প্রকাশিত সংবাদে গত বছরের সেপ্টেম্বর ৪ তারিখ উডলি ক্রিকেট মাঠে অনুষ্ঠিতব্য শেখ কামাল টুর্নামেন্টের আয়োজক ড. রবি আলমের অনেক গুণকীর্তন গেয়ে বলেছেন শেখ কামাল টুর্নামেন্ট কে ব্যাহত করতে কনসাল জেনারেল স্বাধীনতা বিরোধীদের সাথে নিয়ে একই দিনে আরেকটি টুর্নামেন্টের আয়োজন করেন। আপনাদের অবগতির জন্য জানাতে চাই এল.এ.বাংলা ইউনিক ক্লাব গত ৪ বছর ধরে সামার ছুটিতে যে ক্রিকেট লীগ আয়োজন করেন তারই ধারাবাহিকতায় গত বছরের জুলাই ২৪ তারিখ টুর্নামেন্ট শুরু করেন যা জুলাই ২৫ তারিখ তখনকার ক্লাব সাধারণ সম্পাদক তার নিজস্ব ফেসবুক ওয়ালে পোষ্ট করে জানিয়ে দেন।
অন্যদিকে শেখ কামাল টুর্নামেন্টের প্রচারনা হিসেবে ড. রবি আলমের অনুরাগীরা আগষ্ট ২৮ তারিখ ফেসবুক ওয়ালে পোষ্ট করে কমুউনিটিকে অবগত করেন। আরও একটি জিনিস আপনাদের অবগত করতে চাই এল.এ.বাংলা যখন ৪ সেপ্টেম্বর ফাইনাল খেলার দিন ধার্য করে মাঠ বুকিং দেয় তখন সাউদার্ন ক্যালিফোর্নিয়া ক্রিকেট এসোসিয়েশনের নিজস্ব ওয়েবসাইটে গিয়ে তাদের টুর্নামেন্ট সিডিউল দেখে নেন। যেটা ছিল আগষ্ট ১৮ তারিখ তখন পর্যন্ত শেখ কামাল নামে কোনও টুর্নামেন্ট তাদের ওয়েবসাইটে ছিলনা। মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে শেখ কামাল টুর্নামেন্ট ঘোষনায় শংকায় পড়ে যায় এল.এ.বাংলা ইউনিক ক্লাবের পূর্ব ঘোষিত ফাইনাল খেলার দিন ৪ সেপ্টেম্বর। এদিকে আগষ্টের ১৫ তারিখ এল.এ.বাংলা ইউনিক ক্লাব কনসাল জেনারেল কে প্রধান অতিথী করার প্রস্তাব দিলে এল.এ.বাংলা ইউনিক ক্লাবের প্রস্তাবে তিনি সম্মতি জানান। আর তখন থেকেই এল.এ.বাংলা ইউনিক ক্লাব টুর্নামেন্ট সফল করার লক্ষে কাজ শুরু করেন। কিন্তু হঠাৎ করেই শেখ কামাল টুর্নামেন্ট ঘোষনা বিপাকে পড়ে যায় এল.এ.বাংলা ইউনিক ক্লাব কারণ শেখ কামাল টুর্নামেন্টে প্রধান অতিথী হিসেবে উপস্হিত থাকবেন মাননীয় রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ জিয়াউদ্দিন। কনসুলেট অফিস থেকে জানানো হয় কনসাল জেনারেল এল.এ.বাংলা ইউনিক ক্লাবের ফাইনাল অনুষ্টানে যোগ দিতে পারছেন না কারন হিসেবে উল্লেখ করেন রাষ্ট্রদূত আসছেন এবং তাকে প্রটোকল দেয়ার জন্য সে আসতে পারবেন না। তার পরের ঘটনা অনেকেরই জানা। সেই একই দিনে একই মাঠে দুইটা গ্রাউন্ডে দু পক্ষের খেলা অনুষ্ঠিত হয়। শেখ কামাল টুর্নামেন্ট ছিল রাজনৈতিকভাবে প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করার প্রয়াস মাত্র। আর এল.এ.বাংলা ইউনিক ক্লাবের সামারলীগ টুর্নামেন্ট ছিল ধারাবাহিক একটি টুর্নামেন্ট যা প্রতিবছরই করা হয়।
অথচ সেই টুর্নামেন্টকে ঘিরে মিথ্যাচার করে কনসাল জেনারেলের বিরুদ্ধে গভীর এক ষড়যন্ত্রে মেতে উঠেছে কুচক্রী মহল। এবার আসা যাক আরও কয়েকটি ছবির বিষয়ে মুসলিম উম্মাহ নর্থ অফ আমেরিকার নেতার সাথ যে ছবিটি দেখানো হয়েছে সেটি কি আসলেই কনসাল জেনারেলের ইচ্ছাকৃত তোলা ছবি? কোনও একটি অনুষ্টানে ওই নেতা কনসাল জেনারেলের পাশে এসে দাড়ান এবং অসৎ উদ্দেশে ছবিটি তুলা হয় আর সেই ছবিটা ব্যবহার করে কুচক্রী মহল তাকে রাজাকার খেতাব দেওয়ার অপচেষ্টায় লিপ্ত হয়েছেন। আরেকটি ছবিতে জামাত গংদের কনসুলেট অফিস দখলের প্রচেষ্টা বলে অভিহিত করা হয়েছে, অত্যন্ত মানবিক একটি মিটিংয়ের ছবিটি নিয়ে এমন মিথ্যাচার ভাবতেই অবাক লাগে কতটা জগন্য হলে মানুষ এমন কাজ করতে পারে। গত বছর মিজান রাসেল নামের তরতাজা এক যুবক দুর্বৃত্তের গুলিতে নিহত হন এই লস এঞ্জেলেসে। সেই লাশ বাংলাদেশে পাঠানোর জন্য সব রকম সহযোগিতা করা হয় কনসুলেট অফিস থেকে।মরহুম মিজান রাসেলের কাছের লোকজনের সাথে মিটিংরত অবস্হায় ছবিটি ব্যবহার করে কুচক্রী মহল মেতে উঠেছে কনসাল জেনারেলের অপসারণ দাবিতে। অন্যান্য সব ছবিগুলো বাংলাদেশ ইউনিটি ফেডারেশন অফ লস এঞ্জেলেস বাংলাদেশ ডে প্যারেড অনুষ্টানের। প্রতি বছর ২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা দিবসে বাংলাদেশ ডে প্যারেড আয়োজন করা হয়ে থাকে। সেখানে বাংলাদেশের প্রতিনিধি হিসেবে কনসাল জেনারেল আমন্ত্রিত হয়ে থাকেন। মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষের এমন একজন চৌকস কূটনৈতিক কে অপসারণ দাবিতে ষড়যন্ত্র শুরু করেছে মুক্তিযুদ্ধ বিরোধী শিবির। এহেন মিথ্যাচারের তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি।