যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় তদন্ত ব্যুরোর (এফবিআই) সাবেক পরিচালক জেমস কোমির সঙ্গে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কথোপকথনের লিখিত দলিল (মেমো) গত বৃহস্পতিবার কংগ্রেসের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। বিভিন্ন গোয়েন্দা তথ্য সম্পর্কে ট্রাম্পের উদ্বেগ এবং তৎকালীন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা মাইকেল ফ্লিনের সঙ্গে তাঁর সম্পর্কের বিষয় এ মেমোতে উঠে এসেছে। মেমোটি কংগ্রেসের কাছে হস্তান্তরের পর ট্রাম্প দাবি করেছেন, মেমো প্রকাশের মধ্য দিয়ে প্রমাণ হয়ে গেছে, তিনি কোনো ভুল করেননি।

ওই মেমোতে ২০১৭ সালের ৭ জানুয়ারি থেকে একই বছর ১১ এপ্রিল পর্যন্ত কোমির সঙ্গে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের কথোপকথনের লিখিত রূপ রয়েছে। রিপাবলিকান হাউসের বিচারবিষয়ক কমিটির চেয়ারম্যান বব গুডলেট, তত্ত্বাবধান কমিটির চেয়ারম্যান ট্রে গাউডি এবং গোয়েন্দা কমিটির চেয়ারম্যান ডেভিন ন্যুনসের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে মেমোটি আংশিক সম্পাদনা করে গত বৃহস্পতিবার কংগ্রেসকে দেওয়া হয়। কংগ্রেসের নিম্নকক্ষের এ তিন সদস্যের দাবি, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যে বিচারকাজে বাধা সৃষ্টির চেষ্টা করেছেন, সেটা প্রমাণের জন্য ওই মেমো প্রকাশ করা প্রয়োজন। তাঁদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে গত বৃহস্পতিবার মেমো প্রকাশ করা হয়েছে বটে, তবে গতকাল শুক্রবার বিশেষ নিরাপত্তাব্যবস্থায় পুরো মেমো কংগ্রেসে উপস্থাপনের কথা ছিল।

কোমির লিখিত বিবরণ অনুযায়ী, ২০১৭ সালের ২৭ জানুয়ারি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তাঁর নিরাপত্তা উপদেষ্টা ফ্লিনের ব্যাপারে ‘মারাত্মক আপত্তি’ জানিয়েছিলেন। ফ্লিন সম্পর্কে ট্রাম্প বলেছিলেন, ‘লোকটার সিদ্ধান্ত নিয়ে মারাত্মক বিতর্ক আছে।’ ফ্লিনের ব্যাপারে এমন নেতিবাচক মন্তব্য করে তিনি কোমিকে এ কথাও বলেছিলেন, ‘আমি আশা করি, ব্যাপারটা চুকিয়ে দিয়ে, ফ্লিনকে ছেড়ে দিয়ে আপনি আপনার পথটা পরিষ্কার রাখবেন।’ বলা দরকার, সে সময় ফ্লিনের সঙ্গে রুশ কূটনীতিকদের গোপন যোগাযোগ নিয়ে তদন্ত করছিল এফবিআই, যার জেরে শেষ পর্যন্ত ফ্লিনকে পদত্যাগ করতে হয়। এ তদন্তের মাঝখানে কোমিকে বরখাস্ত করা হয়।

এ কথোপকথনে ফ্লিনকে বাঁচাতে ট্রাম্পের চেষ্টা স্পষ্ট বটে, তবে ট্রাম্প গত বৃহস্পতিবারের টুইটে দাবি করেছেন, ‘স্পষ্ট হয়ে গেছে, কোনো আঁতাত হয়নি, কোনো বাধা দেওয়ার ঘটনা ঘটেনি।’

২০১৭ সালের ৩০ মার্চের লিখিত বিবরণ অনুযায়ী, কোমির সঙ্গে কথোপকথনে ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠজনদের সঙ্গে রুশ কূটনীতিকদের আঁতাতের অভিযোগটা না থাকলে তিনি অনায়াসে ওবামাকেয়ার (সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার আমলে প্রণীত স্বাস্থ্যনীতি) বাতিল করতে পারতেন। কংগ্রেসের বিরোধিতার কারণে ট্রাম্প ওবামাকেয়ার বাতিল করতে পারেননি। সূত্র : সিএনএন, বিবিসি।

Previous post অটোয়ায় বাংলাদেশ হাই কমিশনে মুজিবনগর দিবস উদযাপন
Next post লস এঞ্জেলেসে বাংলাদেশ কন্সুলেটের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র : নেপথ্যে কারা?
Close