গত ৮ জুন, প্রথম প্রহরে (১২.৩৫মি.) ক্যাটালিনা দ্বীপ থেকে সাঁতার শুরু করে এবং এক নাগাড়ে ১২ ঘন্টা ৪৬মি. সাতরে লস এঞ্জেলেসের র্যান্ডো পারলেস ভার্ডিস এ উঠে। এই সাতারের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের ফরিদপুরের বংশভূত পশ্চিম বাংলার বর্দ্ধমানের বাঙালী মেয়ে সায়নী দাস (২১) ক্যাটালিনা চ্যানেল বিজয় করেন।
৫০ কিলোমিটার (প্রায় ২০মাইল) একটানা সাতার কেটেও সায়নী ক্লান্ত হননি। তার সাথে সঙ্গী হিসেবে দূরত্ব বজায় রেখ ডিঙি নৌকায় পর্যবেক্ষনে ছিলেন ক্যাটালিনা সুইমিং ফেডারেশনের জ্যাক কোল। তিনি প্রতি দুই ঘন্টা পরপর সায়নিকে বোতজাত তরল খাদ্য ছুড়ে দেন। এছাড়া কিছুদূরে একটি পর্যবেক্ষণ জাহাজ তাকে অনুস্মরণ করে যাচ্ছিলো।

যেখানে ছিল কর্তব্যরত মেডিকেল টিম, ওপেন সুইম ওয়াটার একাডেমির প্রতিষ্ঠাতা ড্যান সিমোনেলি, সায়নীর বাবা-মা ও তরুণ আইভান আমীর সহ আরও অনেকেই।
গত ৮০ বছরে প্রায় ২০০ জনের মত এই ক্যাটালিনা চ্যানেল অতিক্রম করেছে। ইতিপূর্বে চট্টগ্রামের বুলা চৌধুরীর (ভারতীয়) ক্যাটালিনা বিজয়ের পর সায়নীর নাম সংযুক্ত হল।
কোচ বাবা রাধেশ্যাম জানান, ২০০৫ সালে যখন তার ৭ বছর বয়স তখন থেকেই সাতারে অনুশীলন করছে সায়নী।

ইতিমধ্যে সে ৬ বার ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল সাতার প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করেছে এবং মহিলাদের মধ্যে বেঙ্গল চ্যাম্পিয়ান সায়নী দাস।
সায়নী জানান, তার স্বপ্ন বিশ্বের সাতটি উপমহাদেশে সাঁতারে বিজয় অর্জন করা।
ইতিমধ্যে দুটি উপমহাদেশের তিনটি বিজয় অর্জন করা হয়েছে। তার মধ্যে ইংলিশ চ্যানেল ও অষ্ট্রেলিয়ায়।
তবে বাকি ৫টা বিজয় অপেক্ষা করছে স্পন্সারের উপর। সায়নী দাসের ক্যাটালিনা চ্যানেল বিজয়ে প্রবাসী বাংলাদেশীদের পক্ষ থেকে এক সংবর্ধনার আয়োজন করা হয়। এতে উপস্থিত ছিলেন, মমিনুল হক বাচ্চু, সোহেল রহমান বাদল, ভয়েজ অব আমেরিকার প্রতিনিধি ড. আবু রাজিব সহ অন্যান্যরা।
সায়নীর মা রুপা দাস আপ্লুত হয়ে কমিউনিটির মানুষদেরকে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

ওপেন সুইমিং ওয়াটার একাডেমীর প্রতিষ্ঠাতা ড্যান বলেন, উত্তাল ঢেউ ও স্রোতের বিপরীতে অত্যান্ত সাবলিল ভাবে সায়নী সাঁতার দেখে তিনি অবাক হয়েছেন।
তিনি আরও বলেন, স্রোতের প্রতিকূলতার কারণে এক ঘন্টা সময় তার বেশি লেগেছে।