যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের অ্যাটর্নি জেনারেল ও যৌন হয়রানির বিরোধী মি টু আন্দোলনের সোচ্চার সমর্থক এরিক শ্লেইডারম্যান নারী নির্যাতনের অভিযোগের মুখে পদত্যাগ করেছেন।

দেশটিতে নিউইয়র্কার সাময়িকীতে চার নারী তার বিরুদ্ধে শারীরিক হামলার অভিযোগ আনার কয়েক ঘণ্টা পর তিনি পদত্যাগ করেন।

নিউইয়র্কের প্রধান আইন কর্মকর্তা ও প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘোরবিরোধী শ্লেইডারম্যানের ক্ষমতা থেকে আকস্মিক সরে দাঁড়ানোয় রিপাবলিকান প্রশাসনের বিরুদ্ধে বেশি কিছু আইনি লড়াই ঝুলে যাওয়ার শঙ্কা রয়েছে।

সোমবার এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, আমার বিরুদ্ধে গুরুতর কিছু অভিযোগ আনা হয়েছে। আমি দৃঢ়ভাবে সেগুলো প্রত্যাখ্যান করছি।-খবর এএফপি ও বিবিসির।

যদিও এসব অভিযোগ আমার পেশাগত আচরণ বা দাফতরিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সম্পর্কিত নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, তার পরও এ জটিলতার মধ্যে সেসব অভিযোগ আমার দায়িত্ব পালনে বাধা সৃষ্টি করবে।

বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়, চার নারীকে উদ্ধৃত করে নিউইয়র্কার ম্যাগাজিনের এক প্রতিবেদনে মারধরের অভিযোগ আসার পর শ্নেইডারম্যানের পদত্যাগের এ ঘোষণা আসে।

যৌন নিপীড়নের বিরুদ্ধে বিশ্বজুড়ে গড়ে ওঠা নারীদের মি টু মুভমেন্টের সোচ্চার সমর্থক শ্নেইডারম্যানের বিরুদ্ধে যে চার নারী ওই অভিযোগ তুলেছেন, তাদের মধ্যে দুজন নিজেদের পরিচয় দিয়েছেন নিউইয়র্কের অ্যাটর্নি জেনারেলের সাবেক বান্ধবী হিসেবে।

নিউইয়র্কার ওই প্রতিবেদন প্রকাশ করার পর নিউইয়র্কের গভর্নর এন্ড্রু কুমো অ্যাটর্নি জেনারেলের পদ থেকে এরিক শ্নেইডারম্যানকে ইস্তফা দেওয়ার আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নয়, এমনকি নিউইয়র্কের সর্বোচ্চ আইন কর্মকর্তাও নন। এরিক শ্নেইডারম্যান এ অবস্থায় অ্যাটর্নি জেনারেলের দায়িত্ব চালিয়ে যেতে পারেন বলে আমি মনে করি না।

হলিউডের প্রভাবশালী প্রযোজক হার্ভি ওয়াইনস্টিনের বিরুদ্ধে বিপুলসংখ্যক অভিনেত্রী ধর্ষণ ও যৌন অসাদাচরণের অভিযোগ আনার পর নিউইয়র্ক রাজ্যের প্রধান প্রসিকিউটর হিসেবে এই শ্নেইডারম্যানই গত ফেব্রুয়ারিতে মামলার প্রক্রিয়া শুরু করেছিলেন।

ওয়াইনস্টিন তার প্রতিষ্ঠানের নারী কর্মীদের যৌন নিপীড়ন করতেন, এমনকি হত্যার হুমকি দিতেন বলেও অভিযোগ করা হয় ওই মামলায়।