বিশ্ব অ্যাথলেটে সর্বকালের আলোচিত ব্যক্তিত্ব রজার বেনিস্টার আর নেই । মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৮ বছর। বিশ্বের অগণিত মানুষের কাছে বেনিস্টার ছিল অনুপ্রেরণার এক বাতিঘর। বিশ্বের যত বাঘাবাঘ মোটিভেশনাল বক্তা রয়েছেন, তারা সবাই একবাক্যে রজার বেনিস্টারের অসম্ভব কীর্তি  জয়ের কাহিনী বলেছেন। বলেছেন তাঁর সংগ্রামের কথা, দৃঢ়তার কথা, লক্ষ্যের কথা।

পৃথিবীর ইতিহাসে যখন কোন অ্যাথলেটই চার মিনিট বা তার কম সমযের মধ্যে এক মাইল দূরত্ব অতিক্রম করতে পারছিলেন না, তখন নিজে ব্রত নেন, যে করেই হোক এই অসাধ্য সাধন করবেন। এক বার দু বার ব্যর্থ হয়েছেন। অবশেষে পেরেছেন। মাত্র ৪ মিনিটে এক মাইল দূরত্ব অতিক্রম করে বিশ্ব রেকর্ড গড়েন তিনি। ১৯৫৪ সালের ৬ মে অক্সফোর্ডের মাঠে তিনি এ কীর্তি গড়েন। এতে তিনি সময় নেন ৩ মিনিট ও ৫৯.৪ সেকেন্ড। ওই রেকর্ড গড়ার সময় ২৫ বছর বয়সী  বেনিস্টার চিকিতসাশাস্ত্র নিয়ে পড়াশুনা করছিলেন।  তবে মাত্র ৪৬ দিনের ব্যবধানে তাঁর রেকর্ডটি ভেঙ্গে গেলেও ইতিহাসে আজও তার নাম স্বর্ণাক্ষরে লেখা আছে।

ওই কাপ জয়ের পরই বেনিস্টার শিক্ষাকার্যক্রমে মনোনিবেশ করার জন্য অ্যাথলেটস ত্যাগ করেন। তবে শিক্ষাজীবন শেষেই আবারও ফেরেন বিনোদনের দুনিয়ায়। এবার আর খেলোয়াড় হিসেবে নয়, বরং একজন আদর্শ স্বাস্থ্য পরামর্শক হিসেবে স্পোর্টস কাউন্সিলে যোগ দেন বেনিস্টার। জানা যায়, ২০১১ সালে রজার বেনিস্টার নানা রোগে আক্রান্ত হন। তবে ২০১৪ সালে গার্ডিয়ানের কাছে দেওয়া সাক্ষাতকারে জানিয়েছেন, তিনি তার জীবন নিয়ে খুব সুখী।

বেনিস্টারকে আজকে সারা বিশ্বে হিরো বানিয়ে দিয়েছেন তার প্রচেষ্ঠা, দৃঢ়তা আর লক্ষ্যের প্রতি অবিচল বিশ্বাস। পৃথিবীর কেউ যখন ৪ মিনিটের আগে এক মাইল দৌড় শেষ করতে পারেনি, তখন বেনেডি ডাকঢোল পিটিয়ে ঘোষণা দিয়েছিলেন, `কেউ না পারলেও আমি পারবো। আর এর জন্য প্রতিদিন সাড়ে চার ঘণ্টা থেকে ছয় ঘণ্টা পর্যন্ত পরিশ্রম করেছেন বিশ্ব ইতিহাসে জায়গা করে নেওয়া এই অ্যাথলেট।‘

জানা যায়, ওই অলিম্পিকে বাতাসের বিপরীতে দৌড়াতে হয়েছিল তাদের। তবে যে কিনা সমুদ্রতটের বাতাসের বিপরীতে অনুশীলন করতে করতে ঘাম ঝড়িয়েছেন, তাকে কি আর বাতাস দমাতে পারে? পারে না, তাই জয় করলেন বিশ্বকে। হয়ে উঠলেন ইতিহাসের অংশ। সমুদ্রতটের বাতাস তাকে দমাতে না পারলেও মৃত্যু তাকে ঠিকই দমিয়ে দিয়েছে।