আবারো একটি একুশের কাছে দাঁড়িয়ে আমরা লস এঞ্জেলেস প্রবাসী বাংলাদেশীরা বিভাজিত। ভিন্ন ভিন্ন পত্রিকায় যে যার দৃষ্টিকোণ থেকে তুলে ধরেছেন একুশের আয়োজনের বার্তা। অনেকেই এর গভীরে গিয়ে এই বিভাজনের কারণ খুঁজেননি। বিগত এক যুগেরও বেশি সময় ধরে লস এঞ্জেলেসে মোটামুটি ঘটা করেই মধ্যরাতে একুশের আয়োজন করে ভাষা শহীদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে আসছে প্রবাসীরা। একটু ঘাটা-ঘাঁটি করেই জানা যায় আশির দশকের শেষে জিতু ওসমানী, মশহুরুল হুদা, শংকু আইচ সহ অনেকেই হলিউডে প্রথম শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান অস্থায়ী শহীদ মিনার করে। পরবর্তীতে শামসুল আলম সেলিম ও আব্দুল হান্নানের নেতৃত্বাধীন আওয়ামীলীগ এককভাবে আলাদিন রেস্টুরেন্টের ভেতরেই তাদের একুশের আয়োজন করে থাকত।

২০০২ সালে আনিকাস নিউ মার্কেটের সামনে ক্যালিফোর্নিয়া ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের আয়োজনে বি এন পি, বাংলা বার্তা, রাইটার্স এসোসিয়েশন, মুমিনুল হক বাচ্চু, ইসতিয়াক চিশতী, মশহুরুল হুদা, খোকন আলম, আবুল ইব্রাহিম, নজরুল ইসলাম চৌধুরী কাঞ্চন, কামরান আলম, শংকু আইচ, এমাদ চিশতী সহ অনেকেই দল-মত নির্বিশেষে অংশ নেন। পরের কয়েক বছর নিশা ফ্যাশনের সামনে খোকন আলম, মশহুরুল হুদা, ডাঃ আবুল হাশেম, শঙ্কু আইচ, এমদাদুল হক বব, কামরান আলম প্রমুখের সমন্বিত উদ্যোগে একুশ উদযাপিত হয়ে আসছিল। লস এঞ্জেলেস সিটি কলেজেও এক কিংবা দুই বছর উপরোক্ত আয়োজকদের একাংশের আয়োজনে একুশ উদযাপিত হয়েছে। তখনও একুশ নিয়ে কমিউনিটিতে বিভাজনের আশংকা ছিল একদম শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত। তার পরও শেষমেষ একসাথেই আয়োজন সম্পন্ন করা গেছে একুশের পুষ্পস্তবক অর্পনের। ২০১১/১২ সাল থেকে লস এঞ্জেলেসে একুশ আয়োজনে বিভাজন বেড়ে যাওয়া এবং বিভাজন স্থায়ী হয়ে যাওয়ায় লস এঞ্জেলেসের ভ্যালীতে সিদ্দিকের সেভেন ডে ফুডমার্টের সামনে একুশের আয়োজনের প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়। প্রথম বছরই আয়োজনটি বেশ জমে উঠে বিভিন্ন সংগঠনের সম্মিলিত আয়োজন ও সমন্বিত উদ্যোগে। ভ্যালির আয়োজনে বরং লোক সমাগম বেশি হচ্ছিল। কনসাল জেনারেল থেকে কমিউনিটি নেতৃবৃন্দের কাছে এই আয়োজনের গুরত্বও ছিল ব্যাপক। ২০১৬ সালে এত বড় আয়োজনের অধিকাংশ উদ্যোক্তাদের অন্ধকারে রেখে কিছু স্বার্থপর লোক কাউকে কিছু না জানিয়ে ভ্যালিতে আয়োজন বন্ধ রেখে লস এঞ্জেলেসে একুশে যোগ দিয়ে বড় নেতা হয়ে যাবার স্বপ্ন দেখছিলেন। দুই বছর পার হতেই তাদের স্বপ্ন ভঙ্গ হলে, নিজ নিজ স্বার্থের প্রয়োজনে তারা লস এঞ্জেলেসে একটি সম্মিলিত সমন্বিত উদ্যোগের বারোটা বাজাতে ভ্যালিতে একুশ আয়োজনের ঘোষণা দিয়ে নিম্ন মন মানসিকতার পরিচয় দিলেন। আর তাদেরকে পেছেন থেকে বাতাস দিচ্ছে কিছু বর্ণচোরা লোকজন।