গত ১৫ জুন ২০১৯ জেসমিন খান ফাউন্ডেশন প্রথম বার্ষিক অনুষ্ঠান উপস্থাপনার মাধ্যমে যাত্রা শুরু করলো। গত ৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৭ চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের এক সভায় বক্তৃতাদানের পর উক্ত স্থানে হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মৃতু্যবরণ করেন লেখিকা জেসমিন খান।
মরহুমা ছিলেন একজন লেখিকা ও সমাজসেবী। তার অনেক স্বপ্ন ছিল, কর্ম ছিল ও আশা ছিল।

অকালে মৃতু্যতে তার পরিবার জেসমিন খানের অসমাপ্ত কার্যক্রম এবং চিন্তাভাবনাকে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠা করেছেন একটি ননপ্রফিট (৫০১সি) সংস্থা ‘জেসমিন খান ফাউন্ডেশন’। যার উদ্দেশ্য ও আদর্শের ভিত্তি হলো- মানবাতা, সাহিত্য ও সমাজকর্ম। এইগুলো ছিল তার জীবদ্দশায় কর্ম ও পরিকল্পনা।

অনুষ্ঠানে প্রদর্শিত ভিডিওতে দেখা যায় তিনি লেখালেখির পাশে রোটারিয়ান হিসেবে সমাজকল্যাণমূলক কাজ করতেন, একটি এতিমখানা চালু করেছিলেন, সুবিধাবঞ্চিত মহিলাদের পাশে দাঁড়িয়ে তাদের সমবেদনায় সাহায্য সহযোগিতা করতেন এবং লিখতেন। ফাউন্ডেশন এই সব দিক লক্ষ্য রেখে কমিউনিটিতে কল্যাণকর ও উৎসাহমূলক সৃষ্টিশীল কার্যক্রম গ্রহণ করেছেন।

তারই ধারাবাহিকতায় এওয়ার্ড ইভেন্ট এবং লেখিকার সর্বশেষ গ্রন্থ ‘এ জার্নি ফ্রম মাই হর্ট’ বইয়ের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠান। লেখিকা হজ্বব্রত পালনের পর বইটি লিখে গিয়েছিলেন কিন্তু গ্রন্থের উন্মোচন করতে পারেননি। এই অনুষ্ঠানের মাধ্যমে প্রকাশিত হল। গ্রন্থটি উন্মোচন করেন জেসমিন খানের স্বামী মোসলেম খান, কাজী মশহুরুল হুদা, সাইফুর রহমান ওসমানী জিতু, পুত্র মিকাইল খান ও অন্যান্য ব্যাক্তিবর্গ।
এখানে উল্লেখ্য যে, অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন লন্ডন থেকে আগত মরহুমা লেখিকার বোন তাহমিনা খান।

গ্রন্থটি নিয়ে আলোচনা করেন রাইটার্স এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ, ক্যালিফোর্নিয়া ও লিটল বাংলাদেশ প্রেস ক্লাবের সভাপতি কাজী মশহুরুল হুদা, সাংস্কৃতিক ব্যাক্তিত্ব সাইফুর রহমান ওসমানী জিতু, সাহিত্যমোদি রওনক সালাম, আইউব হাসান, কামরুনন্নেসা।
সমগ্র অনুষ্ঠান উপস্থাপনায় ছিলেন লস এঞ্জেলেসের একমাত্র পুরুষ উপস্থাপক মিঠুন চৌধুরী। সাবলিল পরিচালনায় অনন্য হয়ে উঠেছিল সমগ্র অনুষ্ঠান। ফারাজ কুতুবির কোরআন তেলওয়াত দিয়ে অনুষ্ঠানের শুরু হয়। আলোচনা পর্বে বক্তব্য দেন, ড্যানী তৈয়ব, আবু হানিফা, নাজমুল চৌধুরী, আব্দুর রাজ্জাক, সাবিনা ইসলাম, ইসমাইল হোসেন, ড. জয়নুল আবেদিন। কবিতা আবৃত্তি করেন, হাসিনা বানু, ফারহানা সাঈদ। সঙ্গীত পরিবেশনায় সাথী বড়ুয়া ও সোনিয়া খুকু।
উক্ত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে থাকার কথা ছিল খান পরিবারের পারিবারিক বন্ধু বাংলাদেশ এ্যাম্বাসেডর অব জর্দ্দান এনায়েত হোসেন। কিন্তু তিনি বিশেষ কারণে আসতে না পারায় অনুষ্ঠানে তার পাঠানো ভিডিও বক্তৃতা দেখানো হয়।

জেসমিন খান ফাউন্ডেশনের বহুবিধ প্রকল্পের মধ্যে অন্যতম হচ্ছে সুবিধাবঞ্চিত মহিলাদেরকে স্বীকৃতি প্রদান সহ সাহিত্য ও সামাজিকতায় যারা কমিউনিটিতে নি:স্বার্থভাবে কাজ করে যাচ্ছেন তাদেরকে সম্মাননা প্রদানের মাধ্যমে কর্মের স্বীকৃতি প্রদানে উৎসাহ ও অনুপ্রেরণা সৃষ্টি করা। ইতিমধ্যে বাংলার বিজয় বহরের মাধ্যমে জেসমিন খান ফাউন্ডেশন পুরস্কার চালু করেছেন এবং এ বছর থেকে আনন্দমেলাতে তেমনি ফাউন্ডেশন পুরস্কার চালু হবে বলে জানা গেছে। তবে ফাউন্ডেশন প্রতিবছর সংস্থার বার্ষিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে নিজস্ব পুরস্কার প্রদান করবেন এবং এবার সুবিধাবঞ্চিত তিনজন মহিলাকে তাদের স্ব স্ব কৃর্তির জন্য পুরস্কৃত করেছেন। সেই সঙ্গে দুজন সমাজ সেবককে প্রদান করেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন শামিমা আরা আক্তার, আয়রুন নাহার, রওশন আরা জাহান, মমিনুল হক বাচ্চু ও সোহেল রহমান বাদল জেসমিন খান ফাউন্ডেশনের পক্ষে তাদেরকে পরিচয় করিয়েদেন ফারিয়া, আদিল, ফারহানা সাঈদ, সালমা পারভিন, মিঠুন চৌধুরী, মজিব সিদ্দিকী প্রমুখ।
প্রত্যেক সম্মাননাকারীদের উপর চমৎকার ভিডিও পরিবেশিত হয়।

এওয়ার্ড প্রদানকারীদেরকে সিটি সার্টিফিকেটও প্রদান করা হয়। এলিজাবেথ কোল, লিন্ডা লকউড, জেনিফার জাস্টিজ প্রমুখ। চার্চ অব সায়েন্টলজির লেবানন হলে অনুষ্ঠিত জেসমিন খান ফাউন্ডেশনের বার্ষিক অনুষ্ঠানে বৃহদাকার কেক কাটেন উপস্থিত ব্যাক্তিবর্গ।
উল্লেখ্য যে, জেসমিন খানের পুত্র মিকাইল খানের জন্মদিন ছিল গত ১৫ জুন। মিকাইল খান অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে সকলকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন। তার পূর্বে ফাউন্ডেশনের সভাপতি বক্তব্য দেন এবং ফাউন্ডেশনের সকল উপদেষ্টামণ্ডলীদেরকে কৃতজ্ঞতামূলক সার্টিফিকেট প্রদান করা হয়। একটা ৫ ঘন্টার উর্দ্ধে এওয়ার্ড ও পুস্তকের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে সকলেই সাচ্ছন্দে উপভোগ করে। সব শেষে মনোরম পরিবেশে আপ্যায়ন পর্ব চমৎকার ও উপভোগ্য ছিল।
লস এঞ্জেলেসে জেসমিন খান ফাউন্ডেশন একটি ব্যতিক্রমধর্মী সংস্থা, তার কার্যক্রম ও পরিবেশনা। কমিউনিটিতে পরিবর্তনের আরেক ধাপ। সকরের প্রত্যাশা দল, মত ব্যাক্তির প্রভাবমুক্ত হয়ে নিরপেক্ষতায় এগিয়ে যাবে মহৎ উদ্দেশ্য ও আদর্শের লক্ষ্যে, এমনটিই কমিউনিটির মানুষের আশা।