দুর্নীতির দায়ে অভিযুক্ত দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট জ্যাকব জুমাকে সরিয়ে সেখানে নিজে জায়গা করে নেওয়া সিরিল রামাফোসার বিরুদ্ধে দুর্নীতির কোনো অভিযোগ নেই। তাঁকে নিয়ে বর্তমানে তেমন কোনো বিতর্কও নেই। তার পরও পূর্বসূরি নেলসন ম্যান্ডেলার স্বপ্নের দেশ গড়ার পথে তাঁকে অনেক বাধার মুখে পড়তে হবে, বিশ্লেষকদের তেমনই ধারণা।

দক্ষিণ আফ্রিকার আজকের প্রেসিডেন্ট রামাফোসার উত্থান শ্রমিক আন্দোলনের মধ্য দিয়ে। ১৯৮২ সালে তাঁর গঠিত ন্যাশনাল ইউনিয়ন অব মাইন ওয়ার্কার্সের (এনইইউএম) সদস্যসংখ্যা পরবর্তী সময়ে তিন লাখ ছাড়িয়ে যায়। বর্ণবাদবিরোধী নেতা ম্যান্ডেলার আন্দোলনের অন্যতম সহচর হিসেবে থেকেছেন এ শ্রমিক নেতা। কিন্তু ম্যান্ডেলার উত্তরসূরি হতে না পারায় তিনি চট করে রাজনীতি ছেড়েও দিয়েছিলেন। ১৯৯৯ সালে আফ্রিকান ন্যাশনাল কংগ্রেসের (এএনসি) সম্মেলনে তিনি দলের সেক্রেটারি জেনারেল পদে মনোনয়ন না পাওয়ায় রাজনীতি ছেড়ে ব্যবসায় নামেন। বেসরকারি খাতের সঙ্গে গভীর সম্পর্ক স্থাপন করে জ্বালানি, খনিজ, টেলিযোগাযোগ প্রযুক্তি, ফাস্ট ফুডসহ বিভিন্ন খাতের ব্যবসার মাধ্যমে তিনি আফ্রিকার অন্যতম ধনী বনে যান। তবে ২০১২ সালে তিনি এএনসির দ্বিতীয় প্রধানের পদে বসার মাধ্যমে রাজনীতিতে আসেন এবং দুই বছরের মাথায় হন দেশের ডেপুটি প্রেসিডেন্ট। গতকাল বৃহস্পতিবার তিনি হন প্রেসিডেন্ট।

মাঝখানের এ বিরতি সত্ত্বেও রাজনীতিক হিসেবে রামাফোসার গ্রহণযোগ্যতায় ঘাটতি পড়েনি। কারণ এএনসি ক্ষমতায় আসার আগে রামাফোসা তাঁর দলের সঙ্গে তৎকালীন ক্ষমতাসীন ন্যাশনাল পার্টির (এনপি) সমঝোতা স্থাপনে যে দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন, তাতে দলে এবং দলের বাইরে তিনি ব্যাপক প্রশংসা কুড়ান।

রাজনীতি ও ব্যবসায় অভিজ্ঞতা-দক্ষতা সত্ত্বেও রামাফোসার নেতৃত্ব বাধার মুখে পড়তে পারে বলে মনে করেন বিশ্লেষক মেরি লয়েড। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম এবিসির কর্মকর্তা লয়েডের মতে, ২০১২ সালে পুলিশের গুলিতে মারিকানা প্লাটিনাম খনির ৩৪ শ্রমিক নিহতের ঘটনায় তাঁর ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ এবং সে ঘটনা এখন সামনে আনা হলে তাঁর নেতৃত্ব নিয়ে বিতর্ক উঠবে। সে সময় ওই খনি পরিচালনার দায়িত্বে থাকা লোমিন কম্পানিতে রামাফোসা ছিলেন পরিচালকদের একজন। অভিযোগ রয়েছে, সাবেক শ্রমিক নেতা রামাফোসা ধর্মঘটরত শ্রমিকদের কর্মপরিবেশ উন্নত করার পক্ষে কথা বলার পরিবর্তে পুলিশের পক্ষ নিয়েছিলেন। এসংক্রান্ত বিতর্কের জেরে ব্যবসায়ী শ্রেণির সঙ্গে তাঁর সম্পর্কের প্রসঙ্গটিও এখন সামনে আসতে পারে বলে লয়েডের ধারণা। দক্ষিণ আফ্রিকার ব্যবসায়ী শ্রেণি মুনাফার স্বার্থে স্থানীয় প্রশাসনে ব্যাপক হস্তক্ষেপ করে বলে অভিযোগ রয়েছে।

গতকাল প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পর রামাফোসা অবশ্য পার্লামেন্টে প্রথম ভাষণে বলেছেন, ‘দুর্নীতির ব্যাপারে কী করা হবে, কিভাবে আমরা আমাদের রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানগুলোকে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেব এবং কিভাবে আমরা স্টেট ক্যাপচার (মুনাফার স্বার্থে রাষ্ট্রযন্ত্রে হস্তক্ষেপ) ইস্যু সামাল দেব, সে সবই আমাদের সর্বোচ্চ বিবেচ্য বিষয়। এসব ইস্যুর সমাধান করা হবে এবং আমরা যেসব পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছি, সেগুলো নিয়ে আগামী দিনে পরিকল্পনা করার সুযোগ আমাদের আছে।’ সূত্র : এবিসি, এএফপি।