ফ্রান্সের প্যারিসে বাংলাদেশ দূতাবাসে যথাযোগ্য মর্যাদায় ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবস পালিত করা হয়েছে। দিবসটি উদযাপন উপলক্ষে ফ্রান্সে নিযুক্ত রাষ্ট্রদূত কাজী ইমতিয়াজ হোসেন জাতীয় পতাকা আনুষ্ঠানিক ভাবে উত্তোলন করে দিবসের কর্মসূচীর সূচনা করেন। পবিত্র ধর্মগ্রন্থ থেকে পাঠ এবং মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের রূহের মাগফেরাত ও দেশের সার্বিক উন্নতি কামনা করে বিশেষ মোনাজাতের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠান শুরু হয়।

দিবসটি উপলক্ষে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মহামান্য রাষ্ট্রপতির বাণী, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর বাণী ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রীর বাণী পাঠ করে শোনানো হয়। দিনটি স্মরণ করে বিশেষ প্রার্থনা, বিশেষ আলোচনা সভা এবং মহান মুক্তিযুদ্ধে উপর একটি প্রামাণ্য চিএ প্রদর্শিত হয় ।

রাষ্ট্রদূত জনাব কাজী ইমতিয়াজ হোসেন তার বক্তব্যে সশ্রদ্ধচিত্তে স্মরণ করেন জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, জাতীয় চার নেতা, মুক্তিযুদ্ধের ত্রিশ লাখ শহীদদের কথা। তিনি বলেন, বাংলাদেশের মুক্তি-সংগ্রামের প্রতিটি ক্ষেত্রেই বঙ্গবন্ধুর অবদান অনস্বীকার্য।

স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রে সমতা, সামাজিক ন্যায়বিচার ও মানবিক মর্যাদার প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করে তিনি বলেন, বর্তমান সরকারের শাসনামলে আর্থসামাজিক উন্নয়ন তারই সফল প্রতিফলন।

এছাড়া প্রবাসী বাংলাদেশীদের সাথে তাদের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট , জননিরাপত্তা, ব্যবসা-বাণিজ্যসহ প্রাসঙ্গিক সকল ব্যাপারে রাষ্ট্রদূত দূতাবাসের পক্ষ হতে সকল ধরণের সহায়তার আশ্বাস প্রদান করেন।

আলোচনা পর্বে অতিথিরা মুজিবনগর দিবসের প্রেক্ষাপট, গুরুত্ব ও তাৎপর্য তুলে ধরেন। বক্তারা সঠিক ইতিহাস জানা এবং সে ইতিহাসকে নতুন প্রজন্মের নিকট তুলে ধরার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। মুজিবনগর সরকার হল বাংলাদেশের প্রথম সরকার যা বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম ও পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বাংলাদেশের নিরীহ ও নিরস্ত্র জনগোষ্ঠীর উপর পরিচালিত নৃশংসতা ও গণহত্যার বিরুদ্ধে বিশ্ববাসীর দৃষ্টি আকর্ষণ ও বিশ্বজনমত গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

অনুষ্ঠানে দূতাবাসের প্রথম সচিব আনিসা আমিন, দ্বিতীয় সচিব নির্ঝর অধিকারী ও দয়াময় চক্রবতী, দিলারা বেগমসহ মুক্তিযোদ্ধা, দূতাবাস কর্মকর্তাবৃন্দ এবং কমিউনিটির বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।