২১শে ফেব্রয়ারি, ২০১৮ ভাষা শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে লস এঞ্জেলেস কনসুলেট জেনারেল এক আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
শুরুতে ভাবগম্ভীর পরিবেশে আগত সংগঠনসমূহ একুশের বেদীতে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনে পুষ্পার্ঘ অর্পণ করে।
আলোচনা সভায় ধর্মীয় গ্রন্থ সমূহ থেকে পাঠ ও এক মিনিট নীরাবতা পালন করা হয়। আলোচনা পর্বে বক্তব্য দেওয়া নিয়ে সৃষ্ঠি হয় উত্তেজনার।
যদিও আলোচনায় শুধু মাত্র আওয়ামী লীগ এ তার অঙ্গ সংগঠন ব্যাতিত কমিউনিটির অন্যকেউ বক্তব্য দেওয়ার সময় ও সুযোগ থাকে না। তবে এক্ষেত্রে
আওয়ামী লীগের দলীয় কোন্দলের জন্যে লস এঞ্জেলেসে কয়েকটি দল উপ-দলের সৃষ্টি হয়েছে। আওয়ামী লীগের নেত্রীবৃন্দের দেওয়া লিস্ট অনুযায়ী বক্তব্যের সুযোগ দেওয়া হয়। এর ফলে বক্তব্য থেকে বাদ পড়ে যায় সিটি আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি জাকির খান এবং কমিউনিটির বিভিন্ন সংগঠনের নেতৃবৃনদ।
এ সময় জাকির খান দাড়িয়ে ক্ষুব্দ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন। সোহেল রহমান বাদল উঠে দাড়িয়ে প্রতিক্রিয়ায় যুবলীগের নেতা কর্মীদেরকে অশালীন শব্দ ব্যাবহার করলে সাথে যুবলীগের নেতা-কর্মীদের চাপের মুখে মমিনুল হক বাচ্চুর সহায়তায় সোহেল রহমান বাদল কনসুলেট ত্যাগ করতে বাধ্য হয়। এতে করে উপস্হিত মহিলা ও শিশুদের মধ্যে ভীতির সনচার করে।
যুবলীগ সভাপতি তার দলীয় নেতা-কর্মীদের শান্ত করেন।
আওয়ামী লীগ এবং সহযোগী সংগঠনের দলীয় কোন্দলের মাঝে কমার্শিয়াল কনসাল আল মামুনের বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ উঠে। আল-মামুন লিস্টের বাইরে যুবলীগের বিতর্কিত একটি গ্রূপের নেতা খন্দকার আহমেদকে বক্তব্যের সুযোগ দিলে পরিস্থিতির আরো অবনতি হয়। সেচ্ছাসেবকলীগ সভাপতি শাহ আলম এর তীব্র প্রতিবাদ করেন।
আওয়ামী লীগের পুষ্প অর্পনের অনেক পরে সাধারণ সম্পাদক রবি আলম
উপস্থিত হলে তার দল ও দলীয় পদ ঘোষণা করে অনুষ্ঠানের মাঝে ফুল দেওয়ার ঘোষণা দিলে আওয়ামী লীগের অন্য গ্রূপের নেতারা ক্ষিপ্ত হয়, শাহ আলম চৌধুরী প্রকাশ্যে আল মামুনের এই পক্ষপাতিত্বের প্রতিবাদ করে।
এদিকে কনসাল জেনারেলের অনুরোধ ভঙ্গ করে শাহ আলম চৌধুরীর একুশ বহিঃভুত বক্তব্য এবং বক্তব্যে দলীয় বিরোধের প্রকাশ উপস্থিত সুধী সহ কনসুলার জেনারেল বিব্রত বোধ করেন। পরিস্থিতির কারনে কনসুলার জেনারেল প্রিয়তোষ সাহা ভবিষতে কাউকে বক্তব্যের সুযোগ না দেওয়ার ঘোষণা দেন।
তবে সাংস্কৃতিক পর্বে উপস্থিত শিল্পীদের কবিতা ও গান সকলকে মুগ্ধ করে। শিশু শিল্পীদের কবিতা ও গানে সবাই অনুপ্রাণিত হয়। স্বরচিত কবিতা পাঠ করেন ফিরোজ আলম এবং গান পরিবেশন করেন মিতালি কাজল ও উপমা মজুমদার, ওস্তাদ নাজির আহমেদ ও আরজিন কামালে গান ছিল অনুষ্ঠানের মূল আকর্ষণ। শিশু কিশোরদের পর্ব ছিল প্রবাসে কমিউনিটির আশার আলো।

আরও সংগীত পরিবেশন করেন কাবেরী রহমান।
অপ্রীতিকর ঘটনার পরিপেক্ষিতে মমিনুল হক বাচ্চু কনসাল জেনারেলর কাছে পরবর্তী অনুষ্ঠানে সিকুরিটি রাখার অনুরোধ করলে কনসুলেট জেনারেল অস্বিকৃতি জানিয়ে বলেন আপনারা স্বাধীনতার সবপক্ষের মানুষ আপনাদের জন্যে সিকুরিটি লাগবে কেন? আপনাদের দ্বারা মানুষ কেনইবা ক্ষতিগ্রস্থ হবে।

Previous post কাতারে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালিত
Next post ‘বিএনপি অনেক বেশি ঐক্যবদ্ধ-শক্তিশালী’
Close