারাত্মক কিছু প্রতিক্রিয়া থেকে যায়, যা তার মস্তিষ্ক এবং কিডনির কর্মক্ষমতার ওপর দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব ফেলতে পারে।

ব্যাকটেরিয়াল মেনিনজাইটিস প্রতিরোধে তিন ধরনের টিকা পাওয়া যায়—মেনিগোকক্কাল মেনিনজাইটিস, নিউমোকক্কাল মেনিনজাইটিস এবং হেমোফিলাস ইনফ্লুয়েঞ্জা টাইপ বি।

তবে কিছু ব্যাক্তিদের উক্ত টিকা নেওয়া উচিৎ না। যাদের জীবন নাশক এলার্জি রয়েছে। এছাড়া গর্ভবতী মহিলা অথবা যারা বুকের দুধ খাওয়াচ্ছেন এমন নারীদের জন্য বিপদজ্জনক। অসুস্থ অবস্থায় উক্ত টিকা গ্রহণ করা ডাক্তারের নিষেধ রয়েছে। সুস্থ অবস্থায় টিকা নিতে হবে। টিকা নেওয়ার পর পাশ্ব প্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে। যেমন জ্বর, পেশিতে ব্যথা ইত্যাদি। তবে ২/৩ দিনের মধ্যে এই ধরণের সমস্যা দূর হয়ে যায়। তবে যদি টিকা নেওয়ার পর এলার্জিক প্রতিক্রিয়া দেখাদেয় তাহলে তাকে অবশ্যই ৯১১ কল করা উচিত অথবা হাসপাতালে নেওয়া প্রয়োজন। আমেরিকায় উক্ত টিকা নেওয়ার ফলে যদি (যেকোন টিকা) ক্ষতিগ্রস্থ হয় তাহলে ফেডারেল প্রগ্রাম গ্রহণ করতে পারবেন। দ্যা ন্যাশনাল ভ্যাকসিন ইনজুরি কমপেসেশন প্রগ্রাম থেকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার ব্যবস্থা আছে।