লাহোরের ছয় বছরের শিশু জয়নব আনসারি ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় অভিযুক্ত আসামীকে পৃথকভাবে চারবার মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে পাকিস্তানের একটি আদালত। দণ্ডপ্রাপ্ত ওই ব্যক্তির নাম ইমরান আলী।

শনিবার পাকিস্তানের একটি বিশেষ আদালত অপহরণ, ধর্ষণ, হত্যা ও সন্ত্রাসবাদের অভিযোগে ইমরানকে দোষী সাব্যস্ত করে সবগুলোতে আলাদাভাবে মৃত্যুদণ্ড দেয়। এছাড়াও সমকামিতার অভিযোগে যাবজ্জীবন, অন্য একটি অভিযোগে সাত বছরের কারাদণ্ড এবং ২০ লাখ রুপি জরিমানা করা হয় তাকে।

রায় ঘোষণার সময় জয়নবের পিতা হাজী মুহাম্মদ আমিন আদালতে উপস্থিত ছিলেন। তাকে কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে আদালতে হাজির করা হয়। এদিকে রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের জন্য ইমরানকে ১৫ দিনের সময় দেওয়া হয়েছে বলে জানান রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী জেনারেল এহতেশাম কাদির।

ইমরান শুরুতে অভিযোগ অস্বীকার করলেও পরে নিজের অপরাধ স্বীকার করে নেন। এর আগে জয়নবের মৃত্যু নিয়ে পাকিস্তানে দাঙ্গা ছড়িয়ে পড়ে। ওই সময় পুলিশ আসামিকে গ্রেফতার করছে না, এমন অভিযোগে বিক্ষোভে জড়িয়ে পড়ে পাকিস্তানের সাধারণ জনগণ। এতে পুলিশ-জনতা সংঘর্ষে কমপক্ষে দুই বিক্ষোভকারীর মৃত্যু হয়।

জানা যায়, গত ৯ জানুয়ারি লাহোরের দক্ষিণের কাসুর শহরের একটি ময়লার ভাগাড় থেকে ছোট্ট জয়নবের মৃতদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।  তবে ৪ জানুয়ারি থেকে জয়নবকে আর পাওয়া যাচ্ছিল না। পরে জানা যায়, মক্তবে কোরআন পড়া শেষে বাড়ি ফেরার পথে সে অপহৃত হয়। ওমরাহ পালন করতে ওই সময় তার পিতা-মাতা সৌদি আরবে ছিলেন।

ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনে জয়নবকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যার কথা বলা হয়। যে ভাগাড়ে জয়নবের মৃতদেহ পাওয়া যায় সেটা তার বাড়ি থেকে দুই কিলোমিটার দূরে।

সূত্র: বিবিসি