কাজী মশহুরুল হুদা :

লিটল বাংলাদেশ- একটি দেশের, একটি জাতির প্রতিনিধি। উত্তর আমেরিকায় তথা সারা বিশ্বে এমন একটি প্রতিনিধিত্বকারী নাম দ্বিতীয়টি নেই। লিটল বাংলাদেশ কোন একটি বিশেষ স্থান বা এলাকা নয়। এটি সকল প্রবাসী বাংলাদেশী কমিউনিটির প্রতিনিধিত্বের নাম। বাংলাদেশী আমেরিকান হিসাবে হোমল্যান্ডে কমিউনিটিকে সুপ্রতিষ্ঠিত করার একটি প্রক্রিয়া। পদ্ধতিগতভাবে বাংলাদেশের কৃষ্টিকে মার্কিনমূল্লুকে আউটরিচ করার জন্য আমাদের সুপরিকল্পিত উপায় সৃষ্টি করার ক্ষেত্র নির্মাণ করতে হবে। যাম মাধ্যমে কমিউনিটির মানুষ জাতির গৌরবউজ্জল গাঁথাকে তুলে ধরার প্রয়াস পায়।

বৃহত্তর লস এঞ্জেলেসে বহু সংগঠন আছে, একটি ফেডারেশন আছে। ফেডারেশনকে কেন্দ্র করে এই সকল সংগঠন রয়েছে এবং তার বাইরেও রয়েছে। কিন্তু এমন কোন সংগঠন নেই যারা এই কমিউনিটিকে প্রতিনিধিত্ব করে। কমিউনিটিকে প্রতিনিধিত্ব করতে হলে অবাধ নির্বাচনের মাধ্যমে সেই সংগঠন নির্মিত হবে তদরূপ গঠনতন্ত্রের ভিত্তিতে। অতীতে এ ধরণের একটি সংগঠন ছিল, তার নাম- বালা (বাংলাদেশ এসোসিয়েশন অব লস এঞ্জেলেস)। উক্ত বালার সংবিধানে ছিল ক্যালিফোর্নিয়ার যে কোন ব্যাক্তি এই নির্বাচনে অংশগ্রহণ ও ভোটদান করতে পারবেন এবং অবাধ নির্বাচনের মাধ্যমে নির্বাচিত প্রতিনিধিরাই সেই সংগঠন কমিউনিটি কল্যাণে কাজ করবেন। সেই নিয়মতান্ত্রিকতায় বর্তমান বালা সহ কোন সংগঠনই নেই, যারা কমিউনিটির প্রতিনিধিত্বকারী সংগঠন হিসেবে দাবী করতে পারেন। যে সকল সংগঠন আছে তারা স্ব স্ব সংগঠনের নীতিমালায় কাজ করেন।

এ ক্ষেত্রে, কমিউনিটির কাছে আমার একটি প্রস্তাব আছে, সময় এসেছে, লিটল বাংলাদেশ তথা সমগ্র ক্যালিফোর্নিয়া সকল প্রবাসী বাংলাদেশী আমেরিকান কমিউনিটির জন্য একটি প্রতিনিধিত্বকারী সংগঠন প্রণয়ক করার। যারা নাম হবে- ‘লিটল বাংলাদেশ কমিউনিটি কাউন্সিল’। গঠনতন্ত্রের ভিত্তিতে নির্বাচন কমিশনের মাধ্যমে একটি প্রতিনিধিত্বকারী নির্বাচন কমিশন গঠিত হবে (প্রতি দুবছর পরপর), স্বতন্ত্র পদের প্রার্থীরাই নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবেন, কোন প্যানেল প্রথা থাকবে না। নির্বাচন হবে অতীতের বালার মত পিকনিকের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে নির্বাচন। যারা নির্বাচনে জয়ী হবেন (১১ সদস্য বিশিষ্ট), সেই সকল প্রতিনিধিদেরকে বলা হবে বোর্ড মেম্বর। এই বোর্ড মেম্বরগণ, নির্বাচন কমিশনারের সহায়তায় তাদের মধ্য থেকে নির্বাচিত হবেন যারা কাউন্সিলের মিটিং পরিচালনা করবেন।

লিটল বাংলাদেশ কমিউনিটি কাউন্সিলের মূলত: কাজ হবে লস এঞ্জেলেস সিটির সাথে কমিউনিটির সংযোগ সাধনের মাধ্যমে কমিউনিটির সহায়তা করা, মূলধারার সাথে কমিউনিটির মানুষের সমন্বয় সাধনে সচেষ্টতা, অন্যান্য দেশ ও জাতির কমিউনিটির সাথে সেতুবন্ধন সৃষ্টি করা এবং নিজ দেশের ভাষা, সংস্কৃতি, কৃষ্টির প্রচার ও প্রসার ঘটানো ও কমিউনিটির মানুষের কল্যাণে নিয়োজিত করা।

১১ সদস্য বিশিষ্ট এই নির্বাচিত কাউন্সিলের মধ্যে যেসকল পদ থাকতে পারে তাহলো, ১) কমিউনিটি ইন্টারেষ্ট রিপ্রেজেন্টেটিভ, ২) বিজিনেস রিপ্রেজেন্টেটিভ, ৩) কমিউনিটি বিউটি ফিকেশন রিপ্রেজেন্টেটিভ, ৪) ইউথ রিপ্রেজেন্টেটিভ, ৫) কালচারাল রিপ্রেজেন্টেটিভ, ৬) ফেস্টিভল রিপ্রেজেন্টেটিভ, ৭) প্যারেড রিপ্রেজেন্টেটিভ, ৮) টেনেষ্ট রিপ্রেজেন্টেটিভ, ৯) কমিউনিটি এট-লারজ রিপ্রেজেন্টেটিভ, ১০) কমিউনিটি এট লারজ রিপ্রেজেন্টেটিভ, ১১) কমিউনিটি আউটরিজ রিপ্রেজেন্টেটিভ।

প্রস্তাবিত গণনির্বাচিত কমিউনিটির প্রতিনিধিত্বকারী লিটল বাংলাদেশ কমিউনিটি কাউন্সিল হবে কমিউনিটিকে হোমল্যান্ডের মূলধারার সাথে এগিয়ে যাওয়ার একটি ধাপ। এরা হবেন কমিউনিটির লোকাল সরকার, যারা সিটির সাথে, অন্যান্য কমিউনিটির সাথে লিটল বাংলাদেশ কমিউনিটিকে রাজনৈতিক, ব্যাবসায়িক, অর্থনৈতিক, সামাজিক ইত্যাদি পর্যায়ে মিলন ঘটাবে। প্রস্তাবিত বিষয়টি নিয়ে ইতিমধ্যে মোহম্মদ আলম সহ অন্যান্য কমিউনিটির বিশিষ্টব্যাক্তিবর্গের সাথে আলাপ আলোচনা চালিয়েছি। প্রস্তাবটি লেখার মাধ্যমে কমিউনিটির কাছে প্রাথমিকভাবে পেশ করা হল আপনাদের মতামত ও হস্তক্ষেপ কাম্য। সকলের সম্মতিক্রমে বিষয়টি টাউন হল মিটিং এ চূড়ান্ত করা হবে।

প্রস্তাবিত বিষয়টি যদি কমিউনিটির জন্য কল্যাণকর মনে হয়, তাহলে আপনাদের মতামত জানাবেন। এখানে কারও মুরব্বিয়ানা করার সুযোগ নেই। প্রস্তাবিত বিষয়ের কাঠামো থাকবে এ দেশীয় নিয়মাবলী ও পদ্ধতিতে। যেমনি ভাবে নির্বাচিত নেবারহুড কাউন্সিল গঠিত ও পরিচালিত হচ্ছে, একই ধারায় লিটল বাংলাদেশ কমিউনিটিকে আমরা কমিউনিটির কল্যাণে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারি এবং ধারাবাহিকতায় নতুন প্রজন্মকে বাংলাদেশের কৃষ্টির সাথে পরিচিত করে তাদের নেতৃত্বে আগামীর লিটল বাংলাদেশকে অন্যান্য কমিউনিটির মত সমমানে সমতালে একই রেখায় পৌচ্ছানোর প্রচেষ্টা চালাতে পারি। ডাইভারসিটি ইজ দ্যা স্ট্রেন্থ এন্ড টুগেদার উইক্যান চেঞ্জ।