নিউইয়র্ক মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি, একাত্তরে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে গেরিলা কমান্ডার নূরনবী বৃহস্পতিবার (২৭ জুন) নিউইয়র্ক সময় সন্ধ্যা সাড়ে ৮টা (বাংলাদেশ সময় শুক্রবার ভোর সাড়ে ৬টা) ইন্তেকাল করেছেন (ইন্নালিল্লাহে ওয়া ইন্না ইলাইহে রাজেউন)। মৃত্যুকালে তিনি ৪ ছেলে, ৩ মেয়ে, স্ত্রীসহ অসংখ্য আত্মীয়-স্বজন রেখে গেছেন। তার দুই ছেলে বাস করছেন নিউইয়র্কে।

দীর্ঘ ২৮ বছরের অধিক সময় নিউইয়র্কে বসবাস করেও অভিবাসনের মর্যাদা লাভে সক্ষম না হওয়ায় দু’বছর আগে ৭৯ বছর বয়সী নূরনবী ফিরে যান বাংলাদেশে। এরপর ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে গুরুতরভাবে অসুস্থ হয়ে পড়লে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের তত্ত্বাবধানে কমান্ডার নবীকে ভারতে পাঠানো হয় উন্নত চিকিৎসার জন্যে। বেশ কয়েক সপ্তাহ চেষ্টার পরও আরোগ্যে কোনো সম্ভাবনা না থাকায় তাকে বাংলাদেশে ফেরৎ পাঠানো হয়। ঢাকায় ক্যান্সার হাসপাতালে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন বলে পরিবারের উদ্ধৃতি দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের ত্রাণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর হোসেন জানান। কমান্ডার নবীকে নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে তার গ্রামের বাড়িতে দাফন করা হবে তিনি।  কমান্ডার নূরনবীর মৃত্যু সংবাদ জানার পরই নিউইয়র্ক মহানগর আওয়ামী লীগের অন্যতম সহ-সভাপতি এবং যুক্তরাষ্ট্র বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশনের সেক্রেটারি আব্দুল কাদের মিয়ার আহ্বানে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ব্রুকলীনে চার্চ-ম্যাকডোনাল্ডে আওয়ামী লীগের অস্থায়ী কার্যালয়ে দোয়া-মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। সকলেই তার বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করেন। 

মুক্তিযোদ্ধা নূরনবীর মৃত্যুতে গভীর শোক এবং শোক-সন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সহমর্মিতা জ্ঞাপন করে বিবৃতি দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্র সেক্টর কমান্ডারস ফোরামের সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা রাশেদ আহমেদ এবং সেক্রেটারি মুক্তিযোদ্ধা রেজাউল বারি, আমেরিকা-বাংলাদেশ প্রেসক্লাবের সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা লাবলু আনসার, নিউইয়র্ক মহানগর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি জাকারিয়া চৌধুরী, সহ-সভাপতি মাসুদ হুসেন সিরাজি, যুগ্ম সম্পাদক নূরল আমিন বাবু, সুব্রত তালুকদার প্রমুখ। 

পৃথক পৃথক বিবৃতিতে তারা উল্লেখ করেছেন, কমান্ডার নবীর মৃত্যুতে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ একজন ত্যাগী সংগঠক হারালো, যা কখনোই পূরণ হবার নয়। 

এদিকে, কমান্ডার নূরনবী’র মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। শোকবাণীতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশে ও প্রবাসে বিভিন্ন গণতান্ত্রিক আন্দোলনে মরহুমের অবদানের কথা স্বরণ করেন। তিনি মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করেন ও পরিবারের শোকাহত সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।