বিমুগ্ধ শ্রোতা ও ব্যবসায়ীরা। শুনলেন এবং দেখলেন বাংলাদেশের অভূতপূর্ব উন্নয়নের কথা ও চিত্র। মালয়েশিয়ার পেরাক স্টেটের ব্যবসায়ী শিল্পপতিদের সামনে হাইকমিশনার মহ. শহীদুল ইসলামের উপস্থাপনায় ফুটে ওঠে বাংলাদেশের উন্নয়নে অদম্য অগ্রযাত্রার চিত্র।

২৭ জুন পেরাক প্রদেশে অনুষ্ঠিত রোড শো অ্যান্ড ব্র্যান্ডিং বাংলাদেশ এ হাইকমিশনার দেখালেন বাংলাদেশের মাথাপিছু আয় বৃদ্ধি, জীবনমানের উন্নয়ন, গড় আয়ু বৃদ্ধি, বাজেট বৃদ্ধি এবং সরকারের সক্ষমতা। বৃহত্তম অবকাঠামো উন্নয়ন, অভ্যন্তরীণ উৎপাদন ও রফতানি বৃদ্ধি। বিদ্যুৎ উৎপাদন বৃদ্ধির ফলে জাতীয় উৎপাদনে ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে জিডিপি। দ্রুততম সময়ে জিডিপি প্রবৃদ্ধির ফলে বিশ্বব্যাংক ৩য় দ্রুতগতির জিডিপির স্বীকৃতি দিয়েছে। এডিবি এবং আইএমএফ বিশ্বের দ্রুত বর্ধনশীল অর্থনীতির স্বীকৃতি দিয়েছে।

শ্রোতারা দেখলেন উন্নত সড়ক যোগাযোগ, বিমান যোগাযোগ, সমুদ্রবন্দর ও গভীর সমুদ্রবন্দর, মহাকাশে বংঙ্গবন্ধু ১ স্যাটেলাইট এবং দ্রুতগতির ইন্টারনেট। যা ব্যবসা করার অনুকূলে। পেরাক স্টেটের দুইশত শিল্প বিনিয়োগকারী দেখলেন বাংলাদেশের কর্মচঞ্চল নাগরিক কীভাবে গার্মেন্টস শিল্পকে চীনের পরেই স্থান করে নিয়েছে। অর্থাৎ বিশ্বে ২য় স্থান করে নিয়েছে বাংলাদেশ।

MALAYSIA-(2)

অভিজ্ঞ ব্যবসায়ীরা দেখলেন এশিয়ার যেকোনো দেশের তুলনায় বাংলাদেশে ব্যবসা করার খরচ কত কম! যেখানে কুয়ালালামপুরে ব্যবস্থাপনা খরচ ৩৪৫ মার্কিন ডলার সেখানে বাংলাদেশে মাত্র ১১ মার্কিন ডলার। বাংলাদেশে একজন কর্মীর বেতন যেখানে ১১০ মার্কিন ডলার সেখানে চীনে ৩৪৫ মার্কিন ডলার। কীভাবে বাংলাদেশ পণ্য ডিউটি ফ্রি, কোটা ফ্রি সুবিধা নিয়ে পৌঁছে গেছে ইউরোপ ও বড় বাজারগুলোতে।

বিনিয়োগের জন্য এসব মিরাকল দেখে মুহূর্তে পাল্টে গেল উপস্থিত দর্শক শ্রোতাদের মন, করলেন মন্তব্য, দ্বিধা ছাড়াই বললেন, বাংলাদেশ অনেক এগিয়ে গেছে, সামনে আরও এগিয়ে যাবে।

MALAYSIA-(3)

অনুষ্ঠানে উপস্থিত প্রধান অতিথি পেরাক স্টেটের ইনভেস্টমেন্ট করিডোরের চেয়ারম্যান দাতো সেরি মোহাম্মদ নিজার জামালুদ্দিন বাংলাদেশের প্রশংসা করে বলেন, বাংলাদেশ আর পিছিয়ে নেই। বাংলাদেশকে আর লেবার সেন্ডিং কান্ট্রি হিসেবে উল্লেখ করা যাবে না। বাংলাদেশ এখন উন্নয়নের মডেল। বর্তমান নেতৃত্ব, সরকারে দূরদর্শী পরিকল্পনায় এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ।

মালয়েশিয়ার লোকাল মিডয়াগুলোতেও ছড়িয়ে পড়ল ব্র্যান্ডিং বাংলাদেশ সম্পর্কে প্রশংসা।